সুবিচার হবেই, আর সেটা তাঁরাই সুনিশ্চিত করবেন! লখিমপুর গিয়ে দাবী রাহুলের

সুবিচার হবেই, আর সেটা তাঁরাই সুনিশ্চিত করবেন! লখিমপুর গিয়ে দাবী রাহুলের
সুবিচার হবেই, আর সেটা তাঁরাই সুনিশ্চিত করবেন! লখিমপুর গিয়ে দাবী রাহুলের / ছবি সৌজন্যে- Tweeter, @rssurjewala

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর-খেরিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীর ছেলের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ৪ জন কৃষকের মৃত্যু হয় রবিবার। এরপরেই এই ঘটনাকে ঘিরে রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে লখিমপুর খেরি। অশান্তির মাঝে পড়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এরপরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা লখিমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। কিন্তু প্রায় সকলকেই আটকে দেয় উত্তরপ্রদেশ সরকার। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। এর মধ্যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেও দীর্ঘক্ষণ সীতাপুরে আটক করে রাখার পর ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগে, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। কংগ্রেস নেতা বাঘেলকে বিমানবন্দরেই আটকে দেওয়া হয়। গ্রেফতার করা হয় সপা নেতা অখিলেশ যাদবকেও। যদিও পরে বাধ্য হয়েই উত্তরপ্রদেশ সরকার জানায় যে, সব দলের রাজনৈতিক নেতারাই লখিমপুর যেতে পারবেন নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। তবে, একসঙ্গে ৫ জনের বেশি নয়।

এরপর গতকালই সব বাধা সরিয়ে, অবশেষে রাতে লখিমপুর পৌঁছান রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সেখানে গিয়েই তাঁদের দাবী, লখিমপুর খেরি কাণ্ডে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের গ্রেফতারি না হলে এবং ইস্তফা না দিলে, লখিমপুর কাণ্ডে সুবিচার হতে পারে না। আবার রাহুল গান্ধী এও দাবী করেছেন যে, সুবিচার হবেই, আর সেটা তাঁরা সুনিশ্চিত করবেন।

বুধবার রাত ৯ টা নাগাদ বিরাট কনভয় নিয়ে লখিমপুর পৌঁছান রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চন্নি, ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল। তবে, লখিমপুর যাওয়ার আগে কম টানাপড়েন হয়নি। প্রথমে তো সেখানে যাওয়ারই অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে অনুমতি দেওয়া হলেও, লখনউ বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হয় রাহুলদের। বলা হয় নিজেদের গাড়িতে লখিমপুরে যেতে পারবেন না তাঁরা। যেতে হবে পুলিশের গাড়িতে। তা নিয়েও সংবাদ মাধ্যমের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী। পুলিশের সেই আদেশ অবশ্য মানেননি রাহুল। লখনউ বিমানবন্দরেই দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধরনায় বসেন কংগ্রেস নেতা। পর যদিও নিজের গাড়িতেই লখিমপুর যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় রাহুল গান্ধীকে।

প্রথম রাহুল গান্ধী বিমানবন্দর থেকে সীতাপুর যান। সেখান থেকে প্রিয়াঙ্কাকে নিয়ে চলে যান লখিমপুর। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা দুজনেই। বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন একসঙ্গে। যেভাবে রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন, তা প্রশংসা কুড়িয়েছে অনেকেরই। মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাহুল প্রিয়াঙ্কাদের আলিঙ্গনের ছবি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

অন্যদিকে, লখিমপুর কাণ্ডের নতুন একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যাতে দেখা যাচ্ছে নিরীহ বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে পিষে দিচ্ছে মন্ত্রীর SUV।, বিজেপি সাংসদ বরুণ গান্ধী সেই ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেছেন, ‘এই ভিডিওটি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। এভাবে খুন করে বিক্ষোভ থামানো যায় না। নিরীহ কৃষকদের রক্ত নিয়ে এই খেলার দায় কাউকে নিতেই হবে। সুবিচার হতেই হবে।’

উল্লেখ্য, লখিমপুর কাণ্ডে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ে্র করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এন ভি রামনা, বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি হিমা কোহলির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজই লখিমপুরের এই মামলার শুনানি হবে শীর্ষ আদালতে। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।