এবার প্রত্যেক গাছ পিছু ধার্য্য করা হবে দাম, নতুন আইন আনছে সুপ্রিম কোর্ট

এবার প্রত্যেক গাছ পিছু ধার্য্য করা হবে দাম, নতুন আইন আনছে সুপ্রিম কোর্ট / ছবি সৌজন্যেঃ Jarmoluk
এবার প্রত্যেক গাছ পিছু ধার্য্য করা হবে দাম, নতুন আইন আনছে সুপ্রিম কোর্ট / ছবি সৌজন্যেঃ Jarmoluk

উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কাটা চলে আসছে বহু দিন থেকেই। ফলে প্রাকৃতিক দূষণের পাশাপাশি বাড়ছে বিশ্ব উষ্ণায়নও। ভারসাম্য হারাচ্ছে প্রকৃতির বাস্তুতন্ত্র। তবে এবার থেকে আর যখন ইচ্ছে যে কোনও গাছ কাটা যাবে না। নাহলেই চোকাতে হবে বহু অর্থের হিসেব। কারণ এবার থেকে প্রত্যেক গাছের দাম নির্দিষ্ট করে রিপোর্ট জমা করল সুপ্রিম কোর্ট। যেখানে প্রতি বছর ৭৪,৫০০ টাকা করে বাড়বে গাছের দাম।

গাছটির প্রারম্ভিক মূল্য হবে বয়সের সঙ্গে ৭৪,৫০০’র গুণিতক। এরপর বছর প্রতি ৭৪,৫০০ টাকা করে যোগ হবে গাছের দামের সঙ্গে। গাছের নতুন দাম হিসাবে এই মূল্যই ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ভারতের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) এস এ ববদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি এই রিপোর্ট পেশ করে। সেখানে বলা হয়, সেসব গাছের বয়স একশো পেরিয়ে গিয়েছে, সেই গাছগুলির দাম কোটি টাকারও বেশি।

কমিটির পেশ করা রিপোর্টে এও বলা হয়েছে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে গাছের অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারণ করতে চেয়েছিল কমিটি। কারণ গাছের মাধ্যমে পাওয়া অক্সিজেনের সাহায্যেই বেঁচে রয়েছে প্রাণীজগত। একটা গাছ যে পরিমাণ অক্সিজেন ছাড়ে, তার দাম প্রায় ৪৫,০০০ টাকা। তাই প্রতিটা গাছের বিশেষ মূল্য নির্ধারণ করা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নানা প্রকল্পের কাজের জন্য ইতিমধ্যেই বহু গাছ কাটা হয়েছে। তবে সেসময় তার দাম ধার্য করা হয়নি। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে পাঁচটি রেলওয়ে ওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য ৩৫৬ টি গাছ কাটার অনুমতি পাওয়া গিয়েছিল। যার সামগ্রিক মূল্য প্রায় ২২০ কোটি। সেই অনুমতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন আইনজীবি ও পরিবেশকর্মী প্রশান্ত ভূষণ। সেই মামলাকে ভিত্তি করেই এই নতুন আইন আনতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট। যদিও এই রিপোর্টের চূড়ান্ত কোনও রায় এখনও পাওয়া যায়নি। তবে কেন্দ্রীয় সরকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং মামলায় জড়িত এক এনজিওর থেকে প্রতিক্রিয়া চাওয়া হয়েছে।