বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

দেশের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসে জেনে নিন জাতীয় পতাকা সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য!

১২:০৬ এএম, আগস্ট ১৫, ২০২১

দেশের ৭৫তম স্বাধীনতা দিবসে জেনে নিন জাতীয় পতাকা সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য!

আজ, ১৫ অগাস্ট। ভারতের ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন হয় আমাদের দেশ, ভারত। বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর কঠিন লড়াইয়ের ঘাম-রক্তের বিনিময়েই মিলেছে আজকের এই স্বাধীনতা। তাঁদের আত্মত্যাগ, বলিদানেই আজ ভারত হয়ে উঠেছে বিশ্বের বৃহত্তম এক গণতন্ত্র। সেই উপলক্ষ্যে প্রতি বছর ১৫ অগাস্ট পালিত হয় ভারতের স্বাধীনতা দিবস। এদিন নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মান জানানো হয় দেশ-মাতৃকাকে। স্মরণ করা হয় আত্মত্যাগী বীর বিপ্লবীদের।

প্রতি বছরই দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লায় জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান। এই দিন দেশের প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তবে এবছর করোনা আবহে সমস্ত বিধি-নিয়ম মেনে ছোট অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়েই পালিত হবে এই বিশেষ দিনটি। উল্লেখ্য, স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িয়ে জাতীয় পতাকা বা তিরঙ্গা। এই পতাকা সমগ্র দেশবাসীর অহংকার এবং আশা ও আকাঙ্খার প্রতিনিধি। কিন্তু এই পতাকা সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি? আজ এই বিশেষ দিনে একনজরে দেখে নেওয়া যাক জাতীয় পতাকার কিছু অজানা তথ্য...

দেশে জাতীয় পতাকা কবে গৃহীত হয়? ২২ জুলাই ১৯৪৭ সালে ভারতের ভারতীয় পতাকা গৃহীত হয়।

জাতীয় পতাকার নকশা কে তৈরি করেন? জাতীয় পতাকার নকশা তৈরি করেছিলেন পিঙ্গালি ভেঙ্কাইয়া। তিনি ছিলেন অন্ধ্র প্রদেশের এক স্বাধীনতা সংগ্রামী।

কোন কাপড় দিয়ে তৈরি হয় জাতীয় পতাকা? আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা সর্বদা খাদি কাপড়ে তৈরি হয়। খাদি কাপড়, এক বিশেষ ধরনের হস্তচালিত তাঁত দিয়ে তৈরি হয়। দেশবাসীর কাছে এই কাপড়ের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী সহ বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন।

কোন জায়গাতে তৈরি হয় পতাকার কাপড়? বর্তমানে জাতীয় পতাকার আসল কাপড় তৈরি হয় দেশের একটি মাত্র অঞ্চলেই। তা হল কর্নাটক খাদি গ্রামোদ্যোগ সংযুক্ত সংঘ বা কেকেজিএসএস। এটিই ভারতের একমাত্র লাইসেন্স-প্রাপ্ত জাতীয় পতাকা উৎপাদন ও সরবরাহ ইউনিট।

পতাকার রঙ কিসের প্রতীক? বর্তমানে জাতীয় পতাকায় মোট ৪ টি রঙ। উপরে গেরুয়া, মাঝে সাদা ও সবার নীচে গাঢ় সবুজ। মাঝে গাঢ় নীল অশোকচক্র। গেরুয়া রঙ ত্যাগ ও বৈরাগ্যের প্রতীক, সাদা রঙ সত্য, শান্তি ও পবিত্রতার প্রতীকও সবুজ রঙ সমৃদ্ধি ও সাহসের প্রতীক। পতাকার মাঝের সাদা অংশে ২৪টি নীল রঙের দণ্ডযুক্ত অশোকচক্র বিদ্যমান। অশোক চক্র ধর্ম অনুশাসনের প্রতীক।

কলকাতায় ও বিদেশে প্রথম কবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হয়? দেশের জাতীয় পতাকা কলকাতায় প্রথমবার ১৯০৬ সালের ৭ অগাস্ট উত্তোলন করা হয়। কলকাতার পার্সি বাগান স্কোয়ারে উত্তোলিত হয় এই পতাকা। ‌সেই সময় এই পতাকায় উপরে, মধ্যে ও নীচে যথাক্রমে লাল, হলুদ ও সবুজ রঙের তিনটি আনুভূমিক ডোরা ছিল। অন্যদিকে, বিদেশের মাটিতে প্রথম এই দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ভিকাজি রুস্তম কামা।

এভারেস্টের চূড়ায় প্রথম তিরঙ্গা কবে স্থান পায়? ১৯৫৩ সালের ২৯ মে পর্বতারোহী তেনজিং নোরগে প্রথমবার মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

পতাকাবিধির সংস্করণ এবং পতাকা উত্তোলন সঠিক সময় কোনটি? ২০০২ সালের আগে স্বাধীনতা দিবস ও প্রজাতন্ত্র দিবস ছাড়া অন্য কোনও দিন জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অনুমতি ছিল না দেশের সাধারণ নাগরিকদের। ২০০২ সালে, সুপ্রিম কোর্ট পতাকা জাতীয় পতাকাবিধি সংস্করণ করে। সেই পতাকাবিধি অনুযায়ী, মর্যাদা, গৌরব ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে বছরের যে কোনো দিনই জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারেন ভারতীয় নাগরিকরা।

তবে পতাকাবিধি অনুযায়ী, সকালের দিকে পতাকা উত্তোলন করতে হবে। সেখানে অন্য কোনও পতাকা বা প্রতীক থাকা চলবে না। বিশেষ ক্ষেত্রে সরকারি ভবনে রাতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনে রীতি রয়েছে। জাতীয় পতাকাকে কখনই মাটি বা জল স্পর্শ করানো যাবে না। কখনও উল্টো করেও রাখা হবে না।

সরকারি গাড়ির কোনদিকে পতাকা রাখা উচিৎ? পতাকা বিধি অনুযায়ী, কোনও বিদেশি প্রতিনিধি এ দেশের সরকারি গাড়ি ব্যবহার করার সময় গাড়ির ডানদিকে এই পতাকা থাকবে। বিদেশে ভারতের প্রতিনিধির গাড়িতে বামদিকে থাকবে জাতীয় পতাকা।