হোমওয়ার্ক না করায় চরম ‘শাস্তি’! মারতে মারতে ছাত্রের প্রাণই কেড়ে নিলেন শিক্ষক

হোমওয়ার্ক না করায় চরম ‘শাস্তি’! মারতে মারতে ছাত্রের প্রাণই কেড়ে নিলেন শিক্ষক
হোমওয়ার্ক না করায় চরম ‘শাস্তি’! মারতে মারতে ছাত্রের প্রাণই কেড়ে নিলেন শিক্ষক / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ এ কেমন ধরনের শিক্ষকতা? শিক্ষক কি এমনই হন? মা-বাবার পরই উচ্চস্থান দেওয়া হয় শিক্ষাগুরুকে। কিন্তু সেই শিক্ষাগুরুই যখন ছাত্রের জীবনের বড় শত্রু হয়ে দাঁড়ান তখন? এমনই ঘটনা ঘটেছে রাজস্থানে।

হোমওয়ার্ক সম্পূর্ণ না করার জন্য শিক্ষক ছাত্রকে দিলেন চরম শাস্তি। ছাত্রকে পিটিয়ে পিটিয়ে মেরেই ফেললেন শিক্ষক। পাশবিক এবং চূড়ান্ত অমানবিক এই ঘটনা ঘটেছে রাজস্থানের এক বেসরকারি স্কুলে। চুরু জেলার সেই স্কুলের শিক্ষককে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত স্কুলের অনুমোদন সাসপেন্ড করা হয়েছে।

এদিকে, রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী গোবিন্দ সিং দোস্তারি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে স্কুলের অনুমোদন বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। সালাহার থানার শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক সন্দীপ বিষ্ণোই সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন যে, ১৩ বছরের কিশোর গণেশ হোমওয়ার্ক সম্পূর্ণ না করায় তাঁকে ক্লাসের মধ্যেই বেধড়ক মারধর করেন শিক্ষক মনোজ। মারধরের জেরে ক্লাসেই অজ্ঞান হয়ে যায় ওই পড়ুয়া। এরপর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ওই পড়ুয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষক নাকি ছাত্রের বাবাকে বলেন, তাঁর ছেলে অজ্ঞান হয়ে গেছে শুধু। মারা যায়নি, সে মারা যাওয়ার ভান করছে। এই ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এদিকে, স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রাজস্থানের রাজ্য মানবাধিকার কমিশনও একটি নোটিস পাঠিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষকে।

অন্যদিকে, ওই স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাড়াও জেলার আধিকারিক, পুলিশ সুপার-সহ সংশ্লিষ্ট দফতরের এই ঘটনায় জবাব তলব করল মানবাধিকার কমিশন এক সপ্তাহের মধ্যে। কমিশনের চেয়ারম্যান গোপালকৃষ্ণ ব্যাস নোটিসে জানতে চেয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক, স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এর আগেও কোনও অভিভাবক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন কি না তাও জানতে চেয়েছেন তিনি।