বাংলায় কোনভাবেই সিএএ কার্যকর করতে দেওয়া হবে না, অমিত শাহকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ মমতার

বাংলায় কোনভাবেই সিএএ কার্যকর করতে দেওয়া হবে না, অমিত শাহকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ মমতার
বাংলায় কোনভাবেই সিএএ কার্যকর করতে দেওয়া হবে না, অমিত শাহকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ মমতার / ছবি সৌজন্যে- Posted on Facebook By @MamataBanerjeeOfficial

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বৃহস্পতিবার ঠাকুরনগরে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ ঘোষণা করে যান যে, করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হলেই, সিএএ কার্যকর করা হবে। নাগরিকত্ব পাবেন মতুয়া শরণার্থীরা৷ উল্লেখ্য, রাজ্যে কবে কার্যকর হবে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন? এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তরের অপেক্ষায় ছিলেন রাজ্যের মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষই। বৃহস্পতিবার ঠাকুরনগরের জনসভা থেকে যার উত্তর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

আসলে বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ৩০ টি আসনে মতুয়া ভোট একটা বড় বিষয়। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে এই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েই, মতুয়া সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায় করেছিল বিজেপি। আর সেটা বুঝতে পেরেই বৃহস্পতিবার ঠাকুরনগরের জনসভা থেকে সিএএ কার্যকর করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের বিপক্ষে কলকাতার বুকে দাঁড়িয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের একবার স্পষ্ট ভাষায় বললেন, রাজ্যে কোনও ভাবেই সিএএ, এনআরসি কার্যকর করতে দেওয়া হবে না। এর পাশাপাশি তিনি বলেন যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজ্যে এসে হুমকি দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার কলকাতার আলিপুরে একটি সভায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সভা থেকেই তিনি সিএএ নিয়ে কথা বলে। মুখ্যমন্ত্রী সিএএ নিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে। কটাক্ষের সুরেই সিএএ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্লাটা আক্রমণ করেন তিনি৷ তিনি বলেন, ‘এই ক্যা আর এনআরসি নিয়ে আজকে আবার ক্যা কো করতে এসেছে৷ ক্যা কো এখানে করে বেরাও, ট্যা ফো এখানে করা যাবে না৷’

উল্লেখ্য শুধু সিএএ নয়, এদিন মতুয়া সমাজের জন্য একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি ঘোষণা করেছেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে, ‘মুখ্যমন্ত্রী শরণার্থী সমাজ’ তৈরি করা হবে। মতুয়াদের দলপতিদের পেনশনের ব্যবস্থা করা হবে। গুরুচাঁদ-হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরের পরিকাঠামোগত উন্নতি করা হবে। ঠাকুরনগর রেল স্টেশনের নাম শ্রীধাম ঠাকুরনগর রেল স্টেশন রাখতে আগ্রহী তাঁরা, সেকথাও তিনি উল্লেখ্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, মমতার সরকার তাঁদের সেই প্রস্তাবে সায় দেয়নি। বাংলায় বিজেপি সরকার এলে, এক সপ্তাহের মধ্যে ঠাকুরনগর রেল স্টেশনের নাম বদলে দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও তিনি ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে অমিত শাহ বৃহস্পতিবারের সভা থেকে ফের বারবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন। অমিত শাহ এদিনের সভায় ফের একবার ‘ভাইপো’ ইস্যুতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিদ্ধ করেন। তিনি বলেন যে, দেশের প্রধানমন্ত্রী ক্রমাগত চেষ্টা করে যাচ্ছেন যে, দেশের গরিব মানুষের বিকাশ কীভাবে সম্ভব তা্র। আর বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্রমাগত চেষ্টা করছেন, কীভাবে ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী বানাবেন। এই মন্তব্যের আবার পাল্টা জবাবও অবশ্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষের সুরে প্রশ্ন তোলেন যে, অমিত শাহের ছেলের এত টাকা কীভাবে হল?

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.