সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া নিষিদ্ধ! এই ‘মিথ’-এর পিছনে লুকিয়ে কোন পৌরাণিক কাহিনী?

সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া নিষিদ্ধ! এই 'মিথ'-এর পিছনে লুকিয়ে কোন পৌরাণিক কাহিনী?
সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া নিষিদ্ধ! এই 'মিথ'-এর পিছনে লুকিয়ে কোন পৌরাণিক কাহিনী?

আর মাত্র হাতে গোণা কয়েকটা দিন। তারপরই সরস্বতী পুজো। আর বাগদেবী আরাধণার প্রসঙ্গ উঠলেই আসবে কুল খাওয়ার কথা। আমরা যারা মোটামুটি নব্বইয়ের দশকে বড় হয়েছি, ছোটবেলা থেকে তারা একটিই কথা শুনে এসেছি। তা হল, সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া নাকি নিষিদ্ধ! দেবীকে উৎসর্গ করে তবেই নাকি মুখে পুরতে পারব কুল৷ নাহলে ঠাকুর নাকি পাপ দেবেন। ঠিক এরকমই এক বিশ্বাস নিয়ে বড় হয়েছি আমরা।

সেসময় সরস্বতী পুজোর পরই হত বার্ষিক পরীক্ষা। আর তাই বিদ্যার দেবীকে সন্তুষ্ট রাখতে পুজোর আগে কুল খাওয়া নৈব নৈব চ! তাই যতদিন না সরস্বতী পুজো কাটছে, কুল খাওয়ার ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকতে হতো। কিন্তু এই ‘মিথ’-এর পিছনে আসল কাহিনী কি কারোর জানা রয়েছে? সত্যিই কি শাস্ত্রে লেখা রয়েছে সরস্বতী পুজোর আগে কুল খাওয়া বারণের কথা? আসুন জেনে নিই তা…

পুরাণ অনুসারে, দেবী সরস্বতীকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে মহামুনি ব্যাসদেব একবার বদ্রিকাশ্রমে তপস্যা করার সিদ্ধান্ত নেন৷ কিন্তু তপস্যা শুরুর আগেই দেবী সরস্বতী একটি শর্ত দিলেন। তাঁকে একটি কুল বীজ দিয়ে দেবী জানান, এই বীজ থেকে গাছ হয়ে তাতে কুল ধরবে। সেই কুল যেদিন ব্যাসদেবের মাথায় পড়বে, সেদিনই তিনি সন্তুষ্ট হবেন। তখনই ব্যাসদেবের তপস্যা সম্পূর্ণ হবে। মহামুনি শর্ত মেনে তপস্যা শুরু করলেন।

এরপর সেই বীজ থেকে কুল গাছ জন্মাল। তাতে কুলও ধরল। কিছুকাল পরে কুল পেকে ব্যাসদেবের মাথায় পড়ল তা। তিথি হিসাবে সেদিন ছিল পঞ্চমী। তাই, সেদিনই দেবী সরস্বতীকে বন্দনা করে তাঁকে প্রসাদ হিসাবে কুল নিবেদন করলেন ব্যাসদেব। তারপর থেকেই দেবীর আরাধনায় কুল এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। আর বিশ্বাস অনুযায়ী, তখন থেকেই সরস্বতী পুজোর প্রসাদ হিসেবেই মরসুমের প্রথম কুল খাওয়া হয়ে থাকে। সেই বিশ্বাস চলে আসছে আজও। তাই বিদ্যা দেবীকে নিবেদন করার আগে কুল খাওয়া এখনও নিষিদ্ধ আমাদের কাছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.