দশমীতে বৈশাখীর সিঁথিতে সিঁদুর, ‘রক্ষিতা’ কটাক্ষ রত্নার! পাল্টা জবাব বৈশাখীর

দশমীতে বৈশাখীর সিঁথিতে সিঁদুর, 'রক্ষিতা' কটাক্ষ রত্নার! পাল্টা জবাব বৈশাখীর
দশমীতে বৈশাখীর সিঁথিতে সিঁদুর, 'রক্ষিতা' কটাক্ষ রত্নার! পাল্টা জবাব বৈশাখীর

ফের একবার খবরের শিরোনামে উঠে এলেন শোভন-বৈশাখী ও রত্না। ঘটনার সূত্রপাত, বিজয়া দশমীর দিন সিঁদুর খেলার সময়। সেদিন বৈশাখীর সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে দেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। সেই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে নিজের আনন্দের কথা প্রকাশ করেন শোভন-বান্ধবী। তারপরই শুরু হয়েছে জোর তরজা৷ বৈশাখীকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন শোভন-পত্নী রত্না৷ বৈশাখীও ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নন। পাল্টা জবাব দেন তিনিও। সব মিলিয়ে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেন কুরুক্ষেত্র বেঁধে গিয়েছে।

বৈশাখীর সিঁথিতে সিঁদুর পরানোর পর শনিবার নীরবতা ভেঙে মুখ খোলেন শোভন-পত্নী রত্না চট্টোপাধ্যায়। ঘটনাকে নিয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর দাবী, “হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী, এখনও আমিই শোভনের স্ত্রী। তাই ও অন্য কাউকে সিঁদুর পরাতে পারে না।” শুধু তাই নয়, পাশাপাশি রত্না এও বলেন, “স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ অন্য মহিলার সঙ্গে বসবাস করে, তাহলে সেই মহিলাকে সমাজ ‘রক্ষিতা’ বলে। আর রক্ষিতাকে সিঁদুর পরালেই সে ‘স্ত্রী’ হয়ে যায় না।” এমনকি শোভন-বৈশাখীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রত্নার মন্তব্য, “ওরা বিয়ের পরিকল্পনা করলে করুক, আমি দেখব কী করতে পারি।”

শোভন-পত্নীর এহেন মন্তব্যের পর অবশ্য চুপ করে থাকেননি বৈশাখীও। পাল্টা জবাব দিয়ে তিনি বলেন, “আমি ওর (রত্নার) বাণীগুলো শুনলাম। কিন্তু আমি কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি নই। কারণ, আমার জীবনে ওর কোনও অস্তিত্বই নেই।” পাশাপাশি রত্নাকে একহাত নিয়ে তাঁকে ‘আশ্রিতা’ বলেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বৈশাখী। তাঁর কথায়, “ও (রত্না) এখন যে বাড়িতে থাকেন, সেটা তো আমি কিনে নিয়েছি। রক্ষিতার বাড়িতে ‘আশ্রিতা’ হয়ে আছেন কেন? এখন তো ছুটি চলছে। ছুটি মিটলেই বাড়ি ছাড়ার নোটিশ পাঠাবো।”

একইসঙ্গে শোভনের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে বৈশাখীর স্পষ্ট জবাব, “এটা আমার আর শোভনের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। শোভন যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা শোভনের। আমি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তা আমার। আর এই সম্পর্কটা গুরুত্বপূর্ণ না হলে শোভন এটাকে স্বীকৃতি দিত না। কোনটা গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, তা সমাজ ঠিক করে দেবে না। অনেক রাজনীতিকেরই বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। শোভনের বেলায় কেন এত কাদা ছোড়াছুড়ি?” একইসঙ্গে বৈশাখীর সংযোজন, “শোভন চাইলে প্রতিক্রিয়া দিতে পারেন। আমি দেব না। ও (রত্না) বেঁচেই থাকে আমার নাম করে। ওটা আমাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এখানে কারও কিছু বলার থাকতে পারে না।” যদিও এই নিয়ে এখনো পর্যন্ত শোভনকে কোনরকম কথা বলতে শোনা যায়নি।

অন্যদিকে, স্বামী মনোজিৎ মণ্ডলের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ প্রসঙ্গে এদিন বৈশাখী জানান, “মনোজিৎকে যে দিন আমি মন থেকে মুছে ফেলেছি, সে দিনই আমাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। খাতায় কলমে কী রইল, তা নিয়ে ভাবিত নই।”