অমিত শাহ, নাড্ডার পর আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শুভেন্দুর, ৪৫ মিনিটের সাক্ষাতে কী কথা হল?

অমিত শাহ, নাড্ডার পর আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শুভেন্দুর, ৪৫ মিনিটের সাক্ষাতে কী কথা হল?
অমিত শাহ, নাড্ডার পর আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শুভেন্দুর, ৪৫ মিনিটের সাক্ষাতে কী কথা হল?

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ রবিবার দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের জরুরি তলবে দিল্লি উড়ে গিয়েছিলেন বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে একে একে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির জাতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গেও। আর এদিন কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও। আজই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা দেখা করেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ ৪৫ মিনিট কথাও হয়।

এরপরই সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে এসে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। আজকের দিনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, পৃথিবীর শক্তিশালী যশস্বী প্রধানমন্ত্রী সাক্ষাতের সুযোগ দিয়েছেন।’

আজকের সাক্ষাতের প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী একটি টুইটও করেন। সেখানে তিনি লেখেন যে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি’র সঙ্গে দেখা করতে পেরে আমি ধন্য। তাঁর মুল্যবান সময় আমাকে দেওয়ার জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলা ও অন্যান্য বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক বিষয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য তাঁর সমর্থন ও দিকনির্দেশনা চেয়েছি।’

শুভেন্দু অধিকারী তাঁর আজকের প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে আরও জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে আশীর্বাদ এবং উপদেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ওনার বিশাল অভিজ্ঞতা। আমাকে উৎসাহিত করেছেন। বাংলার সংস্কৃতি মেনে দায়িত্বশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে বলেছেন উনি। বিরোধী দল হিসেবে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করব। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবিধানকে মান্যতা দিয়ে কাজ করতে আমাকে উৎসাহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

জানা গিয়েছে, শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ করেছেন। তিনি জানান, ‘প্রথমত প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ নিয়েছি। বাংলার হিংসা নিয়েও বলেছি। আউশগ্রামে ত্রিপল নিয়ে জঙ্গলে বাস করছে ২৬টি পরিবার। এ কোন সভ্য দেশে আছি! ২৫ জন মহিলাকে ধর্ষণ করেছে তৃণমূলের গুন্ডারা। অধিকাংশ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গা।’

এদিকে শুভেন্দু অধিকারী যতই প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদ নিন না কেন, তাঁর এই দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যে বিজেপির অন্দরে জলঘোলা হতে শুরু করেছে। জন্ম নিয়েছে নয়া বিতর্ক। শুভেন্দুর দিল্লি যাত্রার ঠিক তিন দিনের মাথায় দিল্লিতে হাজির হয়েছেন বিজেপির তিন নেতা অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁ এবং নিশীথ প্রামানিক। হঠাৎ কেন এই ত্রয়ীর দিল্লি গমনের প্রয়োজন পড়ল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যা নিয়ে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নানা জনের নানা মত রয়েছে। এর আগে শুভেন্দুর দিল্লি যাত্রা প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছিলেন, বৈঠক আছে শুভেন্দু জানতেন। কিন্তু কেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এই সময় দিল্লিতে, তা তিনি জানেন না। ঠিক সেই ভাবেই এই তিন বিজেপি নেতা ঠিক কী কারণে দিল্লিতে, তা নিয়েও অন্ধকারে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। তবে এরই মধ্যে এই বিষয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উঠে আসছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নয়া তত্ত্ব।

এই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো। নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি হলেও, শুভেন্দু অধিকারীর নিজের কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোতে সেটা সম্ভব হয়েছে। বাংলার ক্ষমতা দখল করতে না পারলেও, মমতাকে হারানোটাকেই এই ভরাডুবিতেও খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরতে চেয়েছেন কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্ব। অন্যদিকে, দলে শুভেন্দু অধিকারীর বিশেষ গুরুত্ব এবং উত্থান এক নতুন দ্বন্দ্বের সূচনা করেছে।

শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার জানিয়েছিলেন যে, তিনি এবং দিলীপ ঘোষ একই জেলার মানুষ। মিডিয়া তাঁদের নিয়ে কোনও মনগড়া তত্ত্ব খাড়া করতে পারবে না। শুভেন্দু অধিকারী যাই বলুন না কেন, দিলীপ ঘোষ কিন্তু কোনও ভনিতা না করেই বলেছেন, শুভেন্দু কেন দিল্লিতে, তা তিনি জানেন না। দিল্লি নেতারাই এর সঠিক জবাব দিতে পারবেন। এর থেকে স্পষ্ট যে, বিজেপিতে কার্যত দুটি মেরু প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একের পর এক ঘটনা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।