বাজেটে বড়সড় ঘোষণা মমতার সরকারের! পেট্রোপণ্যে কর ছাড়ের পাশাপাশি, মুকুব রোড ট্যাক্স!

বাজেটে বড়সড় ঘোষণা মমতার সরকারের! পেট্রোপণ্যে কর ছাড়ের পাশাপাশি, মুকুব রোড ট্যাক্স!
বাজেটে বড়সড় ঘোষণা মমতার সরকারের! পেট্রোপণ্যে কর ছাড়ের পাশাপাশি, মুকুব রোড ট্যাক্স!

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বর্তমানে দেশে পেট্রোল, ডিজেলের দাম বেড়েই চলেছে। পেট্রোলের, ডিজেলের দাম আকাশ ছোঁয়া। প্রতিদিন বাড়ছে জ্বালানির দাম। গতকাল রাতেই ফের বেড়েছে পেট্রোলের দাম ৩৯ পয়সা। যার জেরে কলকাতায় এখন পেট্রোলের দাম ১০০ পেরিয়েছে।

আজ বাজেট ঘোষণা করতে গিয়ে, সাংবাদিক বৈঠকে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে ফের আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে, পেট্রোল পাম্প মালিকরা চাইছিলেন, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার উভয়ে একত্রিত হয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করুক। এবার তাই সেই উদ্দেশ্যে এক পা বাড়িয়েছে রাজ্য সরকার। বাস মালিকদের কথা মাথায় রেখে, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুকুব করা হল রোড ট্যাক্স। শুধু তাই নয়, পেট্রোলসহ জ্বালানির উপরেও দেওয়া হলো কর ছাড়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এটাই প্রথমবার নয়, এর আগেও পেট্রোল, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির জেরে সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় ১ টাকা কর কমিয়ে নিয়েছিল রাজ্য। যদিও সেভাবে বিরাট কোনও উপকার হয়নি জনসাধারণের। একুশের নির্বাচনের সময় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিরোধীদের বড় অস্ত্র ছিল জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। যা নিয়ে তাঁরা সরবও হয়েছিলেন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। সেই কারণে ভোটের মুখে কিছুটা দাম কমিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু ভোট মিটতেই তা ফের বেড়ে যায়।

এদিকে, রাজ্য সরকার কর কমিয়ে নেওয়ার পরেও লাভ হয়নি কারণ, কারণ রাজ্য সরকার এক টাকা ছাড় দিলেও, পরের দিনই দাম বাড়িয়েছে তেল সংস্থাগুলি। এই নিয়ে গত মে মাসে থেকে পেট্রোলের দাম বাড়লো ৩৬ বার। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম বাড়ল প্রায় ৩৪ বার। যার জেরে এই মুহূর্তে ১ লিটার পেট্রোলের দাম কলকাতায় ১০২.২৩ টাকা। অন্যদিকে লিটার প্রতি ডিজেলের দাম ৯২.৫০ টাকা।

এ বিষয়ে কেন্দ্রকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘সপ্তাহে চার বার করে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ছে। ৩ লক্ষ ৭১ হাজার কোটি টাকা বাংলা থেকেই রোজগার হয়েছে কেন্দ্রের। নরেন্দ্র মোদি সরকার মানুষের পকেট কাটছে। নিজেদের পকেট ভরছে। বাসে-ট্রেনে চড়বেন কী ভাবে মানুষ? কৃষক চাষ করবেন কীভাবে?’

এদিন পেট্রোল-ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সিঙ্গুর থেকে সাইকেল চালিয়ে বিধানসভায় এসে প্রতিবাদ জানান বিধায়ক বেচারাম মান্নাও। তবে, কেন্দ্র সরকার অন্য কথা বলছে এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে। কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে আগেই জানানো হয়েছে, পেট্রোপণ্যে জিএসটি লাগু করতে দিচ্ছে না রাজ্যসরকার। যার ফলেই দ্রুত গতিতে করে দাম বাড়ছে। এখন দুই তরফের তর্কবিতর্কে রোজই সমস্যা বাড়ছে সাধারণ মানুষের।

এবার বাস মালিক এবং সাধারণ মানুষের কথা ভেবে, কিছুটা যে এগিয়ে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। পেট্রোপণ্যে কর ছাড়ের পাশাপাশি, যেহেতু করোনা পরিস্থিতিতে লোকসান করে বাস চালাতে রাজি হচ্ছিল না বেসরকারি বাসের মালিকরা, তাই ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রোড ট্যাক্স সম্পূর্ণ মুকুব করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।