পুলিশি নির্দেশ অমান্য করে লখিমপুর যাওয়ার পথেই আটক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা!

পুলিশি নির্দেশ অমান্য করে লখিমপুর যাওয়ার পথেই আটক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা!
পুলিশি নির্দেশ অমান্য করে লখিমপুর যাওয়ার পথেই আটক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা!

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ পুলিশি নির্দেশ অমান্য করে লখিমপুরে যাওয়ার চেষ্টা করায় মাঝ পথেই আটক হলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ তাঁকে আটক করে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। তাঁকে সীতাপুরের একটি অতিথিনিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

গতকাল কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র ও রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী কেশব মৌর্যর সফরের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রের নয়া তিন কৃষি আইনের প্রতিবাদে সকাল থেকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন এলাকার কৃষকরা। অভিযোগ, সেই সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কনভয়ের একটি গাড়ি ২ কৃষককে পিষে দেয়। সেই গাড়িতে ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে। ওই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হিংসা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। লখিমপুর খেরির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অরুণ কুমার সিং জানিয়েছেন, ওই সংঘর্ষে ৪ কৃষক সহ মোট ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, অজয় মিশ্রের দাবি, তাঁর ছেলে কনভয়ে ছিল না। থাকলে তাকেও পিটিয়ে মেরে ফেলত কৃষকরা।

রবিবারই এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী জানিয়েছিলেন যে, তিনি নিহত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন। যদিও উত্তপ্রদেশের পুলিশের তাঁকে গৃহবন্দী থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে, তিনি রাতেই সেই নির্দেশ অমান্য করে লখিমপুরের দিকে রওনা দেন। যদিও, হারগাওতেই তাঁকে আটকানো হয়। এরপর তিনি পায়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে পুলিশ তাঁকে একটি টোল প্লাজার কাছে বাধা দেয়। এরপরই পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।

এদিকে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে যে, অশান্তি ঠেকাতে গোটা এলাকা জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে না ওঠা পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে লখিমপুরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। তবে, কৃষকদের লখিমপুরে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনও বাধা দেওয়া হবে না বলেই জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, লখনউ থেকে লখিমপুরে যাওয়ার পথে প্রতিটি টোলপ্লাজায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সংবাদমাধ্যম ও রাজননৈতিক নেতৃত্বদের বাধা দিতেই মাঝ সড়কে আড়াআড়িভাবে ট্রাক রেখে দেওয়া হয়েছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী তাঁর গৃহবন্দি থাকার নির্দেশ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, ‘আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোনও অপরাধ করছি না। আমি কেবল নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের দুঃখ ভাগ করে নিতে চাই। এতে কী ভুল রয়েছে? যদি আমি কোনও অপরাধ করে থাকি, তবে উত্তর প্রদেশ পুলিশের কাছে ওয়ারেন্ট থাকা উচিত। আমায় কী কারণে আটকানো হচ্ছে, তা জানানো হোক আগে।’

তিনি গতকালের ঘটনা সম্পর্কে বলেন, ‘এই দেশে কৃষকদের যেভাবে পদদলিত করা হচ্ছে, তাতে আমার কোনও নিন্দার ভাষা নেই। কয়েক মাস ধরে, কৃষকরা তাদের আওয়াজ তোলার চেষ্টা করছে, কিন্তু সরকার শুনতে প্রস্তুত নয়। আজকের ঘটনা দেখাল যে এই সরকার কৃষকদের পিষে ফেলার রাজনীতি করছে। তবে এই দেশ কৃষকদের দেশ।’

রবিবারই প্রিয়ঙ্কা গান্ধী লখনউ বিমানবন্দরে পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে কংগ্রেস নেতা দীপেন্দর এস হুডা, আরাধনা মিশ্র ও প্রমোদ তিওয়ারি। সেখান থেকে সোজা উত্তরপ্রদেশে নিজের বাসভবন লখনউয়ের কউল হাউসে যান। সেখানেই তাঁকে গৃহবন্দি থাকার নির্দেশ দেয় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। প্রিয়ঙ্কাকে গৃহবন্দি থাকার নির্দেশ দেওয়ার পরই কংগ্রেস কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।