বড় সাফল্য কলকাতা পুলিশের STF-এর ঝুলিতে! গ্রেফতার তিন জেএমবি জঙ্গি!

বড় সাফল্য কলকাতা পুলিশের STF-এর ঝুলিতে! গ্রেফতার তিন জেএমবি জঙ্গি!
বড় সাফল্য কলকাতা পুলিশের STF-এর ঝুলিতে! গ্রেফতার তিন জেএমবি জঙ্গি!

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ কলকাতা শহরের বুক থেকে গ্রেফতার বাংলাদেশি জঙ্গি। গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে, তিনজন জেএমবি জঙ্গিকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স বা STF।

এরা সকলেই নব্য জেএমবি সদস্য বলে প্রাথমিক অনুমান তদন্তকারীদের। জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন আগে থেকেই এরা ডেরা বেঁধেছিল কলকাতাড় বুকে। ভুয়ো পরিচয়পত্র দাখিল করায়, বাড়িভাড়া পেতেও খুব একটা সমস্যা হয়নি। এরপর গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালায় কলকাতা পুলিশের STF। গ্রেফতার হয় তিন জেএমবি জঙ্গি।

ধৃত তিন জঙ্গির নাম নাজিউর রহমান ওরফে জোসেফ, মিকাইল খান ওরফে শেখ সাবির এবং রবিউল ইসলাম। ধৃতরা তিনজনেই বাংলাদেশি নাগরিক। STF সূত্রের খবর, ধৃতরা প্রত্যেকেই জেএমবি’র স্লিপার সেলের সদস্য। ধৃতদের কাছ থেকে জেহাদি বই, মোবাইল, রহস্যজনক ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে। এই ধৃতদের কাছে যে ডায়েরি পাওয়া গিয়েছে তাতে এক জেএমবি নেতার নম্বরও পাওয়া গিয়েছে বলে খবর। এই তিন অভিযুক্তর কাছে কাছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট সহ নানা নথিপত্র পাওয়া গিয়েছে। যদিও সেগুলি আসল না নকল তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আবার ধৃত তিন জঙ্গির মোবাইল থেকেও প্রচুর তথ্য উদ্ধার করেছে পুলিশ। গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে বেশ কয়েকজন জেএমবি শীর্ষ নেতার ফোন  নম্বর। তাঁরা এও জানতে পেরেছেন যে, ধৃত জোসেফ ওরফে নাজিউর রহমানের নামে আগেও বহু কেস ছিল। এর আগে সে তিন বছর জেল পর্যন্ত খেটেছে। এখানেই শেষ নয়, জেএমবি শীর্ষ নেতা আল আমিনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। বাংলাদেশের জেল থেকে জোসেফের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত ওই জঙ্গি নেতা।

গোয়েন্দাদের মুল মাথাব্যথার কারণ এখন একটাই, তাঁদের প্রশ্ন আবার জেএমবি স্লিপার সেলের সদস্যদের নতুন করে সক্রিয় হওয়ার পেছনে কি নতুন কোনও অ্যাসাইনমেন্ট ছিল? যার দায়িত্ব এঁদের দেওয়া হয়েছিল! এরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

ধৃত তিন জেএমবি জঙ্গি

সোমবার আদালতে তোলা হবে ধৃতদের। এখন প্রশ্ন উঠছে কেন এতদিন বাদে তারা ফের সক্রিয় হল? এই প্রশ্নই এখন ভাবাচ্ছে তদন্তকারী অফিসারদের। ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল এই তিন জঙ্গির, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। চলছে জেরা।

কলকাতা শহরের বুকে সন্দেহভাজন কাজকর্ম চালাচ্ছে বাংলাদেশের কয়েকজন বাসিন্দা, গোপন সূত্রে এই খবর পেয়ে, শুক্রবার গভীর রাতে তল্লাশি চালান এসটিএফ আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, এরা তিনজনেই বেহালায় বাড়ি ভাড়া করে থাকত। এই তিনজনেই বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় জানিয়েছিল যে, তাঁদের এক আত্মীয় চিকিৎসার জন্য কলকাতার হাসপাতালে ভর্তি, তাই তারা ওই আত্মীয়ের দেখভালের জন্য বাড়ি ভাড়া নিতে চায়। সেই গোপন বাড়িতে গোপন অভিযান চালিয়েই নাজিউর, রবিউলদের গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। সোমবার এই তিন জঙ্গিকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হবে বলে খবর। এই অপারেশনকে লালবাজার হাল আমলের‌ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, খাগড়াগড় কাণ্ডের পর ধরপাকড় শুরু হলে, এ রাজ্যে সক্রিয় জেএমবি স্লিপার সেলের বেশির ভাগ সদস্যই গ্রামেগঞ্জে বা মফঃস্বলে আত্মগোপন করে। এর আগে শেষবার জেএমবি জঙ্গি নেতা কওসরকে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা সক্রিয় হয়েছিল। পুলিশি কনভয়ে হামলা চালিয়ে, জঙ্গি নেতাকে ফিনতাইয়ের ছক ছিল তাদের। যদিও সেই ছক ভেস্তে যায় কলকাতা পুলিশের তৎপরতায়। শনিবার মাঝরাতে কলকাতায় জেএমবি সদস্যদের ধরা পড়ার খবর থেকে এটা স্পষ্ট যে, দেশজুড়েই জঙ্গিজাল ছড়িয়ে পড়ছে। এটি কলকাতা পুলিশের এসটিএফের বড় সাফল্য বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।