‘অন্য রাজ্যের তুলনায় বাংলা অনেক নিরাপদে’: আশ্বাস শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়

করোনা নিয়ে রাজ্যবাসীকে আশ্বাস বিদ্যুৎমন্ত্রীর

‘গুজবে কান দেবেন না। সবাই নিশ্চিন্তে থাকুন। বাংলায় করোনা সংক্রমণ হচ্ছে। কিন্তু হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব সহ অন্যান্য রাজ্যের থেকে সেই পরিসংখ্যান অনেক কম। বাংলা অনেক নিরাপদে আছে। কারণ, আমরা কাজ করছি’…. আনলক ১-এ পশ্চিমবঙ্গের ছবি লাইভ ভিডিও কনফারেন্সে রাজ্যবাসীকে এভাবেই আশ্বস্ত করলেন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, করোনা আবহেই আগামী বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাতে শুরু করেছে সমস্ত রাজনৈতিক দল। বাংলায় শাসকদলের তরফে সম্ভবত তারই সলতে পাকালেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।

করোনা নিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রীর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে লড়েছেন পথে নেমে তার জন্যই রাজ্য এবং রাজ্যবাসী এত নিরাপদে রয়েছেন। কেন্দ্র থেকে যে পরিমাণ অর্থ সাহায্য পাওয়ার কথা ছিল, তা মেলেনি। তার পরেও একাই লড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশে অবশ্যই ছিলেন বিধায়ক, সাংসদ এবং স্থানীয় কাউন্সিলাররা। ফলে, যুদ্ধ চালিয়ে যেতে অসুবিধে হয়নি।

একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, পরিযায়ী শ্রমিকরা কাজের সূত্রে যে রাজ্যে রয়েছেন তাঁদের আপাতত সেখানেই রাখা হোক। এর জন্য প্রতি রাজ্য নিজেদের শ্রমিকদের জন্য একটা নির্দিষ্ট অর্থ দান করবেন। কিন্তু কেন্দ্র সেকথা শোনেনি। ফলে, সংক্রমণের হার এত বেড়ে গেছে। শ্রমিকদের যাতায়াত ভাড়া, খাবার, পানীয় জলটুকুও কেন্দ্র দেয়নি। বাংলার শ্রমিকদের মুখ্যমন্ত্রী ফিরিয়েছেন রাজ্যের খরচে—ভিডিও বার্তায় বলেন শোভনদেব।

পাশাপাশি, তিনি বলেন আমফান বিপর্যয় নিয়েও। তাঁর কথায়, শহরে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক। ৬০ শতাংশ স্বাভাবিক জেলার বিদ্যুৎ পরিবেষা। কিন্তু যেখানে টাওয়ার ভেঙেছে, তার জড়িয়ে গেছে জঙ্গলে, রাস্তা জলের নীচে সেখানে বিদ্যুৎ এখনও পৌঁছোয়নি। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনি জোরকদমে চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের কাজ। একই ভাবে করোনার মতোই আমফানের সঙ্গেও লড়তে দেখা গেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ৪৮ ঘণ্টা তিনি নিজে বসে সব কাজের তদারকি করেছেন কন্ট্রোল রুমে।

ত্রাণও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, দেওয়ার কাজ চলছে। এই ত্রাণ বিলি নিয়েও কম রাজনীতি হয়নি। অন্যরা যত না ত্রাণ দিয়েছেন তার চেয়ে প্রচার করেছেন দ্বিগুণ। তাই মুখ্যমন্ত্রী বাধ্য হয়ে অনুরোধ করেন, তিনি এবং তাঁর কর্মীরাই ত্রাণ পৌঁছে দেবেন। আপাতত অন্যদের এব্যাপারে না ব্যস্ত হলেও চলবে। এভাবেই নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে পরোক্ষে বিরোধী দল বিজেপি এবং দিলীপ ঘোষকে কটাক্ষ করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, করোনা নিয়েও রাজনীতি কম হয়নি। বিনা নোটিশে রাজ্যে চলে এসেছেন কেন্দ্রীয় সমীক্ষকেরা। ত্রাণ, কাজে ব্যস্ত নেতা-মন্ত্রীরা বাংলা ঘুরে দেখিয়ে তাঁদের সাহায্য করতে পারেনি বলে শুনতে হয়েছে, সংক্রমণের পরিসংখ্যান ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুনঃ  টাকা বেশি নিয়ে কম তেল দেওয়ার অভিযোগ উঠল রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.