শনিবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩

সরস্বতী পুজোতেও রাজনীতির ছায়া! থিম নিয়োগ কেলেঙ্কারি, পার্থ-অর্পিতাকে নিয়ে সেজে উঠেছে মণ্ডপ

আত্রেয়ী সেন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২৩, ১১:২৪ পিএম | আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০২৩, ১১:৩৭ পিএম

সরস্বতী পুজোতেও রাজনীতির ছায়া! থিম নিয়োগ কেলেঙ্কারি, পার্থ-অর্পিতাকে নিয়ে সেজে উঠেছে মণ্ডপ
সরস্বতী পুজোতেও রাজনীতির ছায়া! থিম নিয়োগ কেলেঙ্কারি, পার্থ-অর্পিতাকে নিয়ে সেজে উঠেছে মণ্ডপ

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ এবার বঙ্গের সরস্বতী পুজোতেও রাজনীতির ছায়া। বাগদেবীর আরাধনাতেও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কাঁকুড়গাছির একটি মণ্ডপের থিম নিয়ে যাবতীয় তর্ক-বিতর্কের সূত্রপাত। কিন্তু কেন? সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গ রাজনীতিতে সবথেকে আলোচিত বিষয় শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি। আর কাঁকুড়গাছির ওই মণ্ডপে এবারের সরস্বতী পুজোর থিমেও ধরা দিয়েছে এই নিয়োগ দুর্নীতি।

বিগত কয়েক মাস ধরেই রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল এই নিয়োগ দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে। যার রেশ এখনও বর্তমান। একদিকে, দীর্ঘদিন ধরে রোদ, ঝড়-জল উপেক্ষা করে দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে ধরনা মঞ্চে বসে চাকরিপ্রার্থীরা। আর অপরদিকে, টাকার বিনিময়ে একাধিক অযোগ্য ব্যক্তি পাশ না করার পরেও সরকারি চাকরি পেয়ে গিয়েছেন। কলকাতা হাইকোর্টে এই নিয়ে মামলাও চলছে। তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় দুই গোয়েন্দা সংস্থা ইডি এবং সিবিআই।

আর এবার সেই ছবিই থিম ভাবনার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কলকাতার কাঁকুড়গাছি এলাকা একটি মণ্ডপে। এবারে তাঁদের সরস্বতী পুজোর থিম হল ‘বঙ্গে বিক্রি বিদ্যা’। আর সেখানেই দেখা যাচ্ছে টাকার পাহাড়ের সামনে দাঁড়িয়ে নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত এবং বর্তমানে জেলবন্দী প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং পার্থ ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। পার্থ-অর্পিতার সামনে ৫০০ ও ২হাজার টাকার অনেক নোট। ঠিক যেমনটা ইডি-র তল্লাশির সময় দেখা গিয়েছিল।

এই পুজো প্যান্ডেলে দেখানো হবে, দাঁড়িপাল্লায় রাখা রয়েছে সরস্বতীর মূর্তি এবং টাকা। অর্থের ভারে একদিকে হেলে গিয়েছেন বিদ্যার দেবী সরস্বতী। খাঁচায় বন্দি রাখা রয়েছে বইপত্র এবং মা সরস্বতীকে। যার মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, এ রাজ্যে শিক্ষাকে বন্দি রেখেই অর্থের বিনিময় অযোগ্য প্রার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে আগামীর ভবিষ্যৎ।  

এখানেই শেষ নয়, থিমের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন ও তাঁদের দাবিদাওয়াও তুলে ধরা হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের মডেল তৈরি করে তাঁদের হাতে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন দাবি দেওয়া লেখা প্ল্যাকার্ড। উল্লেখ্য, এই সরস্বতী পুজোর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ সরকার। সেই অভিজিৎ যাঁকে ভোট পরবর্তী হিংসায় মরতে হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে পরিবার। এ বছর ১৭ তম বর্ষে এই থিমের আয়োজনে রয়েছেন অভিজিতের দাদা বিশ্বজিৎ। বৃহস্পতিবার রয়েছে সরস্বতী পুজো। তার আগে আজ পুজোর উদ্বোধন হল। আমন্ত্রণ জানানো হয় ধর্মতলার ধরনামঞ্চে থাকা চাকরিপ্রার্থীদের।

পুজো উদ্যোক্তা বিশ্বজিৎ সরকার জানিয়েছেন, রাজ্যের অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি বিষয়কে মানুষের সামনে তুলে ধরার প্রয়াস করা হয়েছে। বাংলায় কীভাবে বিদ্যা নিয়ে খেলা চলছে, সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে রাজ্যবাসীকে দেখাতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, ‘আমরা রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিটা দেখাতে চেয়েছি। তবে এটাও জানি, সরকারের বিরুদ্ধে এমন একটা পদক্ষেপ করলে পালটাও আসতে পারে।’ তিনি আরও জানান, এই পুজোর উদ্বোধন হবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাতে। তবে, রাজ্যের শাসকদল এই থিম নিয়ে একেবারেই খুশি নয়। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে সরস্বতী পুজো নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।