‘এক সেকেন্ডও বলতে দেয়নি’, প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে ক্ষোভ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

‘এক সেকেন্ডও বলতে দেয়নি’, প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে ক্ষোভ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর
‘এক সেকেন্ডও বলতে দেয়নি’, প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে ক্ষোভ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ আজ দেশের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে ১০ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই ভার্চুয়াল বৈঠকে হাজির ছিলেন বেশকিছু রাজ্যের জেলাশাসকেরাও। ভার্চুয়ালি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানেই তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আজকের বৈঠক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বৈঠক শেষে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বৈঠক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, ‘আমাদের কাউকে বলতে দেয়নি।’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকের পর সেই মিটিংকে ‘ক্যাজুয়াল। সুপারফ্লপ মিটিং’ বলে কটাক্ষ করলেন। করোনা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিকবার নানা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কখনও ভ্যাকসিনের দামে কেন্দ্র ও রাজ্যে মধ্যে তৈরি হওয়া পার্থক্য, কখনও অক্সিজেন সিলিন্ডার, কনসেনট্রেটর চেয়ে, আবার কখনও করোনার ওষুধে জিএসটি প্রত্যাহারের দাবি ইত্যাদিতে। কিন্তু একবার বৈঠক হয়নি। উল্লেখ্য, বাংলায় বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর এই প্রথম মুখোমুখি আলোচনায় বসলেন মোদী-মমতা।

এই ভার্চুয়াল বৈঠক প্রসঙ্গে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘আমাদের সব নথি তৈরি ছিল, কিন্তু কিছুই বলতে দেওয়া হয়নি। আমরা লজ্জিত। মুখ্যমন্ত্রীরা অপমানিত বোধ করছেন।’ তাঁর আরও অভিযোগ, ‘বৈঠকে শুধুমাত্র পছন্দের জেলাশাসক এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের কথা বলতে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের পুতুলের মতো বসিয়ে রাখা হয়েছিল। উনি কী বলতে চাইলেন, তা বোঝা গেল না। প্রধানমন্ত্রী কেন এতো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন? ক্যাজুয়াল, সুপারফ্লপ মিটিং’।

ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, ‘বাংলার জন্য ভ্যাকসিন চাইব ভেবেছিলাম। ভোটের আগে টিকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখন টিকা পাচ্ছি না কেন? এতদিনে মাত্র ১ কোটি ২০ লক্ষ ভ্যাকসিন পেয়েছি। আমাদের ১০ কোটি ভ্যাকসিন দরকার। আমরা দাম দিয়েই ভ্যাকসিন কিনব।’ আরও বলেন যে, অক্সিজেন চাওয়া হলেও, দেওয়া হয়নি। ‘প্রধানমন্ত্রী মুখ লুকিয়ে কেন পালিয়ে গেলেন? নদীতে মৃতদেহ ভাসছে কেন? আমরা জানতে চাই।’

এদিকে, ইতিমধ্যেই ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারী ঘোষণা করেছে রাজস্থানও। এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা কালো ছত্রাক প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন যে, ‘কোথা থেকে একটা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস এসেছে। ইতিমধ্যে রাজস্থান একে মহামারী ঘোষণা করেছে। আমাদের রাজ্যে চারজনের দেহে এই রোগের হদিশ মিলেছে। এগুলো নিয়ে কথা বলার দরকার ছিল।’ তবে, মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ এসব সম্পর্কে কোনও কথাই বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, এদিন সকালেই রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর জানিয়েছে, রাজ্যের ৬ জনের দেহে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের অস্তিত্ব মিলেছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই কালো ছত্রাক সম্পর্কে আরও অভিযোগ করে বলেন যে, এই ছত্রাকের সংক্রমণ হলে, যে ওষুধ দেওয়া হবে, তা পাওয়া যাচ্ছে না। এগুলি কেন্দ্রের ভাণ্ডারে থাকে। মুখ্যমন্ত্রীর মনে করছেন যে, কেন্দ্রের এই ভূমিকা করোনা পরিস্থিতি আরও জটিল এবং সংকটময় করে তুলেছে।

প্রসঙ্গত, প্রথমে রাজ্যের ৯টি জেলার জেলাশাসক ও স্বাস্থ্য অধিকর্তাদের সঙ্গেই বৈঠক করতে চেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বাদ কেন? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এরপরই সিদ্ধান্ত বদল করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।