দোলের সঙ্গে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িয়ে নাম সংকীর্তন! জেনে নিন এর ইতিবৃত্ত

দোলের সঙ্গে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িয়ে নাম সংকীর্তন! জেনে নিন এর ইতিবৃত্ত
দোলের সঙ্গে ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িয়ে নাম সংকীর্তন! জেনে নিন এর ইতিবৃত্ত

দোলযাত্রার সঙ্গে নাম সংকীর্তনের যোগটি খুবই প্রাচীন। দোলের দিন সকালের দিকে এই নাম গানে নগর সংকীর্তনের চল রয়েছে। ‘সংকীর্তন’ কথাটির অর্থ অনেকে মিলে একসঙ্গে কীর্তন করা। এই সংকীর্তনের কয়েকটি গুণ থাকা প্রয়োজন, যার মধ্যে প্রধান হল এর কথা ও সুরে কোনোরকম জটিলতা থাকবে না। সাধারণত এতে ঈশ্বরের নামই হয়, তবে ঈশ্বরের লীলাও এর মধ্যে আসতে পারে। সুর হয় এমন যাতে সাধারণ ভক্তরা সবাই নির্ভয়ে গলা মেলাতে পারে।

নাম কীর্তনই ভক্তির সর্বশ্রেষ্ঠ পথ এ কথা বলেন অনেক ভক্তবৃন্দ। ভক্তরা ঈশ্বরের কথা বলে থাকেন মূলত চারটি উপায়ে। সেগুলি হল গুণ গান, লীলা গান, ভাব গান ও নাম গান। শ্রীচৈতন্য, গুরু নানক থেকে শুরু করে মীরা, তুলসী দাস, রাম দাস, জয়দেব ইত্যাদি ভক্তিবাদী মহাজনরা ঈশ্বরের বন্দনায় নাম গানের ওপরেই জোর দিয়েছেন বেশি। অনেকের মতে গুরু নানকই গণ-নাম সংকীর্তনকে জনসাধারণের মধ্যে প্রচলিত করেন।

নাম সংকীর্তনে বাদ্যযন্ত্রের বিশেষ ভূমিকা থাকে। এতে যে সব বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে পারকাসন ইনস্ট্রুমেন্ট, মেমব্রেনোফোন এবং উইণ্ড ইনস্ট্রুমেন্ট থাকে। পশ্চিমবঙ্গে প্রথাগতভাবে সংকীর্তনের প্রথম দলে করতাল, দ্বিতীয় দলে ঢোলক ও খোল এবং তৃতীয় দলে শিঙা (শিঙ্গা) ও রামশিঙার দেখা মেলে। কম ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্রের মধ্যে ঝুমুর এবং প্রেমজুরি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ইস্কনের সংকীর্তনে চার ধরণের খোল ব্যবহৃত হয় তা হল, ফাইবার গ্লাসের, পিতলের, ঈশান দাসের আবিষ্কৃত ‘বলরাম মৃদঙ্গ’ (যা ফাইবার গ্লাসের তৈরী হলেও বেশ ভারী) এবং পোড়ামাটির বডি ও মহিষের চামড়ার মেমব্রেন-যুক্ত খোল।

বাংলায় শ্রীচৈতন্য নাম সংকীর্তনের জোরেই দেশ মাতিয়েছিলেন। ১৭ শতকের প্রথম দিকে শ্রীচৈতন্যের মৃত্যুর পর কালাচাঁদ বিদ্যালঙ্কার বাংলায় কৃষ্ণনাম সংকীর্তন প্রচারের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন। বর্তমানে স্বামী প্রভুপাদ প্রতিষ্ঠিত ইসকন এই সংকীর্তনকে এক আন্তর্জাতিক পরিচিতি দিয়ে চলেছে। দোল বা ফাল্গুনী পূর্ণিমায় শ্রীচৈতন্যের জন্ম হয়েছিল বলে বৈষ্ণবরা ঐ দিনটিকে গৌর পূর্ণিমাও বলেন। ওই দিন নানারকম উৎসবের মধ্যে তাই নাম সংকীর্তনকেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.