কেন কৃষি আইন প্রত্যাহার করল মোদি সরকার? ঠিক কী কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী

কেন কৃষি আইন প্রত্যাহার করল মোদি সরকার? ঠিক কী কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী
কেন কৃষি আইন প্রত্যাহার করল মোদি সরকার? ঠিক কী কী বলেছেন প্রধানমন্ত্রী

কৃষি আইন প্রত্যাহারের জন্য দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে আন্দোলনে বসেছিলেন দেশের কৃষকেরা৷ অবশেষে আজ, গুরুনানক জয়ন্তীতে বিতর্কিত তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করল মোদি সরকার। আজ বিশেষ দিনটি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়েই এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঠিক কী কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

এদিন বক্তব্যের শুরুতেই গুরু নানক জয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানানোর পর কৃষকদের দুর্দশার কথা উঠে আসে মোদির কথায়। প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি কৃষকদের পরিশ্রম, দুর্দশা, নানা প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াইয়ের কথা জানেন। তাই কৃষকদের কল্যাণে সর্বদা বিশেষ নজর দেয় সরকার। যারা দেশের অন্নদাতা, তারাই আর্থিক কষ্টে ভোগেন। এই দুর্দশা দূর করার উদ্দেশ্যেই কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করতে এবং সরাসরি ক্রেতার কাছে ফসল বিক্রির সুবিধা দিতে এই কৃষি আইন আনা হয়েছিল। দেশের ক্ষুদ্র কৃষকরা যাতে উৎপাদিত ফসল নায্য দামে বিক্রি করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই আইন আনা হয়েছিল।

মোদিও আরও বলেন, দেশের অধিকাংশ কৃষকই তিন কৃষি আইন আনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও একাংশ কৃষকরা বিরোধিতা করেছে। আন্দোলনকারীদের নতুন কৃষি আইন সম্পর্কে বোঝাতে একাধিক প্রচেষ্টাও করা হয়েছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “দেশের কৃষিবিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, কৃষি বিশেষজ্ঞরা আন্দোলনকারী কৃষকদের নতুন তিন কৃষি আইনের সুবিধা বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। দু’বছরের জন্য আইন স্থগিত রাখার প্রস্তাবও দিয়েছিলাম। আইনের যে অংশগুলি নিয়ে তাদের সমস্যা ছিল, তা সংশোধনের প্রস্তাবও দিয়েছিলাম।” যদিও এরপরই মোদির বক্তব্য তাতেও ফলপ্রসূ কাজ হয়নি৷ ফলে কৃষকদের কল্যাণেই কৃষি আইন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।

এরপরই আন্দোলনকারী কৃষকদের কৃষি আইনের সুফল বোঝাতে না পারার অক্ষমতার কথা স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়ে নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “হয়তো আমাদের প্রচেষ্টাতেই কোনও খামতি রয়ে গিয়েছে। যে কারণে আমরা কৃষকদের বোঝাতে পারিনি। আমি গোটা দেশকে জানাচ্ছি যে আমরা তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চলতি মাসের শেষেই যে সংসদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে, তাতে কৃষি আইন প্রত্যাহার করার যাবতীয় কাজ শেষ হবে।” পাশাপাশি আন্দোলনকারী কৃষকদের এবার ঘরে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি আন্দোলনরত কৃষক ভাইদের অনুরোধ করছি, আপনারা ঘরে ফিরে যান। আপনাদের চাষের জমিতে ফিরে যান। আমরা সবাই মিলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করি।”

প্রধনামন্ত্রী তথা কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিমধ্যেই আন্দোলনকারী কৃষক থেকে শুরু করে বিরোধী দলগুলি সকলেই স্বাগত জানিয়েছেন। যদিও আইন প্রত্যাহার করে নিলেও কৃষকদের মঙ্গল কামনায় আগামীতেও কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মোদির কথায়, জিরো বাজেট কৃষিকাজের সূচনা করা হবে। কৃষি বিষয়ক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য একটি কমিটিও গঠন হবে। এই কমিটিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা থাকবেন। এছাড়াও কৃষক এবং কৃষি বিশেষজ্ঞরাও এই কমিটির সদস্য হবেন। সকলে একসঙ্গে মিলিত হয়ে কৃষকদের উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবেন বলেই জানান প্রধানমন্ত্রী।