হুইলচেয়ার ছেড়ে, ভাঙা পা নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী! গাইলেন জাতীয় সংগীত

হুইলচেয়ার ছেড়ে, ভাঙা পা নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী! গাইলেন জাতীয় সংগীত
হুইলচেয়ার ছেড়ে, ভাঙা পা নিয়ে উঠে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী! গাইলেন জাতীয় সংগীত

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে, শেষবেলার প্রচারে নন্দীগ্রামের টেঙ্গুয়ার জনসভায় মঙ্গলবারের পড়ন্ত বিকেলে, এক অন্য দৃশ্যের সাক্ষী থাকল উপস্থিত সকলেই। হুইলচেয়ার ছেড়ে, ভাঙা পা নিয়েই উঠে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত গাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, আগামী ১ এপ্রিল নন্দীগ্রামে ভোট রয়েছে।

গত ১০ মার্চ নন্দীগ্রামে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর, নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে পায়ে আঘাত পান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘটনা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে এ পর্যন্ত বহু তর্ক-বিতর্ক, অভিযোগ উঠেছে। আর এই ঘটনার পর থেকেই হুইলচেয়ারে করেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আঘাত গুরুতর হলেও, থেমে থাকেননি তিনি।

যে নন্দীগ্রামে আঘাত পেয়েছিলেন, এবার সেই নন্দীগ্রামের টেঙ্গুয়ার জনসভায় জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য হুইলচেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তবে ভাঙা পা নিয়ে, নিজে উঠে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি তাঁর পক্ষে। নিজের নিরাপত্তারক্ষী এবং দলীয় সহকর্মীদের সাহায্যেই কোনওমতে উঠে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

এদিনের শেষ বেলার প্রচারে নির্বাচনী প্রচারে ঝড় তোলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে যখন আজ নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দুর হয়ে প্রচার ও রোড শো করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, তখন হুইলচেয়ারে করেই প্রথমে ভাঙাবেড়া থেকে সোনাচূ়ড়া পর্যন্ত প্রথমে রোড শো করেন তৃণমূলনেত্রী৷ এরপর পরপর তিনটি জনসভা করেন তিনি।

এই টেঙ্গুয়ার জনসভাতেই জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় উঠে দাঁড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ শেষ হওয়ার পর, জাতীয় সংগীত গাওয়ার কথা ছিল। তাই দলীয় নেতারা তাঁকে চলে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু তাঁদের সেই কথায় রাজি হননি মমতা। তিনি জানিয়ে দেন যে, তিনি উঠে দাঁড়াবটিন নেত্রীর কথা অমান্য করেননি কেউ।

এরপর সুব্রত বক্সী, দোলা সেন এবং নিরাপত্তা রক্ষী সাহায্যে এক পায়ে ভর দিয়েই তিনি উঠে দাঁড়ান। নন্দী গ্রামে চোট পাওয়ার পর, এই প্রথম তাঁকে বাংলার মানুষ উঠে দাঁড়াতে দেখল। তাঁকে ধরে রাখতে গেলে তিনি বলেন যে, ‘হাত জোড় কর, আমাকে ধরতে হবে না। আমি ঠেসান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। পড়ব না।’ গাইলেন জাতীয় সঙ্গীত। আর তাঁর সঙ্গে গলা মেলালেন দলীয় নেতা-কর্মী ও উপস্থিত সকলেই।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, তৃণমূল নেত্রীর পায়ের আঘাত নিয়ে বিরোধীরা শুরু থেকেই কটাক্ষ করেছেন। সবটাই নাটক বলে কতাকক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। সোমবারও মমতার পায়ের চোট কতোটা সাংঘাতিক তা নিয়ে ফের প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও তৃণমূল নেত্রী বহুবার বলেছেন যে, তিনি পায়ের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন ভালোই। কিন্তু বাংলার মানুষের স্বার্থে তিনি সেই ব্যথা নিয়েই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর এদিন তিনি সেই ভাঙা পা নিয়েই দেশভক্তির পাঠ পড়ালেন।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.