কেমিস্ট্রিতে স্নাতক, তাও মেলেনি চাকরি! সংসার চালাতে বাস কন্ডাক্টরির পেশা বেছে নিয়েছেন গৃহবধূ

কেমিস্ট্রিতে স্নাতক, তাও মেলেনি চাকরি! সংসার চালাতে বাস কন্ডাক্টরির পেশা বেছে নিয়েছেন গৃহবধূ
কেমিস্ট্রিতে স্নাতক, তাও মেলেনি চাকরি! সংসার চালাতে বাস কন্ডাক্টরির পেশা বেছে নিয়েছেন গৃহবধূ

রসায়নে স্নাতক। কিন্তু শত চেষ্টাতেও মেলেনি সরকারি চাকরি। বাধ্য হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে বাস কন্ডাক্টরির পথ বেছে নিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণার বাসিন্দা সাগরিকা। প্রায় এক বছর হল নিজে বাস কিনে পরিবহন ব্যবসা শুরু করেছেন এই গৃহবধূ। চন্দ্রকোণা থেকে কলকাতা স্টেশন পর্যন্ত চলা সেই বাসেই এখন কন্ডাক্টরি করছেন তিনি৷ পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই ব্যবসায় ইতিমধ্যেই সাফল্যের মুখও দেখেছেন সাগরিকা।

ছোট থেকেই মেধাবী সাগরিকা বিজ্ঞান শাখায় পড়াশোনা করে রসায়ন বিদ্যায় স্নাতকও হন। কিন্তু তারপর বহু চেষ্টা করেও সরকারি চাকরি মেলেনি। স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে নিজে বাস কিনে চন্দ্রকোনা থেকে কলকাতা স্টেশন পর্যন্ত চলার রুট পারমিট বের করেন ফেলেন সাগরিকা। তারপর সেই বাসেই কন্ডাক্টরি শুরু করেন সাগরিকা৷ বিগত ৬ মাস ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত তিনি। মহিলারা যে পুরুষদের থেকে কোনও অংশে কম যান না, তারই জ্বলন্ত উদাহরণ চন্দ্রকোণার এই গৃহবধূ। অবশ্য এই কাজে সাহায্য করেন তাঁর স্বামীও।

কেমিস্ট্রিতে স্নাতক, তাও মেলেনি চাকরি! সংসার চালাতে বাস কন্ডাক্টরির পেশা বেছে নিয়েছেন গৃহবধূ
কেমিস্ট্রিতে স্নাতক, তাও মেলেনি চাকরি! সংসার চালাতে বাস কন্ডাক্টরির পেশা বেছে নিয়েছেন গৃহবধূ

যেহেতু বাসটি দূরপাল্লার তাই প্রতিদিন ভোর তিনটেয় ঘুম থেকে উঠে সংসারের কাজ সামলে নিজেকে প্রস্তুত করেন সাগরিকা। তারপর কাঁধে কন্ডাক্টরির ব্যাগ নিয়ে ৫টার মধ্যেই চন্দ্রকোণা টাউন কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছতে হয়। সওয়া পাঁচটা নাগাদ চন্দ্রকোণা টাউন ছেড়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় তাঁর বাস। যাত্রীরা একে একে উঠতে শুরু করলে শুরু হয় সাগরিকার টিকিট কাটার কাজও। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাত্রীদের নামানো, যানজটের মধ্যে চালককে পরামর্শ দেওয়া ইত্যাদি কাজও সামলাতে হয়। দিনের শেষে আবার একইভাবে কন্ডাক্টরি করতে করতে বাস নিয়ে চন্দ্রকোণায় ফিরে আসেন সেই গৃহবধূ।

কিন্তু হঠাৎ এই কাজ বেছে নিলেন কেন সাগরিকা? চন্দ্রকোণার ওই গৃহবধূর কথায়, “পড়াশোনায় ভাল ফল করেও চাকরি পাইনি। তাই স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য পরিবহন ব্যবসাকে বেছে নিয়েছি। যদিও প্রথমদিকে আমার কন্ডাক্টরির কাজ আত্মীয়-পরিজন থেকে পরিবারের লোকেরাও মেনে নিতে পারেননি। কিন্তু মানসিক জোর নিয়ে শত বাধা উপেক্ষা করে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে এভাবেই এগিয়ে চলছি।”

নাহ! প্রতিদিন এত খাটনির কাজ করেও চোখে-মুখে এতটুকু ক্লান্তির কোনও ছাপ নেই। বরং এভাবেই দূরপাল্লার গাড়িতে কন্ডাক্টরি তাক লাগিয়ে দিচ্ছেন বিজ্ঞানে স্নাতক এই গৃহবধূ। স্বনির্ভরশীল হওয়ার অদম্য জেদ ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে ছকভাঙা পথে এগিয়ে গড়ছেন নিজস্ব পরিচিতির পথ। সাগরিকার এই প্রচেষ্টাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ থেকে পরিবহন দপ্তরের কর্মীরাও।