দেশের একমাত্র এই রেলওয়ে স্টেশনের নেই কোনও নাম! পিছনে রয়েছে কী কারণ?

দেশের একমাত্র এই রেলওয়ে স্টেশনের নেই কোনও নাম! পিছনে রয়েছে কী কারণ? / প্রতীকী ছবি
দেশের একমাত্র এই রেলওয়ে স্টেশনের নেই কোনও নাম! পিছনে রয়েছে কী কারণ? / প্রতীকী ছবি

সারা ভারতবর্ষ জুড়ে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ও বড় মাধ্যম হল ভারতীয় রেল। কাছেপিঠেই হোক বা দূরদূরান্তের যাত্রাপথ, প্রতিদিনই যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে মানুষ এই পরিষেবাকে বেছে নেন। এই ভারতীয় রেলের আওতায় দেশ জুড়ে প্রায় ৮০০০ স্টেশন রয়েছে৷ দেশের একটি স্টেশন থেকে অন্য আরেকটি স্টেশনকে আলাদা করার জন্য দুটি ব্যবস্থার সাহায্য নেওয়া হয়৷ এক, স্টেশনটির নাম ও দুই, তার কোড নম্বর। কিন্তু ধরুন এমন কোনও স্টেশন রয়েছে যেটি বর্তমানে নামবিহীন? অর্থাৎ স্টেশনটির কোনও নামই নেই। ঠিক এমনই এক স্টেশন রয়েছে দেশ তথা এই রাজ্যের বুকে।

স্টেশনটি দেশের একমাত্র রেলওয়ে স্টেশন যার কোনও নাম নেই। এবং তা অবস্থিত এই রাজ্য অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গেই। রাজ্যের বর্ধমান জেলার মধ্যেই রয়েছে সেই স্টেশন। যা শহর বর্ধমান থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে বাঁকুড়া-মাসগ্রাম রেললাইনে অবস্থিত। তবে পূর্বে যদিও স্টেশনটির একটি নাম ছিল, ‘রায়না গড়’। সেই নামেই পরিচিত ছিল স্টেশনটি। এমনকি টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রেও সেই নামই ব্যবহার করা হত। কিন্তু বর্তমানে সেই নাম মুছে রয়েছে।

দেশের একমাত্র এই রেলওয়ে স্টেশনের নেই কোনও নাম! পিছনে রয়েছে কী কারণ? / প্রতীকী ছবি
দেশের একমাত্র এই রেলওয়ে স্টেশনের নেই কোনও নাম! পিছনে রয়েছে কী কারণ? / প্রতীকী ছবি

এর পিছনে রয়েছে ঠিক কী কারণ? আসলে এই স্টেশনটি রায়না এবং রায়নগর নামে দুটি গ্রামের মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত। আর সেই কারণে স্টেশনের নাম ‘রায়না গড়’ হওয়ায় রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন রায়নার মানুষজন। রায়নার বাসিন্দাদের দাবি ছিল, যেহেতু প্ল্যাটফর্মটি রায়না গ্রামের জমিতেই তৈরি তাই তার নাম ‘রায়না’ই হওয়া উচিৎ। এই নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে কার্যত ঝামেলাও বেঁধে গিয়েছিল। সেই খবর রেল কর্তৃপক্ষের কাছেও পৌঁছায়৷ উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কানে এই খবর পৌঁছানোর পরই এরপর স্টেশনের নাম মুছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রেল কর্তৃপক্ষ। তারপর থেকেই নামবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে ওই স্টেশন।

বর্তমানে ওই স্টেশনে গেলে চোখে পড়বে ফাঁকা হলুদবোর্ড। যার মধ্যে কোনও নামই লেখা নেই। এর জেরে অবশ্য দূর-দূরান্তের যাত্রীদের কিছুটা অসুবিধার মুখেও পড়তে হয়। যদিও স্টেশনের টিকিটে এখনও স্টেশনের নাম হিসেবে ‘রায়না গড়’ই লেখা রয়েছে। যদিও স্টেশনটি এখনও নামহীন ভাবেই পড়ে রয়েছে।