‘পুজোর সময় ১৫ দিন আগে থেকে আমার সঙ্গে ঝগড়া করতেন সুব্রতদা’, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

‘পুজোর সময় ১৫ দিন আগে থেকে আমার সঙ্গে ঝগড়া করতেন সুব্রতদা’, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
‘পুজোর সময় ১৫ দিন আগে থেকে আমার সঙ্গে ঝগড়া করতেন সুব্রতদা’, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে অসুস্থ হয়ে ভর্তি থাকার পর, প্রয়াত হন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তিনি শুধু যে রাজ্যের মন্ত্রীই ছিলেন, তাই নয়, রাজ্য রাজনীতির পরিসরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বহুদিনের। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতভেদের কারণে দু’জনের পথ আলাদা হয়ে গেলেও, পরে আবার তাঁরা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একসঙ্গে হাঁটা শুরু করেন। তাই সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আজ বিশ্ববাংলা শারদসম্মান পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে বারবার তাই সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু রাজনৈতিক নেতা কিংবা মন্ত্রীই নন, শহরের অন্যতম বড় পুজো একডালিয়া এভারগ্রিনের উদ্যোক্তাও ছিলেন তিনি। তাই এদিনের অনুষ্ঠানে শহরের পুজো উদ্যোক্তাদের মাঝে দাঁড়িয়ে মমতা বললেন, ‘আজ সুব্রত দা-কে সবথেকে বেশি মিস করছি।’

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানে আর কেউ আসুক না আসুক সুব্রতদা সবসময় আসতেন। সুব্রত দার মৃত্যুর খবর শুনে আমার প্রথমেই মনে হয়েছে, এবার এভারগ্রিন কার হাতে। চিরকাল যিনি এভারগ্রিন, তিনি আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেলেন।’ এদিন স্মৃতির পাতা উল্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পুজোর পনেরদিন আগে থেকে আমার সঙ্গে ঝগড়া করত প্রায়। কিরে কবে দিবি ডেট? তোকে কিন্তু স্তোত্রটা একবার বলতে হবে। আমি মাঝে মাঝে বলতাম, সুব্রতদা আপনি তো থিম করেন না। সুব্রতদা বলতেন, আমি থিম করি না রে, আমি সাবেকি পুজো করি। জন্মালে মরতে হবে, একথা ঠিক। তবে সুব্রতদার এখনও যাওয়ার সময় হয়নি। ভালো থাকতে থাকতে হঠাৎ করে চলে গেলেন। এই শোকটা আমরা মেনে নিতে পারছি না।’

বৃহস্পতিবার সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর শুনেই বাড়ির কালীপুজো ছেড়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। সেখান থেকে বেরিয়েই বলেছিলেন, সুব্রত দা-র মৃতদেহ তাঁর পক্ষে দেখা সম্ভব নয়। তাই বাড়ি চলে যান তিনি। শেষ যাত্রাতেও যেতে পারেনি। সারাদিন অন্তরালে থেকে গোটা প্রক্রিয়ার দেখাশোনা করেন তিনি।

এদিকে, আজ বিধানসভায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণাতেও যোগ দিতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘সুব্রতদা’র স্মৃতিচারণায় অংশ নেননি শোকাতুর ‘বোন’ মমতা। তবে, আজ বিধানসভায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণাতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়তে দেখা গিয়েছে সহযোদ্ধা পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমদের। স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেদনাহত। তিনি আজও আসতে পারেননি।’ পরে ওই অনুষ্ঠানে গিয়ে স্মৃতিচারণা করলেন মমতা।