তাণ্ডবলীলা শুরু করেছে ‘ইয়াস’! ইতিমধ্যেই পাব্লিত হয়েছে নন্দীগ্রাম, খেজুরি

তাণ্ডবলীলা শুরু করেছে ‘ইয়াস’! ইতিমধ্যেই পাব্লিত হয়েছে নন্দীগ্রাম, খেজুরি
তাণ্ডবলীলা শুরু করেছে ‘ইয়াস’! ইতিমধ্যেই পাব্লিত হয়েছে নন্দীগ্রাম, খেজুরি / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ২৪x৭ ডেস্কঃ করোনা পরিস্থিতি মাঝেই রাজ্যে এসে হাজির হয়েছে আরও এক বিপর্যয় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। পূর্বাভাস অনুযায়ী ইতিমধ্যেই ‘ইয়াস’ এর ল্যান্ডফল শুরু হয়েছে। প্রায় সকাল ৯.১৫ থেকে বালেশ্বরের ধামরা বন্দরের কাছে আছড়ে প়ড়তে শুরু করেছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’। আর তার ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া আগামী ৩ ঘণ্টা ধরে চলবে বলেই জানাচ্ছে আবহাওয়াবিদরা। সমুদ্রের জল ডুকে ইতিমধ্যেই বাংলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। প্লাবিত হয়েছে গোটা দীঘা, নন্দীগ্রাম, খেঁজুরি সহ গোটা পূর্ব মেদিনীপুরই।

উল্লেখ্য বাংলায় ‘ইয়াসের’ ল্যান্ডফল না হলেও বাংলার উপকূলবর্তী এলাকায় সমুদ্রের প্রবল জলোচ্ছ্বাসের কারণে জল ঢুকছে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাগুলিতে, এমনকি ভেঙে গিয়েছে একাধিক নদী বাঁধও। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। জলের তোড়ে ভেসে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। প্লাবিত হয়েছে প্রায় ৭০ কিমি এলাকা। তৈরি হয়েছে বন্যার পরিস্থিতি।

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ বাংলায় প্রভাব ফেলার আগেই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, হুগলি, পুরুলিয়া, বর্ধমান, বীরভূম, ও নদিয়ায় ১৭ কোম্পানি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তারসাথে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিভিক ভলান্টিয়ার, অফিসার সহ ৩ লক্ষ পুলিশ মোতায়েত করা হয়েছে পূর্বেই।

আর এই কঠিন বিপর্যয় মোকাবিলায় সামিল রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গতকাল রাত থেকেই নবান্নের কন্ট্রোল রুম থেকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর গতিবিধির ওপর নজর রেখে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এছাড়া আজ তিনি ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ে কী বললেন একনজরে দেখে নিন.. মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানান, ঘূর্ণিঝড়ের ও ভরা কোটালের জেরে রাজ্যে বেশি মাত্রায় ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যেই লো লাইন এলাকায়গুলি বন্যার কবলে। তিনি জানান, পূর্ব মেদিনীপুরে প্রায় ৫১টি বাঁধ ভেঙে গেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রায় ১৫ টি গ্রামে জল ঢুকেছে। এছাড়া প্রায় ২০ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে তিনি জানান প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ স্থানে। মেদিনীপুর থেকেও প্রায় ৩ লক্ষ ৮ হাজার মানুষকে নিয়ে আসা হয়েছে নিরাপদ স্থানে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নন্দীগ্রামের সোনাচুড়া-সহ একাধিক গ্রাম । বিদ্যাধরী নদীর জল ঢুকে গিয়েছে গোসাবার গ্রামেও। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে শংকরপুর, তাজপুর স্টেশন। এরই সাথে তিনি জানান কলকাতা, হাওড়া, হুগলিতে ‘ইয়াস’ এর প্রভাবে ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ – ১১০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া চলার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কোস্টাল এড়িয়ায় ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এরই সাথে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৭-৮ ঘন্টা চলবে এই বিপর্যয়। তাই সাধারণ মানুষ যাতে এই মুহূর্তে রিলিফ সেন্টার না ত্যাগ করেন সেকথাও তিনি জানান।