বছর ৪০ এর পুরনো গাছ কাটার শাস্তিস্বরূপ এক ব্যক্তিকে দিতে হল মোটা টাকা জরিমানা!

বছর ৪০ এর পুরনো গাছ কাটার শাস্তিস্বরূপ এক ব্যক্তিকে দিতে হল মোটা টাকা জরিমানা!
বছর ৪০ এর পুরনো গাছ কাটার শাস্তিস্বরূপ এক ব্যক্তিকে দিতে হল মোটা টাকা জরিমানা! / ছবি সৌজন্যেঃ Jarmoluk

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ ৪০ বছরের পুরনো গাছ কেটে ফেলেছিলেন। আর এই কাজের শাস্তিস্বরূপ এক ব্যক্তিকে দিতে হল ৬২ হাজার টাকা জরিমানা। এই ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদের সাইদাবাদ এলাকায়।

জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির বাড়ির গা লাগোয়া জমিতে ছিল একটি ৪০ বছরের পুরনো নিম গাছ। নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে ওই গাছটি অসুবিধার সৃষ্টি করছিল। কোনভাবেই ওই ব্যক্তি নিজের পছন্দের ডিজাইনের বাড়ি বানাতে পারছিলেন না, ওই গাছটির জন্য। তাই তিনি শেষে সিদ্ধান্ত নেন, গাছটি কেটে ফেলতে হবে স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণ করার জন্য। যেমন ভাবা তেমন কাজ। রাতারাতি ওই ব্যক্তি দীর্ঘ ৪০ বছরের পুরনো ওই নিম গাছটিকে কেটে ফেলেন। এখানেই শেষ নয়, প্রমাণ লোপাটের জন্য তিনি গাছের পাতা থেকে ডালপালা সব পুড়িয়ে ফেলেন। তবে, এত করেও শেষরক্ষা হল না।

গোটা ঘটনার কথা জানতে পেরে যায় ওই ব্যক্তির পাছেই থাকা এক কিশোর। ওই যুবক নিজেকে ‘গ্রিন ব্রিগেডার’ পরিচয় দিয়ে গাছ কাটার কথা জানিয়ে দেয় ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টকে। আচমকা কোনও অনুমতি ছাড়া এভাবে রাস্তার গাছ কেটে ফেলা যায় না। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টকে জানিয়ে, অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। যদি ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট মনে করে যে, গাছটি কাটার প্রয়োজন আছে, তাহলেই অনুমতি পাওয়া যায়। তবে সেক্ষেত্রেও পুরো বিষয়টি ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে সবিস্তারে খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু হায়দরাবাদের এভাবে গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় সকলেই চমকে যায়।

ওই যুবকের কাছ থেকে গাছ কেটে ফেলার খবর পেয়ে, তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে আসেন ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের কর্তারা। তাঁরা গিয়ে দেখেন যে, ওই যুবকের করা অভিযোগ সত্যি। পরে ওই ব্যক্তিকে জেরা করে জানা যায় যে, নিজের বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল ওই গাছ। তাই তিনি কাউকে না জানিয়েই, ওই গাছ কেটে ফেলেন। স্থির করেন, কাউকে কিছু না জানিয়ে, লোক দিয়ে তিনি গাছটি কেটে ফেলবেন। সেই সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপায়িতও করেন তিনি। তবে ওই যুবকের ফোন তাঁকে বিপদে ফেলে দেয়।

এরপর ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট ওই ব্যক্তিকে ৬২ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং তাঁর কাছ থেকে ওই টাকা আদায় করেন। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের পদস্থ ব্যক্তিরা ওই অচেনা যুবকের প্রশংসাও করেছেন। সকলের এইভাবেই সচেতন হওয়া বলেও দাবি ফরেস্ট অফিসারদের। তাদের মতে, প্রত্যেক মানুষ এভাবে ভাবলে, তবেই পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে এবং রক্ষা পাবে পরিবেশ।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.