নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকলে সবই সম্ভব, প্রমাণ করলেন এবারের মিস ইন্ডিয়ার রানার আপ, অটোচালকের কন্যা মান্য সিং

নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকলে সবই সম্ভব, প্রমাণ করলেন এবারের মিস ইন্ডিয়ার রানার আপ, অটোচালকের কন্যা মান্য সিং
নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকলে সবই সম্ভব, প্রমাণ করলেন এবারের মিস ইন্ডিয়ার রানার আপ, অটোচালকের কন্যা মান্য সিং / ছবি সৌজন্যে- Instagrammed By manyasingh993

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দারিদ্র্ লজ্জার নয়, নয় কোনও বাধা। শুধু নিজের প্রতি এবং নিজের স্বপ্নের প্রতি থাকতে হবে অটুট বিশ্বাস। বরং দারিদ্র্ দেয় হাজারো বাঁধার মধ্যে লড়াই করার এবং যুদ্ধ জয় করার মনের জোর।

এই কথাই প্রমাণ করলেন এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। দারিদ্র এই পরিবারের নিত্য সঙ্গী। উত্তরপ্রদেশে তাঁর বাবা অটোচালকের কাজ করতেন৷ অসংখ্য বিনিদ্র রজনী এবং নিরলস পরিশ্রমের ফসল একেবার হাতেনাতে পেলেন মান্য৷ এই সাফল্যের পথে হাঁটতে কী অপরিসীম লড়াই তাঁকে করতে হয়েছে, তা নিজেই জানিয়েছেন মান্য৷ মিস ইন্ডিয়ার মঞ্চ থেকে সেই লড়াইয়ের গল্প বলে আরও মেয়েদের মধ্যে লড়াই করার শক্তি দিলেন তিনি৷

মান্য সিং দিনের বেলা অন্যের বাড়িতে বাসন মাজার কাজ করতেন। আর রাতের বেলা কল সেন্টারে কাজ করতেন। মাত্র কয়েকটা টাকা গাড়িভাড়া বাঁচাতে হাঁটতে হয়েছে মাইলের পর মাইল পথ। সেখান থেকেই এবারের মিস ইন্ডিয়া (Miss India) রানার আপ (Miss India runner-up)। মান্যর সাফল্যে আবেগে ভাসছে বিনোদন দুনিয়া থেকে দেশের সাধারণ মানুষ।

ভিএলসিসি ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া ২০২০-র (VLCC Femina Miss India 2020 ) খেতাব জিতেছেন তেলেঙ্গানার বারাণসী। আর রানার আপ হয়েছেন মান্য। কঠোর পরিশ্রম আর কঠিন লড়াই তাঁকে এই খেতাব এনে দিয়েছে। কতটা কঠিন ছিল এই লড়াই? এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা মান্য সিং জানিয়েছেন, শৈশব থেকেই তাঁকে লড়তে হয়েছে দারিদ্র্যের সঙ্গে। কত রাত আধপেটা খেয়ে কাটাতে হয়েছে।

মান্য সিং জানিয়েছেন, কান্না, কষ্ট, দারিদ্র সব পরস্পরের সঙ্গে মিশে তাঁর স্বপ্নকে সাহস জুগিয়েছে। একজন অটোচালকের মেয়ে হিসেবে, অনেক ছোট বয়স থেকেই তাঁকে কাজ করতে হয়েছে। নিয়মিত স্কুলে যাওয়া হত না। মায়ের সামান্য সোনার গয়না বন্ধক রেখে, একসময় তাঁকে পরীক্ষার ফি জমা দিতে হয়েছিল। নিজের এইচএসসি- পরীক্ষার সময় তিনি সেরা পড়ুয়ার সম্মান পান৷ মান্যর কথায়, তাঁর এই লড়াইতে তাঁর মা তাঁকে সবসময় উৎসাহ দিতেন৷ মান্য আরও জানিয়েছেন, ছাত্রাবস্থায় ভাল পোশাক তাঁর হয়নি। বই পড়তে ভাল লাগলেও, সেই সৌভাগ্য বা পরিস্থিতি তাঁর সেই ইচ্ছের বিরুদ্ধে ছিল। এত কষ্টের মধ্যেও কিন্তু সেই দারিদ্রতাড়িত জীবনই যেন তাঁকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছিল আরও বড় হওয়ার, সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।

নিজের এমন খুশির মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের মান্য। মান্য সিং মিস ইন্ডিয়ার মঞ্চে প্রতিযোগী হিসেবে উপস্থিত হয়ে জানিয়েছেন, তিনি মিস ইন্ডিয়ার মঞ্চে এসেছেন তাঁর বাবা-মা ও ভাইয়ের স্বপ্নকে সত্যি করতে।

মিস ইন্ডিয়া হওয়ার মান্যর মূল ইচ্ছে, যাতে বাবা, মা আর তাঁর ছোট ভাইকে আরও ভাল জীবন উপহার দেওয়া যায়৷ মিস ইন্ডিয়ার আয়োজকরা মান্যকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, তাঁর লড়াইয়ের কাহিনী শেয়ার করার জন্য৷ এই লড়াইয়ের গল্প আরও মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে বলেই তাঁদের আশা। মান্যর সাফল্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন মানুষী চিল্লার। সেই পোস্টে আবার লাইক দিয়েছেন অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান।