উড়ন্ত হেলিকপ্টার থেকে ঝুলছে মানুষ! কান্দাহারের আকাশে ভয়াবহ নৃশংসতার দৃশ্য, রইল ভিডিও

উড়ন্ত হেলিকপ্টার থেকে ঝুলছে মানুষ! কান্দাহারের আকাশে ভয়াবহ নৃশংসতার দৃশ্য, রইল ভিডিও
উড়ন্ত হেলিকপ্টার থেকে ঝুলছে মানুষ! কান্দাহারের আকাশে ভয়াবহ নৃশংসতার দৃশ্য, রইল ভিডিও

আফগানিস্তান ত্যাগ করল বিদেশি সেনা। আমেরিকা, ব্রিটেন দু’দেশের তরফেই আফগানিস্তান থেকে সেনা সরানোর কাজ চলছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন যুদ্ধ শেষ। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে তাই ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ হিসেবে দেখছে তালিবানরা। ইতিমধ্যেই কাবুল বিমানবন্দরও নিজেদের দখলে নিয়েছে তারা৷ নিজেদের স্বমূর্তি ধারন করে চলছে অত্যাচার। শূন্যে গুলি ছুঁড়ে, রকেট উৎক্ষেপণ করে উল্লাসেও মেতে উঠতে দেখা গিয়েছে জেহাদিদের।

এসবের মধ্যেই সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও যা দেখে শিউরে উঠেছে বিশ্বের মানুষ। মার্কিন UH-60 Black Hawk হেলিকপ্টারের সঙ্গে এক ব্যক্তিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ওড়াল তালিবান জঙ্গীরা। যা ফের প্রমাণ করে কতটা নৃশংস তালিবানদের আসল রূপ। এমনকি এই ঘটনার পর ওই উড়ন্ত ব্যক্তি মারাও গিয়েছেন বলে খবর। সেই হাড়হিম করা ভিডিওই এখন ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে।

ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কান্দাহারের আকাশে উড়ছে মার্কিন ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারটি। তাতে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় ঝুলছে একজন মানুষ। ঝুলন্ত মানুষটিকে আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে বিমানটি। সে যেন এক ভয়াবহ দৃশ্য! তা দেখে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা। এই ধরনের ঘটনাই ফের জানান দিয়ে গেল এতটুকুও বদলায়নি জেহাদিরা। তাদের স্বভাব সেই আগের মতোই নৃশংস।

এখানেই শেষ নয়, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনারা পাততাড়ি গোটানোর পরই আমেরিকার অস্ত্র বা গাড়ি-কপ্টারও নিজেদের দখলে করে নিয়েছে তালিবানরা। একাধিক ছবি বা ভিডিওতে জঙ্গিদের হাতে মার্কিন অস্ত্র বা আমেরিকার যুদ্ধের সাঁজোয়া গাড়ি দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি একাধিক শহরে পোস্টারও পড়েছে। যারা আফগান বা মার্কিন সেনাদের হয়ে কাজ করছিল সেই আধিকারিকদের খোঁজ চালাচ্ছে জঙ্গীরা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ বাড়িতে পোস্টারও সাঁটানো হয়েছে ‘হয় আত্মসমর্পণ কর, বশ্যতা মেনে নাও, নাহলে মরো।’ প্রকাশ্য আদালতেও হাজিরা দিতে বলা হচ্ছে। নাহলেই সাক্ষাৎ মৃত্যু!

অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ আফগানবাসীর সাহায্যের জন্য প্রস্তুত মার্কিন সরকার। আফগানদের সঙ্গে তাই কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও মানবিকতার স্বার্থে পাশে থাকছে তারা। এই পরিস্থিতিতে তালিবানরাও জানিয়েছে, আমেরিকা-সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে তারা। এদিকে, মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ছাড়তেই সে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়েছে রাশিয়া এবং চিনও। সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এখন বেশ জটিল হয়ে উঠেছে।