আধখানা ফুসফুস নিয়ে এখন লড়াই ঐন্দ্রিলার! হৃদয় বিদারক পোস্ট পাশের থাকা বন্ধু সব্যসাচীর

আধখানা ফুসফুস নিয়ে এখন লড়াই ঐন্দ্রিলার! হৃদয় বিদারক পোস্ট পাশের থাকা বন্ধু সব্যসাচীর
আধখানা ফুসফুস নিয়ে এখন লড়াই ঐন্দ্রিলার! হৃদয় বিদারক পোস্ট পাশের থাকা বন্ধু সব্যসাচীর

বংনিউজ২৪x৭ ডেস্কঃ জিয়ন কাঠি খ্যাত ঐন্দ্রিলা শর্মা বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন দিল্লির বেসরকারি হসপিটালে। সূত্রের খবর কাঁধে প্রচণ্ড ব্যাথা নিয়ে হসপিটালে ভর্তি হন অভিনেত্রী। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর বৃহস্পতিবারের রিপোর্ট অনুযায়ী ফুসফুসে টিউমার ধরা পড়ে অভিনেত্রীর। এই যুদ্ধের শুরু সেই ২০১৫ সাল থেকে। এর আগেও ক্যানসারে আক্রান্ত হন অভিনেত্রী। তখন ভর্তি ছিলেন দিল্লির এইমস হসপিটালে। বহু প্রতিকুলতার পর অবশেষে ক্যানসার জয় করতে সক্ষম হন অভিনেত্রী। অবশ্য সেই সময় নিজের পড়াশোনা এবং অভিনয় চালিয়ে যান।

তবে অভিনেত্রীর এই লড়াইয়ে প্রত্যেকটা মুহূর্ত তাঁর সঙ্গে থাকছেন সব্যসাচী। মাঝে মধ্যেই ফেসবুকে ঐন্দ্রিলার শারীরিক অবস্থার বিবরণ দেন তিনি। তাঁর কথাতে স্পষ্ট ভাবে ফুটে ওঠে হতাশা, অভিনেত্রীর প্রতি তাঁর কষ্ট, আবেগ। প্রতিটি শব্দে বোঝা যায় কতটা লড়াই করছেন প্রতিদিন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি সব্যসাচি লিখলেন “ প্রতি মাসের শেষে ঐন্দ্রিলাকে নিয়ে লেখাটা আমার প্রায় রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে সারা মাস ধরে বহু সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নানান পত্রপত্রিকা এবং সংবাদমাধ্যম আমায় নিয়মিত প্রশ্ন করেন ওর বিষয়ে। আমি কাউকেই বিশেষ কিছু বলি না, আসলে ‘ভালো আছে’ বলতে আমার ভয় লাগে। সত্যি বলতে, চোখের সামনে আমি যা দেখেছি এবং নিয়মিত দেখছি, সেটাতে ভালো থাকা বলে না, সেটাকে অস্তিত্বের লড়াই বলে। অবশ্য এইসব খটোমটো কথা কেবলমাত্র আমিই বলি, ওকে যদি কেউ জিজ্ঞাসা করে তাহলে এক গাল হেসে উত্তর দেবে “খুব ভালো আছি, আমার রাশিফল ভালো যাচ্ছে।”

তিনি আরও লেখেন “ প্রতিবার যখন ডাক্তার বলেন চিকিৎসার সময় বাড়াতে, ওর মুখটা যন্ত্রনায় কুঁকড়ে যায়। প্রতিবার কেমো নেওয়ার পর কয়েক রাত অসহ্য যন্ত্রনায় ছটফট করে। শুয়ে থাকলে মনে হয়ে বুকে পাথর চেপে বসছে, আবার উঠে বসলে শ্বাস নিতে পারে না। রক্তচাপ মাঝেমধ্যেই ৮০/৪০ এ এসে ঠেকে। খাওয়ার ইচ্ছা এবং স্বাদ চলে যায়। আধখানা ফুসফুস বাদ যাওয়াতে সবটাই বড় কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুব কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে একপ্রকার অচেতন করে রাখা হয় ওই কয়েকটা দিন। তবে বাকি দিনগুলিতে দিব্যি ঠিক থাকে, পুজোর জন্য অনলাইন শপিং, আমার ওপর হম্বিতম্বি, লেজওয়ালা বাচ্চাদের তদারকি, সবটাই পরিপাটি করে পালন করে।“ এই প্রত্যেকটা কথায় উঠে আসে অভিনেতার ভেতরে চেপে থাকা কষ্ট। এর আগেও ঐন্দ্রিলাকে ফিনিফ পাখির সঙ্গে তুলনা করেছিলেন অভিনেতা। গল্পের এই পাখি যেমন ছাই হয়ে আবার জীবন্ত হয় তেমনই তাঁর বিশ্বাস ঐন্দ্রিলাও আবার ফিরে আসবে শুটিং ফ্লোরে।