সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর শিরোনামে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়! প্রতিক্রিয়ায় শালীনতার মাত্রা ছাড়ালেন

সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর শিরোনামে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়! প্রতিক্রিয়ায় শালীনতার মাত্রা ছাড়ালেন
সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পর শিরোনামে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়! প্রতিক্রিয়ায় শালীনতার মাত্রা ছাড়ালেন

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ গতকালই রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ৯টা ২২ মিনিট নাগাদ কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। খবর পেয়ে, বাড়ির কালীপুজো ছেড়ে হাসপাতালে ছুটে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালে যান দলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের অসংখ্য ভক্তরা।

এদিকে, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের পরই শিরোনামে বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। বর্ষীয়ান এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের প্রয়াণের পরই বিতর্কিত টুইট করেন বিজেপি নেত্রী। বিস্ফোরক একটি পোস্টের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় সুব্রত মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, ‘২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চুক্তি পছন্দ হয়নি তাঁর।’ এরপর একের পর এক পোস্ট করতে থাকেন বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে অনেক ক্ষতি করেছেন। সুবিধাবাদী! আমার কোনও সমবেদনা নেই।’

এসএসকেএম হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে বাম থেকে বিজেপি প্রতিটি রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিত্বরাই শোকজ্ঞাপন করেছেন। তাঁর স্মৃতিচারণা করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দীলিপ ঘোষ, রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বৃহস্পতিবার রাতে সুব্রতের প্রয়াণের খবর শুনে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘দক্ষিণপন্থী রাজনীতির অনুসারী হলেও আমাদের মধ্যে আদর্শগত মতপার্থক্য ছিল। ওঁর রাজনৈতিক জীবন সত্যিই ঈর্ষণীয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে যাঁরা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন নেতা ছিলেন, উনি তাঁদের মধ্যে অন্যতম।’

আবার বাম শিবির থেকে কলকাতার মেয়র পরে সুব্রতের উত্তরসূরি বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, ‘রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ব্যক্তিগত স্তরে উনি কখনও বিদ্বেষকে প্রশ্রয় দেননি। এটা ওঁর চরিত্রের বড় দিক। আমি ওঁর (সুব্রত) পরে মেয়র হয়েছিলাম। সে সময় উনি নানা পরামর্শ দিয়েছেন আমাকে।’

কিন্তু রাজনৈতিক সৌজন্যতা না দেখিয়ে, উল্টে শালীনতার সব সীমা অতিক্রম করে গেলেন রূপা। তাঁর গলায় ভিন্ন সুর। এদিন নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রথমে রূপা লেখেন, ‘ধ্যাৎ, সবাই যেন হঠাৎ বালিগঞ্জে একা গেল। সরি বস।’ তাঁর পোস্টের পরেই একের পর এক কমেন্ট আসতে শুরু করে। সেই সব কমেন্টের জবাব দিতে গিইয়েই তিনি আরও বিস্ফোরক হয়ে ওঠেন। মাত্রাছাড়া আক্রমণ করে প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতাকে উদ্দেশ্য করে রূপা লেখেন, ‘পুজো জাঁকজমক করা আর টাকা তোলা ছাড়া যার কোনও অবদান ছিল না। তাঁর জন্য আমার কোনও শ্রদ্ধা নেই। সরি বস।’

রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের বিতর্কিত মন্তব্য

শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। তিনি লেখেন, ‘তিনি সুবিধাবাদী। নিজের রাজনৈতিক আদর্শও বদলে ফেলেছিলেন। এরা পশ্চিমবঙ্গের অনেক ক্ষতি হওয়ার কারণ।’ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক দাবি, ‘২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপি-তে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, চুক্তি পছন্দ হয়নি। আমি এতদিন নিজের মুখ বন্ধই রেখেছিলাম।’ এরপর সদ্য প্রয়াত বিজেপি-র কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড কোঅর্ডিনেটর তিস্তা বিশ্বাস দাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘তিস্তাকে নিয়েছো বস। কিছু তো ফেরত নেবে মা কালী।’ রূপার এই ধরণের বক্তব্যে রীতিমতো ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক মহল।