বাস্তবের ‘হিরো’! ছুটন্ত ট্রেনের সামনে থেকে শিশু প্রাণ বাঁচানোর জন্য সংবর্ধিত হলেন রেলকর্মী ময়ূর শেলকে

বাস্তবের 'হিরো'! ছুটন্ত ট্রেনের সামনে থেকে শিশু প্রাণ বাঁচানোর জন্য সংবর্ধিত হলেন রেলকর্মী ময়ূর শেলকে
বাস্তবের 'হিরো'! ছুটন্ত ট্রেনের সামনে থেকে শিশু প্রাণ বাঁচানোর জন্য সংবর্ধিত হলেন রেলকর্মী ময়ূর শেলকে

ময়ূর শেলকে। নামটা বোধহয় চেনা চেনা ঠেকছে। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। দিনকয়েক আগে, নিজের জীবন বাজি রেখে ছুটন্ত ট্রেনের সামনে থেকে একটির শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন যিনি, সেই রেলকর্মীর কথাই বলা হচ্ছে। তাঁর এই অসীমসাহসী এবং মানবিক কাজের জন্য এবার রেলমন্ত্রকের তরফ থেকে তাঁকে পুরস্কৃত করা হল। তাঁকে সংবর্ধনা দিলেন স্বয়ং রেলমন্ত্রী পীয়ূষ গোয়েল।

প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় একটি ভিডিও। তাতে দেখা গিয়েছিল, একটি ফাঁকা প্ল্যাটফর্মে একটি ছোট্ট শিশুর হাত ধরে হেঁটে যাচ্ছেন এক অন্ধ মহিলা। এভাবে হাঁটতে হাঁটতে এক সময় প্ল্যাটফর্মের একদম ধারে চলে আসেন তাঁরা। তারপর আচমকাই পা পিছলে রেললাইনে পড়ে যায় শিশুটি। ঠিক সেসময়ই ওই লাইনে একটি ছুটন্ত এক্সপ্রেস ট্রেন আসছিল। যার গতিবেগও ছিল বেশ দ্রুত। তা দেখে মহিলাটি দূর থেকেই শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য তাঁর দিকে হাত বাড়ান। কিন্তু তা শিশুটি অবধি গিয়েই পৌঁছতে পারেনি।

এমতাবস্থায় শিশুটির কপালে সাক্ষাৎ মৃত্যুই হয়তো লেখা ছিল। কিন্তু তা হতে দেননি ময়ূর শেলকে নামক ওই রেলকর্মী৷ ঘটনাটি তাঁর নজরে আসা মাত্রই তড়িঘড়ি ছুটে আসেন তিনি। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই শিশুটিকে লাইন থেকে প্ল্যাটফর্মে তুলে দেন। ঠিক তখনই একদম গা ঘেঁষে বেরিয়ে যায় এক্সপ্রেস ট্রেনটি। অর্থাৎ আর এক সেকেন্ডও দেরি হলে, শিশুটির মৃত্যু ছিল অনিবার্য। কিন্তু রেলকর্মীটির তৎপরতায় নতুন করে জীবন ফিরে পায় সে।

ঘটনাটি ঘটেছিল মুম্বইয়ের বঙ্গানি রেলস্টেশনে। এরপর তা প্রকাশ্যে আসতেই রেলকর্মীটির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে ওঠে তামাম নেটদুনিয়া। তাঁর বীরত্বে গর্বিত হয়েছেন সহকর্মীরাও। এমনকি স্বয়ং রেলমন্ত্রীও বলেন, ময়ূরের কাজে তিনি মুগ্ধ। তাঁর জন্য গর্ব বোধও করেন রেলমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি এও জানান, রেলকর্মী ময়ূর শেলকের এই অসমসাহসী কাজের জন্য তার জন্য অর্থ বা পার্থিব বস্তুর মতো কোনও পুরস্কারই যথেষ্ট নয়। তবুও তাঁর এই মানবিক কাজের জন্য তাঁকে পুরস্কৃত করা হবে। সেই পুরস্কারই এবার তুলে দেওয়া হল রেলকর্মীটির হাতে। ইতিমধ্যেই পুরস্কারস্বরূপ সংবর্ধিতও করা হয়েছে ময়ূরকে।

অন্যদিকে, ফের ময়ূরের প্রশংসায় মজেছেন নেটজনতা। বারবার উঠে আসছে একটাই কথা, ‘ময়ূর শেলকে বাস্তবের সুপারম্যান!’ এত সাহস হয়তো সাধারণ কোনও মানুষের থাকে না। উপরন্তু নিজের জীবন বাজি রেখেই শিশুটিকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। ‘রূপকথার নায়ক’দের থেকে তাই কোনও অংশেই কম নন তিনি!

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.