নাতনির লেখাপড়ার খরচ চালাতে বেঁচেছেন বাড়ি, রাতের পর রাত কাটিয়েছেন অটোতে! পড়ুন দাদু-নাতনির গল্প

নাতনির লেখাপড়ার খরচ চালাতে বেঁচেছেন বাড়ি, রাতের পর রাত কাটিয়েছেন অটোতে! পড়ুন দাদু-নাতনির গল্প
নাতনির লেখাপড়ার খরচ চালাতে বেঁচেছেন বাড়ি, রাতের পর রাত কাটিয়েছেন অটোতে! পড়ুন দাদু-নাতনির গল্প / ছবি সৌজন্যে- Facebook Posted By @humansofbombay

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ এক দাদু আর নাতনির গল্প। কোনও সিনেমার গল্প নয়। একেবারে বাস্তব ঘটনা। সন্তান হারিয়েও দাদু ভেঙ্গে পড়েননি। নাতনিকে শিক্ষিত করতে, উদয়স্ত পরিশ্রম করে চলেছেন। এই দাদু আর নাতনির গল্প সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে আসতেই, নেটিজেনরা সেই গল্প পড়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন।

এই ঘটনা আজকের নয়। দীর্ঘ ৬ বছর ধরে দাদু-নাতনি একে অপরের পাশে থেকে, জীবনের কঠিন লড়াইটা করে চলেছেন হাসিমুখে। দেশরাজ দুই সন্তানের পিতা, দুই ছেলেকেই হারিয়েছেন এই হতভাগ্য বাবা। এখন তাঁর কাধে রয়েছে নাতনিকে মানুষ করার দায়িত্ব। নাতনিকে মানুষের মতো মানুষ করতে চান দাদু দেশরাজ। তার জন্যই বৃদ্ধ বয়সে এসেও, এত পরিশ্রম করে চলেছেন।

নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসার দেশরাজের। তবুও নাতনির পড়াশোনায় যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য সদা সতর্ক দৃষ্টি দেশরাজের। তাই চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখেন না কখনই। এই প্রবীণ মানুষটি জানিয়েছন যে, ৬ বছর আগে তাঁর বড় ছেলে রোজকার মতো কাজে বের হয়েছিলেন। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেননি এরপর। এই ঘটনার এক সপ্তাহ পর, তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ৪০ বছর বয়সে বড় ছেলের মৃত্যু হয়। সংসার টানতে অটো নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। বড় ছেলেকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠে না উঠতেই ছোট ছেলেকে হারান। সে আত্মহত্যা করে। এরপর ছেলের বউ এবং নাতিনাতনিদের দায়িত্ব তাঁর বৃদ্ধ কাঁধে এসে পড়ে।

দেশরাজ জানিয়েছেন যে, তখন তাঁর নাতনি নবম শ্রেণিতে পড়ে, সে সিদ্ধান্ত নেয়, আর পড়বে না। কারণ পড়াশোনা করাটা তাঁদের পরিবারের কাছে বিলাসিতা হয়ে উঠেছিল বলে তাঁর নাতনি মনে করেছিল। খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছিল না। কিন্তু মনে ছিল, প্রবল ইচ্ছে লেখাপড়া চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার। তাই তিনি নাতনিকে লেখাপড়া ছাড়তে বারণ করেন।

দেশরাজের কথায়, অতিরিক্ত রোজগারের জন্য তিনি কাজের সময় বাড়িয়ে দেন। বেশিরভাগ দিন অটোতেই রাত কাটিয়েছেন। সকাল ৬ টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করে মাসে ১০ হাজার টাকা রোজগার করতেন। তার মধ্যে ৬০০০ টাকা পড়াশোনার খরচ বাবদ নাতনির হাতে তুলে দিতেন। ৪০০০ টাকা খাওয়া-খরচের জন্য রাখতেন। নাতনির লেখাপড়ার খরচ চালাতে একসময় তিনি নিজের তিনি বাড়িও বিক্রি করে দেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, তাঁর এই কষ্টের দাম দিয়েছে নাতনি। সে ১২ ক্লাসের বোর্ড পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাস করে। তাঁর সাফল্যে সেদিন খুশিতে দেশরাজ সমস্ত যাত্রীকে বিনামূল্যে তাঁদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিয়েছিলাম।

এখন দেশরাজের একটাই স্বপ্ন, নাতনিকে শিক্ষিকা হতে দেখা। দেশরাজ বলছেন, সেদিন তিনি আদরের নাতনিকে বুকে জড়িয়ে বলতে চান, ‘তুই আমার গর্ব।’

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.