শান্তিনিকেতনের বিখ্যাত বসন্তোৎসব! কীভাবে শুরু হয়েছিল এই উৎসব? পড়ুন এই কাহিনী

শান্তিনিকেতনের বিখ্যাত বসন্তোৎসব! কীভাবে শুরু হয়েছিল এই উৎসব? পড়ুন এই কাহিনী
শান্তিনিকেতনের বিখ্যাত বসন্তোৎসব! কীভাবে শুরু হয়েছিল এই উৎসব? পড়ুন এই কাহিনী

আর মাত্র দু’দিন৷ তারপরই আসছে বাঙালির রঙের উৎসব, বসন্তোৎসব। রঙ-আবিরের খেলায় মেতে উঠবে আপামর বাঙালি। তবে বসন্তোৎসব বললেই বাঙালির মননে যে ছবি ফুটে ওঠে, তা বাংলার শান্তিনিকেতনের বিখ্যাত বসন্তোৎসবের। দোলের দিন রঙ-আবিরের মায়ায় এবং কৃষ্ণচূড়া, পলাশের লাল সমারোহে রীতিমতো রঙিন হয়ে ওঠে রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতন। এছাড়াও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে অনুষ্ঠিত বসন্তোৎসবে থাকে নাচ-গান-নৃত্য নাট্য আর আবির খেলার আয়োজন৷ সবে মিলিয়ে শান্তিনিকেতনের উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে বাঙালি৷

তবে শান্তিনিকেতনে দোল পূর্ণিমা তিথিতে যে উৎসব হয় তা কিন্তু দোল উৎসব নয়, বসন্তোৎসব। দোলযাত্রা তিথি-নক্ষত্র মেনে হলেও বসন্তোৎসবের সেরকম কোনও রীতি নেই। এটি নিছকই রঙিন এক উৎসব। যা শুরু হয়েছিল ঋতুরাজ বসন্তকে স্বাগত জানাতেই। কিন্তু ঠিক কবে থেকে শুরু হয়েছিল এই উৎসবের প্রথা? শুরুই বা কে করেছিলেন? আসুন জেনে নিই সেই কাহিনীই।

শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে নেই কোনও ধর্মীয় ভাবাবেগ। ইতিহাস জানাচ্ছে, খেলাচ্ছলে এই উৎসব চালু করেন রবীন্দ্রনাথের ছোট ছেলে শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৭ সালে ঋতুরাজ বসন্তকে স্বাগত জানাতে ঋতুরঙ্গ উৎসব শুরু করেন তিনি। ১৯৩২ সাল থেকে (মতান্তরে ১৯২৫) এই উৎসব ‘বসন্ত উৎসব’ নামে পরিচিত হয়। প্রথমে বসন্তের যে কোনও দিন অনুষ্ঠিত হলেও, পরের দিকে শুধুমাত্র বসন্ত-পূর্ণিমার দিনেই হত এই উৎসব। তবে এই উৎসব যে কীভাবে দোলের সঙ্গে মিলে মিশে গেল তা আজ আর জানা যায় না।

রবীন্দ্রনাথের শান্তিনিকেতনে প্রত্যেকের অধিকার সমান। তাই বসন্ত উৎসবের দিন দেশ-বিদেশের নানা অতিথির পাশাপাশি সামিল করা হতো স্থানীয় আদিবাসীদেরও। সেই প্রথা আজও চলে আসছে৷ বসন্তকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি প্রকৃতির রঙে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে উৎসবের আনন্দে সামিল হচ্ছেন বাঙালির দলও৷ তাই আজও দোলের দিন বাঙালির অন্যতম ঠিকানা হয়ে ওঠে শান্তিনিকেতন। যদিও করোনা আবহে গত বছর বন্ধ ছিল এই উৎসব।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.