জাতির উদ্দেশে ভাষণে ভ্যাকসিন নিয়ে বড় ঘোষণা মোদীর! কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

জাতির উদ্দেশে ভাষণে ভ্যাকসিন নিয়ে বড় ঘোষণা মোদীর! কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?
জাতির উদ্দেশে ভাষণে ভ্যাকসিন নিয়ে বড় ঘোষণা মোদীর! কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ দেশব্যাপী করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে লকডাউন এবং কড়া বিধিনিষেধ জারির কারণে সংক্রমণ অনেকটাই কমেছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

এরই মধ্যে আজ বিকেলে, জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিকেল ৫ টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন নরেন্দ্র মোদী। মনে করা হচ্ছিল, টিকাকরণ নীতি নিয়েও কিছু বলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, তেমনটাই হল। টিকাকরণ নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এবার থেকে টিকাকরণের জন্য রাজ্য সরকারগুলিকে কোনও অর্থ ব্যয় করতে হবে না। ২১ জুন থেকে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিককে টিকা দেবে ভারত সরকার। সোমবার জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, অনেক রাজ্য সরকারের টিকাদানে সমস্যা হচ্ছে। সেই সমস্যার সমাধানের জন্যই কেন্দ্র আগের মতো সব নাগরিকদের টিককরণের দায়িত্ব নিল। তবে, এও বলা হয়েছে, কেউ চাইলে বেসরকারি হাসপাতাল থেকেও টিকা নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতাল ভ্যাকসিনের দামের উপর সর্বোচ্চ দেড়শো টাকা সার্ভিস ট্যাক্স নিতে পারবে। এটা দেখাশোনার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের।

এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, ‘কেন্দ্রের কাছে দাবি এসেছিল, স্বাস্থ্য রাজ্যের হাতে ছাড়া হোক। এ জন্য কেন্দ্র নির্দেশিকা বানিয়ে রাজ্যকে কাজ করার ছাড় দিয়েছে। করোনা কার্ফু থেকে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জ়োন, এই সংক্রান্ত রাজ্যের সব দাবি মেনে নিয়েছে কেন্দ্র। সবাইকে বিনামূল্যে টিকা দিয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। এর মধ্যেই অনেক রাজ্য সরকার ভ্যাকসিনের কাজ করতে চেয়েছিল। ভ্যাকসিনেশনের জন্য কেন বয়সের মাপকাঠি? বয়স্কদের টিকাকরণ আগে কেন হচ্ছে? এই বিষয়ে আলোচনা হওয়ার পর রাজ্যের দাবি ও আগ্রহকে প্রাধান্য দিয়ে টিকাকরণে বদল আনা হয়। উৎসাহকে মান্যতা দিয়ে, ১ মে থেকে ২৫ শতাংশ কাজ রাজ্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়।’

এদিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, ‘ভারতের ইতিহাসে আগে কখনও এতো বেশি করে অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়েনি। অক্সিজেনের প্রয়োজনের কারণে ২ মাসে অক্সিজেনের উৎপাদন দ্বিগুণ বাড়িয়েছি।’ প্রধানমন্ত্রী এও বলেন যে, স্বদেশি ভ্যাকসিন না থাকলে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হত। ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে এদিন ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত দেশের ২৩ কোটি মানুষকে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।

এদিন ভাষণে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, বিশেষজ্ঞরা শিশুদের নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার জন্য ২ প্রতিষেধকের ট্রায়াল চলছে। পাশাপাশি নাকের মাধ্যমে ভ্যাকসিন নিয়েও গবেষণা চলছে। যা ইঞ্জেকশনের বদলে নাকে স্প্রে করা হবে। এই কাজে সফল হলে, ভারতের টিকাকরণ অন্য গতি পাবে। সেক্ষেত্রে টিকাকরণে অনেক সুবিধা হবে।

আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণে মোদী বলেন, ‘আমরা ১০০ শতাংশ টিকাকরণের দিকে এগোচ্ছিলাম, তখনই করোনা আঘাত হানে। সারা বিশ্বের কাছে প্রশ্ন উঠেছিল, ভারত কী করে এত মানুষের ভ্যাকসিনেশন করবে? সব আশঙ্কা উড়িয়ে ভারত ১ বছরের মধ্যে ২ মেড ইন ইন্ডিয়া ভ্যাকসিন লঞ্চ করেছে। আমাদের বিজ্ঞানীরা দেখিয়ে দিয়েছেন, ভারত অন্য দেশের থেকে পিছিয়ে নেই।’

সবশেষে তিনি স্বজনহারাদের উদ্দেশে বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের সঙ্গে আমরা লড়ছি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতও এই লড়াই লড়ছে। আমরা স্বজন হারিয়েছি। তাঁদের প্রত্যেককে আমার সমবেদনা। গত ১০০ বছরের সবচেয়ে বড় মহামারি করোনা। আমাদের দেশ একসঙ্গে লড়েছে।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত দুই মাসে দেশে করোনার দৈনিক সংক্রমণ সবথেকে কম। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৬৩৬ জন। গতকাল, অর্থাৎ রবিবারও এই সংখ্যাটা ছিল ১ লক্ষ ১৪ হাজারের বেশি। পরিসংখ্যান থেকে একথা স্পষ্ট যে, গত দু’মাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবথেকে কম। যা অনেকটাই স্বস্তির খবর, দাবি স্বাস্থ্যমহলের।