এর পরেও সতর্ক না হলে, এই রাজ্যজুড়ে জারি হতে পারে লকডাউন! রইল বিস্তারিত

এর পরেও সতর্ক না হলে, এই রাজ্যজুড়ে জারি হতে পারে লকডাউন! রইল বিস্তারিত
এর পরেও সতর্ক না হলে, এই রাজ্যজুড়ে জারি হতে পারে লকডাউন! রইল বিস্তারিত / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশব্যাপী চলছে দ্বিতীয় পর্যায়ের করোনা টিকা করণ প্রক্রিয়া। করোনা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ফের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করেছে। ক্রমশ বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি রাজ্যে বর্তমান করোনা পরিস্থিতি কেন্দ্রের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি যে মুহূর্তে ঠিক হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়, মানুষের করোনা বিধিনিষেধ মানায় ঢিলেমি দিতেও পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করেছে বলেই বিশেষজ্ঞদের মত।

এদিকে এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর, প্রশাসনের তরফে সতর্কবার্তা দিলেও পরিস্থিতির তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। যত দিন যাচ্ছে, ক্রমশ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এই আবহে মহারাষ্ট্রের উদ্বেগজনক করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই সরকারি তরফে বিবৃতি জারি করে ১৫ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত নাগপুরে সম্পূর্ণ লকডাউনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশব্যাপী লকডাউনে সরকার যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, এখানেও সেই নির্দেশ বলবৎ থাকবে।

তবে, ক্রমশ উদ্বেগের এবং ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে পরিসংখ্যান। এক বছর আগের মহামারীর স্মৃতিতে ফের কাঁপছে মহারাষ্ট্র। কিন্তু এর পরেও যদি মানুষ সাবধান এবং সতর্ক না হয়, সেক্ষেত্রে রাজ্যজুড়ে ফের জারি করা হতে পারে লকডাউন। নাগপুরে লকডাউন ঘোষণার পর, এমনটাই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। কারণ মহারাষ্ট্রে এই মুহূর্তে যেভাবে করোনার প্রকোপ বাড়ছে, তাতে আবার লকডাউনের ভাবনাচিন্তা পুরোপুরি অস্বীকার করা যাচ্ছে না বলেই তিনি জানিয়েছেন। উদ্ধব ঠাকরে জানিয়েছেন যে, মহারাষ্ট্রের আরও বেশ কিছু জায়গায় ক্রমশ বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। তাই সাধারণ মানুষ যদি এখনও এ ব্যাপারে সচেতন না হন, তাহলে রাজ্যব্যাপী লকডাউনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সেকথাই স্পষ্ট জানিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে৷

উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত মহারাষ্ট্রের মত ২২৫২০৫৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷ শুধুমাত্র মুম্বইয়ে এক সপ্তাহে ১০০০জনের করোনা সংক্রমণের খবর মিলছে৷ হু হু করে বাড়ছে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর সংখ্যাও। তারপরেও কোনও সচেতনতা নজরে আসছে না বলেই দাবি প্রশাসনের। তাঁদের বক্তব্য যে, এখনও যদি করোনা বিধিনিষেধ খুব নিয়ম করে, কড়াভাবে মানা না হয়, তাহলে রাজ্যব্যাপী লকডাউন ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না৷ কিন্তু যদি সব রকম নিয়ম মেনে চললে, এমন পদক্ষেপ নিতে হবে না বলেই মনে করছে প্রশাসন৷

ইতিমধ্যেই নাগপুরে ১৫ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত লকডাউনের ঘোষণা করা হয়েছে৷ গত মাস থেকেই সেখানে করোনার বাড়বাড়ন্ত চলছে৷ লকডাউনের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জানানো হয় যে, বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে৷ সরকারি অফিসে ২৫ শতাংশ উপস্থিতি থাকবে৷ জরুরি পরিষেবা এবং মুদি দোকানগুলি খোলা থাকবে৷ তবে মদ বিক্রি হবে শুধুমাত্র অনলাইনে৷

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবারেই নতুন করে নাগপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৭১০ জন। এই রিপোর্ট সামনে আসতেই, বিবৃতি প্রকাশ করে লকডাউনের নির্দেশ জারি করা হয় প্রশাসনের তরফে। বিবৃতিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে যে, ১৫ মার্চ থেকে নাগপুরে শুধুমাত্র অত্যাবশকীয় পরিষেবায় চালু থাকবে। শেষ একমাসে মহারাষ্ট্রে করোনা আক্রান্তের বাড়বাড়ন্ত দেখেই, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.