একসময় পয়লা বৈশাখের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই ছিল না হালখাতার! কবে থেকে নববর্ষের সঙ্গে জড়াল এই রীতি-নিয়ম?

একসময় পয়লা বৈশাখের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই ছিল না হালখাতার! কবে থেকে নববর্ষের সঙ্গে জড়াল এই রীতি-নিয়ম?
একসময় পয়লা বৈশাখের সঙ্গে কোনও সম্পর্কই ছিল না হালখাতার! কবে থেকে নববর্ষের সঙ্গে জড়াল এই রীতি-নিয়ম?

আজ পয়লা বৈশাখ। বাঙালির নববর্ষ। আর আজকের দিনটির সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে হালখাতার নাম। এদিন এক নতুন বছরের শুরুর দিন হিসাবে ব্যবসায়ীরা উদযাপন করেন হালখাতা উৎসব। দোকানে দোকানে শুরু হয় নতুন বউনি। তবে ঠিক কবে থেকে পয়লা বৈশাখের সঙ্গে জড়িয়ে গেল এর নাম? আসুন আজ জেনে নেওয়া যাক সেই ইতিহাসই…

প্রাচীনকালে নববর্ষের সঙ্গে হালখাতার কোনও সম্পর্কই ছিল না। অনেক পরে এর সঙ্গে জড়িয়েছে সেই নাম। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, আদিমযুগে মানুষ যখন লাঙলের ব্যবহার শিখল সেসময় চাষ করা দ্রব্যের বিনিময় প্রথা শুরু হল। দ্রব্য বিনিময়ের একটি খাতায় হিসেব লিখে রাখতে শুরু করল তারা। সেই খাতা থেকেই ‘হাল খাতা’র উৎপত্তি। কারণ, হাল শব্দটির অর্থ লাঙল। লাঙল দিয়ে চাষ করা দ্রব্যের বিনিময়ে হিসেব রাখা হত বলেই সে খাতা হাল খাতা নামে পরিচিত ছিল।

ইতিহাস থেকে আরও জানা যায়, মোগল সম্রাট আকবরের সময়কাল থেকেই পয়লা বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। মোগল আমলে সম্রাট আকবর জমিদারদের বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য ‘পুণ্যাহ’ অনুষ্ঠান চালু করেছিলেন। প্রজারা চৈত্র মাসের শেষ পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করতেন। পয়লা বৈশাখে জমিদাররা প্রজাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। আকবরের নিয়ম মতে বাংলার নবাব মুর্শীদকুলী খাঁও ‘পুণ্যাহ’ পালন করতেন। বছর শুরুর দিনেই তা পালন করা হত। পরবর্তী কালে পুণ্যাহ প্রথা ‘হালখাতা’ নামে পরিচিত হল। অর্থাৎ হালখাতা ছিল রাজস্ব আদায়ের অনুষ্ঠান। এরপর থেকেই বাংলা বছরের প্রথম দিনে দোকানপাটের হিসাব রাখার উৎসব হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে হাল খাতা পালিত হয়ে আসছে।

বর্তমানে হালখাতা পয়লা বৈশাখের আর এক নাম। এদিন দোকানে দোকানে নতুন খাতা খোলা হয়। পুরনো হিসেব চুকিয়ে সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে নতুন খাতা খোলার রীতি প্রচলিত রয়েছে আজও। সঙ্গে হয় পয়লা বৈশাখের পুজো। এভাবেই বর্তমানে বাঙালির বছর শুরুর দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে হাল খাতার নাম।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.