আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে গণ-টিকাকরণ চায় রাজ্য সরকার, মমতার চিঠি মোদীকে

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে গণ-টিকাকরণ চায় রাজ্য সরকার, মমতার চিঠি মোদীকে
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে গণ-টিকাকরণ চায় রাজ্য সরকার, মমতার চিঠি মোদীকে

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ নির্বাচনের আগেই রাজ্যজুড়ে গণ-টিকাকরণের কাজ শুরু করতে চায় রাজ্য সরকার। সেই কারণেই বিপুল সংখ্যক ভ্যাকসিন কিনতে চায় রাজ্য। উল্লেখ্য, ভোটের আগে রাজ্যে বিনামূল্যে গণ-টিকাকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার সেই বিষয়েই চিঠি লিখে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমান সময়ে নতুন করে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তিত রাজ্য সরকার, তাই স্বভাবতই ভোটের আগে বাংলার সকল নাগরিকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যেহেতু রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে, তাই সবার আগে রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মী এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অবিলম্বে টিকা দেওয়া প্রয়োজন।

আর যেহেতু ভোট দিতে অসংখ্য মানুষ বুথে যাবেন, তাই তার আগে যত বেশি সংখ্যক সম্ভব মানুষকে করোনা টিকা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সকল মানুষের মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী অনুরোধ জানিয়েছেন যে, গণ-টিকাকরণের কাজ শুরু করার জন্য রাজ্য সরকার বিপুল সংখ্যক ভ্যাকসিন কিনতে চায়৷ তাই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে যাতে রাজ্য সরকার ভ্যাকসিন কিনতে পারে, সেই বিষয়টি দেখার জন্যও প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জানুয়ারি থেকেই দেশব্যাপী ধাপে ধাপে টিকাকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে করোনা টিকা দেওয়া হচ্ছে সামনের সারির করোনা যোদ্ধাদের। দ্বিতীয় ধাপে ১ মার্চ থেকে দেওয়া হবে করোনা টিকা। আজ তেমনটাই ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভেরেকর ঘোষণা করেছেন, ১ মার্চ থেকে করোনার দ্বিতীয় দফার টিকাকরণ শুরু হচ্ছে। ১০ হাজার সরকারি এবং ২০ হাজার বেসরকারি হাসপাতালের মাধ্যমে দেওয়া হবে এই করোনার টিকা। সরকারি ক্ষেত্রে এই টিকা পাওয়া যাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে, বেসরকারি ক্ষেত্র থেকে এই টিকা নিতে গেলে, দিতে হবে টাকা। সেই হার আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ঠিক করে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাভেরেকর জানিয়েছেন যে, এই পর্যায়ে টিকা পাবেন ষাটোর্ধ্ব এবং ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে থাকা ব্যক্তিরা, যাঁদের কো-মর্বিডিটি রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে, রাজ্য সরকার ভোটের আগে করোনা টিকা কিনতে চায়। রাজ্যের সকল মানুষকে টিকা দেওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে সেকথাই উল্লেখ্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
কেন্দ্রের নয়া ঘোষণা এবং ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর টিকা কিনতে চাওয়া নতুন ইস্যু হয়ে দাঁড়াল। এমনিতেই এর আগে বহুবার করোনা টিকা নিয়ে সাফল্যের প্রচার করেছে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সভায় সেকথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। এবার মুখ্যমন্ত্রীর চিঠি তাতে আলাদা মাত্রা যোগ করল, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই। বরং এই চিঠি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.