টেস্ট বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও! ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত ৪৮০০ বেশি

টেস্ট বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও! ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত ৪৮০০ বেশি
টেস্ট বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও! ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত ৪৮০০ বেশি / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ একদিকে রাজ্যে চলছে বিধানসভা নির্বাচন, আর সেই আবহে ফের একবার বেলাগাম রাজ্যে করোনা সংক্রমণ। এমনিতেই দেশজুড়ে করোনা সংক্রমণ নতুন করে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নাজেহাল দেশ। এই পরিস্থিতিতে এ রাজ্যেও নির্বাচনী আবহে ক্রমশই বাড়ছে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই রাজ্যে চলছে বিধানসভা নির্বাচন। আর এই ভোট উৎসবকে কেন্দ্র করে সভা-সমাবেশ, মিটিং, মিছিল লেগেই রয়েছে। এসবে বহু মানুষের জমায়েত হচ্ছে। যথেচ্ছভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে করোনাবিধি। বেশিরভাগের মুখে থাকছে না মাস্ক, মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্ব। এর জেরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা। দৈনিক সংক্রামিতের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

এই পরিস্থিতিতে টেস্ট বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও। পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। কমছে সুস্থতার হারও। তাই করোনা সংক্রমণ রুখতে ক্রমশ আরও কড়া হচ্ছে প্রশাসন।

এদিন স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪,৮১৭ জন। এর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে কলকাতা। শুধুমাত্র কলতাতাতেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১,২৭৩ জন। এরপরের স্থানেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগণা। ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ২৪ পরগণা জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১,১৩৪ জন। আবার হাওড়ায় একদিনে আক্রান্ত ২৮৪ জন। রাজ্যে এই মুহূর্তে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬ লক্ষ ২৪ হাজার ২২৪ জন। উদ্বেগ বাড়িয়ে বাড়ছে অ্যাকটিভ কেসও।

এই মুহূর্তে করোনায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯ হাজার ৫০ জন। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। এখনও পর্যন্ত করোনায় রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৪৩৪ জনের। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২২৭৮ জন। সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশজুড়ে করোনার টিকাকরণের পাশাপাশি চলছে করোনার পরীক্ষাও। রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের বুলেটিন থেকে জানা যাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪২ হাজার ২১৪ জনের। গতকালের থেকে টেস্টিংয়ের পরিমাণ বাড়তেই বাড়ল আক্রান্তের সংখ্যা।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে ২০২০ সালে করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ অবস্থায় রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালগুলোতে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল পরিস্থিতি মোকাবিলায়, তার থেকেও ২০ শতাংশ বেশি ব্যবস্থা তৈরি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মাইক্রো কনটেইনমেন্ট জোন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বলা হয়েছে, সংক্রমণ রুখতে আরটিপিসিআর পরীক্ষা বাড়াতে হবে। জনবহুল এলাকায় অকারণে ভিড় বা জমায়েত করা যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন মজুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে অক্সিজেনের ঘাটতি না পড়ে। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ও ভেন্টিলেশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে নির্দেশে। করোনা মোকাবিলায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে ওঠা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই সচেতনতা বাড়াতে প্রচার বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনোভাবেই ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। যে যে জেলায় ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, সেই সব জেলায় করোনা সচেতনতায় আরও জোর দিতে হবে। বাড়াতে হবে সেফ হোমের সংখ্যাও। শুধু সেফ হোমের সংখ্যা বাড়ানোই নয়, এর পাশাপাশি সেফ হোমগুলোর জন্য চিকিৎসক নির্দিষ্ট করে রাখতে হবে।