ফের ড্রোন আতঙ্ক! জম্মুর সেনা ছাউনির আশেপাশে উড়তে দেখা গেল সন্দেহভাজন ড্রোন, জারি সতর্কতা

ফের ড্রোন আতঙ্ক! জম্মুর সেনা ছাউনির আশেপাশে উড়তে দেখা গেল সন্দেহভাজন ড্রোন, জারি সতর্কতা
ফের ড্রোন আতঙ্ক! জম্মুর সেনা ছাউনির আশেপাশে উড়তে দেখা গেল সন্দেহভাজন ড্রোন, জারি সতর্কতা / প্রতীকী ছবি

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ জম্মু ও কাশ্মীরে ড্রোন আতঙ্ক অব্যাহত। জম্মু বিমানবন্দরের এয়ারফোর্স স্টেশনে বিস্ফোরক হামলার পরেও একাধিকবার জম্মুর আকাশে দেখা গিয়েছে ড্রোন। এক নাগাড়ে চতুর্থ দিনেও ভারতীয় সেনা ঘাঁটির আশেপাশে উড়তে দেখা গেল, সন্দেহভাজন ড্রোন। এর জেরে উপত্যকার সর্বত্র জারি করা হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা।

সূত্রের খবর, বুধবার ভোর ৪ বেজে ৪০ মিনিট থেকে ৫ টার মধ্যে জম্মুর ভারতীয় সেনা ঘাঁটিগুলির কাছে ড্রোনের দেখা পাওয়া গিয়েছে। এই জায়গাগুলি হল কালুচক, মিরান সাহেব ও কুঞ্জওয়ানি। জম্মু শহরে অবস্থিত কুঞ্জয়ীনী এলাকা, সাতওয়ারি এয়ারফোর্স স্টেশনের খুব কাছেই অবস্থিত। সুঞ্জওয়ান থেকে এয়ারফোর্স স্টেশনের দূরত্ব ৬.৫ কিলোমিটার এবং কালুচক থেকে দূরত্ব ৪.৫ কিলোমিটার। রবিবার রাতেও জম্মুর কালুচক মিলিটারি স্টেশনের কাছে আকাশে দুটি আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেল (UAV) বা ড্রোন দেখতে পান নিরাপত্তারক্ষীরা। বিগত চারদিনে প্রায় সাতটি ড্রোনের হদিশ মিলেছে জম্মুতে। এর জেরে প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কেন্দ্রশাসিত প্রদেশ জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশপ্রধান আইজিপি বিজয় কুমার জানিয়েছেন যে, উপত্যকার সব জায়গায় হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। তাঁর কথায়, এভাবে ঘনঘন আকাশে ড্রোনের দেখা পাওয়া বিপদের সংকেত দিচ্ছে। নিয়ন্ত্ররেখা সংলগ্ন এলাকাগুলিতে সেক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জারি হয়েছে। তিনি এও জানিয়েছেন যে, এভাবে ড্রোনের আনাগোনা ‘নতুন টেকনিক্যাল থ্রেট’। জম্মুর কালুচক ও কুঞ্জওয়ানির সেনাঘাঁটিগুলির কাছে এর আগেও ড্রোনের দেখা পাওয়া গিয়েছে। ঘনঘন ড্রোনের দেখা পাওয়ায় ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ড্রোনের মাধ্যমে ফের হামলা চালাতে পারে, পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা। এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শনিবার গভীর রাতে জোড়া বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে জম্মু বিমানবন্দরের এয়ার ফোর্স স্টেশন। এই বিস্ফোরণের জেরে ব্যাপক হারে ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, এই হামলা নতুন করে সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কা তৈরি করে। এই হামলার সঙ্গে এই প্রথমবার ভারতীয় সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাতে ব্যবহার করা হয়েছে ড্রোনের।

এর আগে সীমান্ত পার করে এদেশে অস্ত্র পাচারের উদ্দেশ্যেই ব্যবহার হত ড্রোনের। আর এবার এই ছোট্ট যন্ত্রের সাহায্য সরাসরি বিস্ফোরক ছুঁড়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে রাখা এলাকায় হামলা চালাতে এই ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তাই ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আরও বেশি করে সতর্ক হতে হবে।

তাছাড়া শনিবার গভীর রাতে, ড্রোনের মাধ্যমে জম্মুর এয়ারফোর্স স্টেশনে বিস্ফোরণ এবং তারপরে বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা থেকে অবন্তিপোরায় স্পেশাল পুলিস অফিসারের বাড়িতে হামলার ঘটনায় পাকিস্তান যোগকেই সামনে আনছেন কাশ্মীরের পুলিশ কর্তারা। আর তাই এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই, রাষ্ট্রসংঘে মুখ খুলে ভারত। পাশাপাশি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সুর আরও চড়িয়েছে নয়াদিল্লি। এই ধরনের নাশকতা যে ভবিষ্যতের জন্য বড় বিপদ, তা উল্লেখ করেই সরব হয় ভারত।