রাত পোহালেই মহালয়া! দিনটি শুভ না অশুভ? জানুন এদিনের বিশেষ তাৎপর্য

রাত পোহালেই মহালয়া! দিনটি শুভ না অশুভ? জানুন এদিনের বিশেষ তাৎপর্য
রাত পোহালেই মহালয়া! দিনটি শুভ না অশুভ? জানুন এদিনের বিশেষ তাৎপর্য

আর মাত্র আজকের রাত। এই রাত পোহালেই আশ্বিনের শারদ প্রাতে বেজে উঠবে আলোর বেণু। অর্থাৎ আগামী ভোরেই মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসান হয়ে সূচনা দেবীপক্ষের। এই দিন পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করার রীতি রয়েছে। আবার মহালয়া শুভ না অশুভ তা নিয়েও নানা মত পার্থক্য রয়েছে। হিন্দু ধর্মে এই বিশেষ দিনটির গুরুত্বও অনেক।

মহালয়ার তাৎপর্য :
কথিত রয়েছে, মহালয়ার দিন অসুর ও দেবতাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। পুরাণ মতে, ব্রহ্মার বরে মহিষাসুর ছিলেন অমর। কেবল কোনও নারীশক্তির কাছে পরাজয় নিশ্চিত ছিল৷ অসুরদের অত্যাচারে যখন দেবতারা যখন কূল পাচ্ছেন না, সে সময় ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর নারীশক্তির সৃষ্টি করেন। তিনিই মহামায়ারূপী দেবী দুর্গা। তাঁর দশ হাতে উঠল দেবতাদের দেওয়া অস্ত্র। তা দিয়েই মহিষাসুরকে বধ করেন দেবী। তাই দুর্গা পুজো হল অশুভ শক্তির বিনাশ হয়ে শুভ শক্তির সূচনা৷

মহালয়ার দিন দেবীর চক্ষুদান হয়৷ মহালয়া শব্দটির অর্থ, মহান আলয় বা আশ্রম। আর দেবী দুর্গাই হলেন সেই মহান আলয়।

মহালয়ার দিনটি শুভ কেন?
মহালয়া থেকেই দেবীপক্ষের সূচনা। এদিন সব অশুভ শক্তির বিনাশ হয়। দুর্গাপুজো বয়ে আনে আনন্দ, আশা, শুভ চিন্তা। খুশিতে ভরে ওঠে মানুষের মন। তাই মহালয়া শুভ। এছাড়াও এদিন যেহেতু পিতৃপুরুষদের স্মরণ করা হয় তাই সেটি জগৎব্যাপী এক মহামিলনেরও ইঙ্গিত। তাই এদিনকে শুভ মানা হয়।

মহালয়ার দিনটি অশুভ কেন?
অন্যমতে, মহালয়ার দিনটিতে যেহেতু পিতৃ পুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করার রীতি রয়েছে তাই এদিন পিতৃপুরুষদের স্মরণ করা হয়। অনেকেই তাই মনে করেন এ দিনটি শোক পালনের দিন। তাই সেই অর্থে অশুভ না মানা হলেও শোকের দিন মানা হয় মহালয়ার দিনকে৷

মহালয়ার দিনক্ষণ :
এই বছর মহালয়া ৬ অক্টোবর (১৯ আশ্বিন), বুধবার। বিশুদ্ধ পঞ্জিকা মতে, মহালয়ার অমাবস্যা তিথি শুরু ৫ সেপ্টেম্বর (১৮ আশ্বিন), মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭.০৬ মিনিট থেকে। তা থাকবে ৬ সেপ্টেম্বর ( ১৯ আশ্বিন), বিকেল ৪.৩৫ মিনিট পর্যন্ত। অন্যদিকে, গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকা মতে, ৫ সেপ্টেম্বর (১৮ আশ্বিন) রাত ৬.৩২ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড থেকে মহালয়ার সূচনা। যা ৬ সেপ্টেম্বর (১৯ আশ্বিন) ৫.১০ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড পর্যন্ত থাকবে।