আবাসনের ছাদের দৃশ্যে আঁতকে উঠেছিলেন প্রতিবেশীরা! ছাদ থেকে উদ্ধার পরিচারিকার দেহ

আবাসনের ছাদের দৃশ্যে আঁতকে উঠেছিলেন প্রতিবেশীরা! ছাদ থেকে উদ্ধার পরিচারিকার দেহ
আবাসনের ছাদের দৃশ্যে আঁতকে উঠেছিলেন প্রতিবেশীরা! ছাদ থেকে উদ্ধার পরিচারিকার দেহ / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ একের পর এক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে কলকাতা শহরের বুকে। এরই মধ্যে গতকাল রাতে এক বেসরকারি আবাসনের ছাদ থেকে উদ্ধার হল এক মহিলার ঝুলন্ত দেহ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গড়ফার ১৪ নম্বর কালীতলা পার্ক লেনে।

সোমবার রাত সাড়ে ৮ টা নাগাদ আবাসনের ছাদে এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে দেহটি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাল স্থানীয় বাসিন্দারা। গড়ফা থানায় সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয়। মৃতার নাম রুমা ঘোষ।

জানা গিয়েছে, রুমা বিভিন্ন বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। সোমবার কালী তলা পার্ক লেনের বাড়িতে কাজের জন্য যান। লেকটাউনের আগে সেখানেই তিনি পরিচারিকার কাজ করতেন। পরে অবশ্য কাজ ছেড়ে দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ফের সেখানেই কাজ চাইতে যান ফ্ল্যাটের মালিক এইচ কে মালাকারের কাছে।

কিন্তু কাজে রাখতে চাননি মালিক। আর ঠিক তারপরেই ছাদ থেকে উদ্ধার হয় ওই মহিলার ঝুলন্ত দেহ। অন্যদিকে, মৃতার পরিবারের বক্তব্য, রুমা ওই ফ্ল্যাটের মালিকের থেকে চড়া সুদে ৫০ হাজার টাকা ধার হিসেবে নিয়েছিলেন। চড়া সুদে সেই টাকার অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১ লক্ষ টাকা।

ফ্ল্যাটের মালিক সেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছিলেন। এদিন তাঁকে কাজ দেওয়ার নাম করে ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ মৃতার পরিবারের তরফে। মৃতার পরিবার এই বিষয়ে লিখিত্র অভিযোগও দায়ের করেছে।

মৃতা রুমা ঘোষের স্বামীর বক্তব্য, ‘অনেকক্ষণ ধরে বাড়ি ফিরছিল না বলে চিন্তা হচ্ছিল। অনেক জায়গাতেই খোঁজ করছিলাম। তারপরই তো জানতে পারি এই ঘটনা। আমার বউ টাকা ধার করেছিল, এটা সত্যি। খেটে টাকাও জোগাড় করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু টাকা শোধ করতে পারছিলাম না। ওই বাড়ির কাজ থেকে বার করে গিয়েছিল। কেন আবার কাজে গেল? নাকি ওকে কেউ ডেকে নিয়ে গেল, বুঝতে পারছি না। আত্মহত্যা করার মতো কিছু তো ছিল না।’

এদিকে দেহটি আপাতত ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আবাসিকের অনান্য বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ। কথা বলা হচ্ছে মৃতার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। যদিও ফ্ল্যাটের মালিক এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই বিষয়টি বোঝা যাবে, খুন নাকি আত্মহত্যা। ফ্ল্যাটের মালিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। কেন ওই মহিলা টাকা ধার নিয়েছিলেন, কেনই বা এক জন পরিচারিকাকে এত টাকা ধার দিয়ে দিয়েছিলেন ফ্ল্যাটের মালিক, ওই মহিলা নিজেই ওই ফ্ল্যাটে কাজ চাইতে গিয়েছিলেন নাকি তাঁকে কাজ দেওয়ার টোপ দিয়ে ডাকা হয়েছিল, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।