রেখা মিশ্র, নারী শক্তির এক অনন্য উদাহরণ, বাঁচিয়েছেন ৯৫০-এর বেশি নাবালক, নাবালিকার জীবন

রেখা মিশ্র, নারী শক্তির এক অনন্য উদাহরণ, বাঁচিয়েছেন ৯৫০-এর বেশি নাবালক, নাবালিকার জীবন
রেখা মিশ্র, নারী শক্তির এক অনন্য উদাহরণ, বাঁচিয়েছেন ৯৫০-এর বেশি নাবালক, নাবালিকার জীবন / ছবি সৌজন্যে- Facebook Post By @humansofbombay

বংনিউজ২৪x৭ডিজিটাল ডেস্কঃ রেখা মিশ্র, আশার এক নাম। রেখা মিশ্র আজকের সমাজে অজস্র তরুণীর জীবনে অনুপ্রেরণার এক নাম। তিনি প্রমাণ করেছেন, মেয়েরা চাইলে কি না পারে, নিজেদের জীবনে তাঁদের একান্ত নিজেদের কাহিনি গড়ার ক্ষমতা রাখেন নারীরা। তাঁদের কাছে নারীশক্তির জ্বলন্ত প্রমাণ রেখা মিশ্র।

কে এই রেখা মিশ্র? আসুন সে বিকে আলোকপাত করা যাক। রেখা মিশ্র মুম্বইয়ের রেল প্রোটেকশন ফোর্সের (আরপিএফ) পুলিশ সদস্য। নিজের লক্ষ্যে এবং কর্তব্যে অবিচল থেকে তিনি ৯৫০-এর বেশি ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং পাচার হওয়া নাবালক-নাবালিকাকে উদ্ধার করেছেন এবং তাঁদের পুনরায় সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি Humans of Bombay-এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তাঁর জীবন, কাজ, তাঁর শৈশব এমন অনেক কিছু নিয়েই কথা বলেছেন। সেখান থেকেই উঠে এসেছে সাহসী এবং উদ্যমী রেখার সম্পর্কে নানা কথা।

রেখা জানিয়েছেন যে, তাঁর বাবা আর্মিতে কর্মরত ছিলেন। বাবাই ছিলেন তাঁর জীবনে প্রধান অনুপ্রেরণা। তাঁর এবং তাঁর বোন উভয়েই বাবাকে দেখেই, পুলিশে যোগ দেওয়ায় সিদ্ধান্ত নেন। বাবার অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহেই দেশের সেবায়, মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেন।

কাজে যুক্ত হয়ে, তাঁর পোস্টিং হয়েছিল মুম্বইয়ের খ্যাতিমান ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসে। এখান থেকেই তাঁর জীবনের নতুন যাত্রার এবং লড়াইয়ের শুরু। তিনি এখানে মহিলা ও শিশু পাচাররোধের দায়িত্বে ছিলেন। গত কয়েক বছরে, বিভিন্ন রেল স্টেশন থেকে শতাধিক নিখোঁজ, অপহরণ বা পালিয়ে যাওয়া বাচ্চাদের উদ্ধার করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। তাঁর এই অসামান্য কৃতিত্বের জন্য ২০১৭ সালে তিনি নারী শক্তি পুরস্কারে ভূষিত হন।

তাঁর কাজের কথা বলতে গিয়ে, তিনি একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, একবার তিনি এক ৪৫ বছর বয়স্ক এক ব্যক্তির হাত থেকে বছর ১৫-র এক নাবালিকাকে উদ্ধার করেন। সেদিন ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার পর, ওই নাবালিকা তাঁকে চিৎকার করে বলেছিল, ‘ধন্যবাদ, ধন্যবাদ আপনাকে আমার জীবন বাঁচানোর জন্য’। পরে তিনি জানতে পারেন যে, ওই ব্যক্তি মেয়েটির শ্লীলতাহানি করে এবং তাঁকে জোর করে বিয়ে করতে চেষ্টা করেছিল।

জীবনে এমন অনেক ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন তিনি। ঘরছুট বহু নাবালিকাকে উদ্ধার করে, বাড়িতে তাঁদের পরিজনের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। একবার তেমনই এক ঘর থেকে পালিয়ে মুম্বই আসা নাবালিকাকে তিনি উদ্ধার করেন। যখন তিনি ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করেন, তখন তাঁর খুবই শোচনীয় অবস্থা। তাঁর বাবা-মা জানতেও পারেননি কখন, কেন তাঁদের সন্তান ঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়, যখন তাঁকে ঘরে ফিরিয়ে দেন রেখা মিশ্র, তখন সে গর্ভবতী ছিল।

এইভাবে ২০১৫ সাল থেকে তিনি ৯৫০-এর বেশি পলাতক এবং পাচার হওয়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের উদ্ধার করেছেন। এ যাবত কর্মজীবনে তাঁর অসামান্য কৃতিত্বের জন্য অজস্র সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন। তাঁর শিশু উদ্ধারকাজগুলি মহারাষ্ট্রের এসএসসি পাঠ্যপুস্তকের একটি অধ্যায় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এতো কিছুর পরেও তাঁকে সমালোচিত হতে হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, নারী হিসেবে যে সময় তাঁর ঘরে থেকে সংসার করার, রান্নাবান্না করার কথা, সে সময় তিনি বাইরে ছুটে চলেছেন অপরাধীদের পিছনে। এই কাজ মহিলাদের জন্য নয়। কিন্তু রেখা মিশ্র থেমে যাননি, সমালোচনায় কর্ণপাত না করে, নিজের কর্তব্যে এবং লক্ষ্যে অবিচল থেকেছেন। আবার পরিবার-আপনজনের কাছে প্রশংসিতও হয়েছেন। আজ তিনি অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা, ‘রোল মডেল’।