শান্তিপুর জোড়া খুন কাণ্ডে নয়া মোড়! রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত শত্রুতাই খুনের নেপথ্যে, বক্তব্য পরিবারের

শান্তিপুর জোড়া খুন কাণ্ডে নয়া মোড়! রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত শত্রুতাই খুনের নেপথ্যে, বক্তব্য পরিবারের
শান্তিপুর জোড়া খুন কাণ্ডে নয়া মোড়! রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত শত্রুতাই খুনের নেপথ্যে, বক্তব্য পরিবারের / নিজস্ব ছবি

নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়াঃ একুশের নির্বাচনের আগে জেলায় জেলায় অশান্তি, খুন, রক্তপাতের ঘটনা শুরু হয়েছে গেছে। রাত পোহালেই রাজ্যের ৫ জেলায় রয়েছে প্রথম দফার ভোট। এদিকে বৃহস্পতিবার জোড়া মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তুমুল চাঞ্চল্য ছড়ায় নদিয়ার শান্তিপুরে।

বৃহস্পতিবার সকালে ৬ টা নাগাদ নৃসিংহপুরের মেথিডাঙার কলাবাগান থেকে দুই যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। দু’জনেই বন্ধু অন্তপ্রাণ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। প্রথমে এই মৃতদেহ দুটি দেখতে পান এলাকারই কৃষকরা। এরপরেই থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে জোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করে। বিজেপির পক্ষ থেকে জোড়া মৃতদেহ উদ্ধারের পর অভিযোগ করা হয় যে, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী ওই দুই যুবককে খুন করেছে, এবং তাঁদের আরও দাবি ছিল মৃত প্রতাপ বর্মন বিজেপি দলের সক্রিয় কর্মী। তবে অপরজনও তাঁদের সমর্থক বলে দাবি করেন সাংসদ জগন্নাথ সরকার। এই ঘটনায় এদিন সকাল থেকেই থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা।

এদিকে এই জোড়া খুন কাণ্ডে নতুন তথ্য সামনে আসছে। এই খুনের পিছনে রাজনৈতিক নয়, ব্যক্তিগত শত্রুতাই রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে মৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে। মৃত দুই যুবকের নাম দীপঙ্কর বিশ্বাস ও প্রতাপ বর্মণ। এঁরা দুজনেই অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন বলে তাঁদের পরিবার সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে খবর, এদের মধ্যে প্রতাপ বর্মণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল মঞ্জু দাস নামে এক মহিলার। এই মহিলা আবার প্রতাপের বন্ধু তথা নিহত ওপর ব্যক্তি দীপঙ্কর বিশ্বাসকে ভাই পাতিয়েছিল। এই সুবাদেই দীপঙ্করের বাড়িতে যাতায়াত ছিল মাঝ বয়সী, ওই মহিলার। যেদিন রাতে ওই দুই বন্ধু খুন হন, সেই দিন দুপুরেও ওই মহিলার আগমন হয়, দীপঙ্করের বাড়িতে।

মৃত দীপঙ্করের স্ত্রী রীতা বিশ্বাস জানিয়েছন যে, ওইদিন মঞ্জু দাস নামক ওই মহিলার চার-চারটি এন্ড্রয়েড মোবাইলে ঘন ঘন ফোন আসছিল। এরপর সন্ধ্যায় নিহত দুই বন্ধুর ওপর এক বন্ধু অক্ষয় নামক একজনকে শান্তিপুর স্টেশনে আনতে যায় প্রতাপ এবং দীপঙ্কর। একই সঙ্গে কাজ করার সুবাদে প্রতাপ এবং দীপঙ্করের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল গভীর। দীপঙ্করের স্ত্রী রীতা বিশ্বাস জানিয়েছন যে, সেদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে, প্রতাপ বর্মণ দীপঙ্করের স্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘দাদাকে আমি নিয়ে যাচ্ছি, দায়িত্ব সহকারে ফিরিয়ে নিয়ে আসব।’ এরপরই তাঁরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।

আর তাঁরা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকে দুজনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। কারোর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। এদিকে পরের দিন সকালে তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনার খবর পেয়ে, প্রতাপের পরিচিত ওই মহিলা মঞ্জু দাস এবং দীপঙ্করের স্ত্রী শান্তিপুর থানার উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু থানায় না গিয়ে মাঝপথেই নেমে যান মঞ্জু দাস। এই মঞ্জু দাসকে নিয়ে ক্রমশ রহস্য দানা বাঁধছে।

তবে, গতকালই ওই মহিলাকে গ্রেফতার করেছে শান্তিপুর থানার পুলিশ। যদিও কলকাতায় কর্মরত অক্ষয়ের পরিবার থেকে জানানো হয়েছে যে, তিনি গত এক সপ্তাহ ধরে মোবাইল ফোন খারাপ থাকার কারণে বাড়ির সঙ্গে কোন যোগাযোগ করতে পারেননি। এমনকি তাঁর শান্তিপুরে আসার প্রশ্নই ওঠে না। সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে জেলা পুলিশ। তবে, বিষয়টি যে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক তা স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমশই। মৃতদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, এবং আটক ওই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদের সুবাদে খুনের রহস্যের কিনারা হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এদিকে আজ আরও একবার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় জেলা পুলিশের এডিশনাল এসপি এবং এসডিপিও।

দুই পরিবারই স্বীকার করেছে, এই ঘটনায় কোন রাজনৈতিক যোগসাজশ নেই। শুধুমাত্র ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেই ঘটেছে এই ঘটনা। এমনকি ওই দুটি পরিবার অকপটে স্বীকার করেন মাঝেমধ্যেই গাঁজা সেবনের অভ্যাস ছিল ওই মৃত দুই বন্ধুর।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.