মুর্শিদাবাদ বিস্ফোরণকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সিট গঠন

মুর্শিদাবাদ বিস্ফোরণকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সিট গঠন
মুর্শিদাবাদ বিস্ফোরণকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সিট গঠন

বংনিউজ২৪x৭ডিজিটাল ডেস্কঃ বোমার আঘাতে গুরুতর জখম রাজ্যের শ্রম দফতরের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। এদিকে রাজ্যের শ্রম দফতরের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ষড়যন্ত্রের নাগাল পেতে এবং মুর্শিদাবাদ বিস্ফোরণকাণ্ডে অপরাধীদের ধরতে এবার তদন্তে সিট গঠন করার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই তদন্তকারী দলের নেতৃত্বে থাকবেন এডিজি সিআইডি অনুজ শর্মা।

এডিজি সিআইডি অনুজ শর্মার নেতৃত্বে এই বিশেষ তদন্তকারী দলে রয়েছে এসটিএফ, আইবি, সিআইএফ এবং স্থানীয় পুলিশ। আগামিকাল এই বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন।

এদিন শ্রম দফতরের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বেরিয়ে এসে তিনি বলেন যে, এই ঘটনা ভয়াবহ। তিনি আরও বলেন যে, যাঁরা মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন, তাঁরা জানিয়েছেন যে, রিমোট কন্ট্রোলে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এও বলেন, স্থানীয়দের কথা শুনে মনে হয়েছে যে, পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

এদিন পৈলানের কর্মিসভাতেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, তিনি ভাবতেই পারেননি যে, এতো তীব্র বিস্ফোরণ! কারও হাত উড়ে গেছে, কারও পা। জাকিরের হাতে-পায়ে চোট লেগেছে। তিনি এখনও ভেন্টিলেশনে রয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রী জাকির হোসেন সম্পর্কে বলেন যে, জাকির খুবই জনপ্রিয় নেতা। তিনি মনে করেন যে, নির্বাচনের আগে, জাকিরকে খুন করে সরিয়ে দেওয়াই অপরাধীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। তিনি বলেন, যারাই এই কাজ করে থাকুক, পূর্ণ তদন্ত হবে।

অন্যদিকে তিনি এই ঘটনায় রেলের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর কথায়, কেন রেলস্টেশনে আলো ছিল না? কেনই বা ঘটনার পর রেল কর্তৃপক্ষের দেখা পাওয়া যায়নি? মন্ত্রী জাকির হোসেন যাবেন, একথা তাঁরা নিশ্চয়ই জানতেন। তাহলে কেন কোনও নিরাপত্তা ছিল না। এই দায়িত্ব রেল পুলিশের, এই দায়িত্ব রাজ্য পুলিশের আওতাধীন নয়। এদিকে রেল মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ মানতে নারাজ।

বর্তমানে এই বিস্ফোরণের ঘটনায় জখম মন্ত্রী-সহ বেশ কয়েকজন এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগে রাজ্যের মন্ত্রীর উপর হামলায় উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। দল নির্বিশেষে প্রত্যেকেই এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। এই ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন অধীর চৌধুরী, আবু তাহের থেকে কৈলাস বিজয়বর্গীয়। প্রত্যেকেই সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। রাজ্যপালও এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বুধবার রাতে, কলকাতা যাচ্ছিলেন জাকির হোসেন। রাতে নিমতিতা স্টেশন থেকে তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস ধরার জন্য ২ নম্বর প্লাটফর্মে যাচ্ছিলেন তিনি। সঙ্গে দলীয় কর্মীরাও ছিলেন। তখনই বিস্ফোরণ ঘটে। বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হন মন্ত্রী-সহ কমপক্ষে ২৩ জন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় আহত এবং জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তির কথায়, বুধবার রাতে নিমতিতা স্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন দলীয় কিছু কর্মী। জাকির হোসেন তাঁর কারখানা থেকে নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশনে পৌঁছান। স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে একটি ব্যাগ রাখা ছিল। সেই ব্যাগ থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে।

আরো পড়ুনঃ   পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে নিজেই ই-স্কুটি চালিয়ে নবান্ন থেকে বেরলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়