করোনা সচেতনতা বাড়াতে অভিনব প্রচারে সামিল হল শান্তিপুর! ঘুরে বেড়াচ্ছেন জীবন্ত যমরাজ!

করোনা সচেতনতা বাড়াতে অভিনব প্রচারে সামিল হল শান্তিপুর! ঘুরে বেড়াচ্ছেন জীবন্ত যমরাজ!
করোনা সচেতনতা বাড়াতে অভিনব প্রচারে সামিল হল শান্তিপুর! ঘুরে বেড়াচ্ছেন জীবন্ত যমরাজ!

ঠাকুমার সঙ্গে বাজার করতে এসেছে পঞ্চম শ্রেণীর ছোট্ট এক ছাত্র। আচমকাই তাঁদের পথ আটকে দাঁড়াল যমরাজ! কারণ মুখে মাস্ক নেই। ফলে শরীর ছুঁয়ে দিল করোনা। এমনকি পুলিশ এসে গ্রেপ্তারও করল তাঁদের। অবশেষে রাজামশাইয়ের হস্তক্ষেপে মুক্তি পেলেন তাঁরা। তবে শর্ত একটাই, আগামী মুখে মাস্ক থাকা চাই-ই। মাস্ক ছাড়া আর পথে ঘাটে বেরোনো যাবে না।

পুরোটাই হয়তো নাটক। কিন্তু শান্তিপুরের রাস্তায় রাস্তায় এখন দেখা যাচ্ছে এরকমই কিছু টুকরো দৃশ্য। কারণ, জনসাধারণের মধ্যে করোনা সচেতনতা বাড়াতে অভিনব এই পথনাটিকার উদ্যোগ নিয়েছেন শান্তিপুরেরই স্বেচ্ছাসেবী কিছু মানুষ। শহরের বিভিন্ন জনসমাগম এলাকায় পথনাটিকা মাধ্যমেই বহুরূপী জীবন্ত কিছু মডেল মানুষের মধ্যে করোনা সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। পেশার ক্ষেত্রে অভিনয়ের জন্য তাঁরা সাম্মানিক পেলেও, সচেতনতা প্রচারের কাজটি তাঁরা করছেন সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবেই। শুধুমাত্র সমাজ সচেতন করার তাগিদেই।

শান্তিপুরের সাধারণ মানুষও সাদরে গ্রহণ করেছেন এই উদ্যোগ। মাঝবয়সী টোটো চালক বসির আলম ভুল করে মাস্ক রেখে এসেছিলেন বাড়িতে। ফলে পথনাটিকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার হয়ে তাঁর বক্তব্য, “এঁরা তো ঠিকই বলছেন! তাই ৩৫ টাকা দিয়ে একটা মাস্ক কিনে মুখে পরে নিলাম।” শুধু তাই নয়, জীবন্ত যমরাজ বা অন্যান্য মডেলদের আশেপাশে দেখলেই মুখে নিজে থেকেই মাস্ক তুলে নিচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। কে জানে কখন যমরাজ পাকড়াও করে!

প্রসঙ্গত, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে দেশের পাশাপাশি রাজ্যেরও বেহাল দশা। দিনে দিনে বাড়ছে সংক্রমণের হার। তা রুখতে টিকাকরণের পাশাপাশি কোভিড বিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। এছাড়াও মুখে মাস্ক পরাও বাধ্যতামূলক। কিন্তু এখনও মাস্ক পরতে অনীহা দেখাচ্ছেন বহু মানুষ। তাঁদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতেই এবার পথনাটিকার আশ্রয় নিয়েছে শান্তিপুরের স্বেচ্ছাসেবী ওই দল। করোনার প্রথম দিকেও মানুষকে সতর্ক করতে পথে নেমেছিলেন তাঁরা। এবার ফের তাঁদের দেখা গেল অভিনব পথনাটিকার মাধ্যমে জনসাধারণকে সচেতন করতে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.