রাজ্য মন্ত্রিসভায় কি রদবদল হতে চলেছে! জল্পনা তুঙ্গে

রাজ্য মন্ত্রিসভায় কি রদবদল হতে চলেছে! জল্পনা তুঙ্গে
রাজ্য মন্ত্রিসভায় কি রদবদল হতে চলেছে! জল্পনা তুঙ্গে

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ সম্প্রতি রাজ্যের উপনির্বাচনেও তৃণমূলের জয়জয়কার। বাকি যে চার বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন সম্প্রতি সমাপ্ত হয়েছে, সেখানেও বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে। বিরোধীদের ৪-০ ফলে কার্যত ধূলিসাৎ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। রেকর্ড মার্জিনে জিতেছে দিনহাটা এবং গোসাবার তৃণমূল প্রার্থী। এরপর রাজ্যের মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভবনা তৈরি হয়েছিল।

এদিকে, এরই মধ্যে আবার ৪ নভেম্বর, কালীপুজোর রাতে রাজ্যের প্রবীণ মন্ত্রী ও শাসকদলের বর্ষীয়ান নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর মন্ত্রিসভায় খুব শীঘ্র রদবদলের সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। নবান্ন সূত্রে এবং তৃণমূল সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে।

তৃণমূল সূত্রে ইঙ্গিত, কাল মঙ্গলবার এই রদবদলের সম্ভবনা বেশি। কারণ বিধায়ক না হলেও, রাজ্য মন্ত্রিসভার একজন সদস্য হিসেবে অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের ছ’মাসের মেয়াদ আগামিকাল মঙ্গলবারই শেষ হচ্ছে। উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি অমিত মিত্র। সেক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী, বিধায়ক না হয়েও কেউ মন্ত্রী হলে তাঁকে ছ’মাসের মধ্যে কোনও বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হয়। কিন্তু এই ছ’মাসের মধ্যে অমিত মিত্র কোনও কেন্দ্র থেকেই ভোটে দাঁড়াননি। সূত্রের খবর, অর্থমন্ত্রী না থাকলেও, অর্থ দফতরের উপদেষ্টা হিসেবে অমিত মিত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

আগামিকাল, মঙ্গলবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছে। উপনির্বাচনে জিতে আসা তৃণমূলের চার বিধায়কও মঙ্গলবার বিধানসভায় শপথ নেবেন। উপনির্বাচনে বিজয়ী চারজনকে এবারও রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় বিধানসভায় শপথ বাক্য পাঠ করাবেন বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। সূত্রের খবর, এই ব্যাপারে রাজ্যপালকে এই বিষয়ে চিঠি দেওয়া হলেও, রবিবার সন্ধে পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও উত্তর মেলেনি।

এখন প্রশ্ন উঠছে অর্থমন্ত্রী হিসেবে অমিত মিত্রের জায়গায় কে আসবেন? এর পাশাপাশি প্রয়াত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের হাতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দফতর ছিল। পঞ্চায়েত ও গ্রামান্নোয়ন, শিল্প পুনর্গঠন ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, ক্রেতা সুরক্ষা ও স্বনির্ভর গোষ্ঠী। উল্লেখ্য, এর মধ্যে প্রথম দুটি দফতর আগে থেকেই সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের হাতে ছিল। আর ক্রেতা সুরক্ষা ও স্বনির্ভর গোষ্ঠী দফতরের মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের গুরুতর অসুস্থতার পর ওই দুই দফতরের বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সুব্রত মুখপাধ্যায়কে। এদিকে, রুগ্ন বজবজ ন্যাশনাল জুট মিলকে পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন করিয়েছিলেন সুব্রত। যা বর্তমানে রূপায়ণের পথে। ফলে এই পরিস্থিতিতে এই দফতরগুলির দায়িত্ব কাকে দেওয়া হয়, সেটাই এখন দেখার।