শনিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২২

এক মিনিটের কম সময়েই ‘যন্ত্রণাহীন স্বেচ্ছামৃত্যু’! এমনই যন্ত্রে অনুমোদন দিল এই দেশ

১০:৩৫ পিএম, ডিসেম্বর ৭, ২০২১

এক মিনিটের কম সময়েই ‘যন্ত্রণাহীন স্বেচ্ছামৃত্যু’! এমনই যন্ত্রে অনুমোদন দিল এই দেশ

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ একেবারে ব্যথাবেদনাহীন মৃত্যু! তাও চোখের নিমেষেই। মাত্র এক মিনিটেই, এমনই এক আত্মহত্যার যন্ত্রকে আইনি স্বীকৃতি দিল সুইজারল্যান্ড। এই যন্ত্রের সাহায্যে মানব শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে, প্রায় মুহূর্তের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন এর ব্যবহারকারীরা।

আকারে ক্যাপসুলের মতো এই যন্ত্রটি দেখতে খানিকটা কফিনের মতো। এমনই এক স্বেচ্ছামৃত্যুর যন্ত্রকে সুইজারল্যান্ড আইনি স্বীকৃতি দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। ইউথেনশিয়া তথা স্বেচ্ছামৃত্যুকে আগেই স্বীকৃতি দিয়েছিল সুইশ সরকার। উল্লেখ্য, গত বছরই স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করেছে সে দেশের ১৩০০ জন। এই পরিস্থিতিতেই এবার আইনি স্বীকৃতি পেল এই যন্ত্র।

সূত্রের খবর, এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এগজিট ইন্টারন্যাশনাল এই যন্ত্রটি তৈরি করেছে। এই সংস্থার প্রধান ফিলিপ নিটশে এই যন্ত্র উদ্ভাবনের কারিগর। তিনি ‘ডক্টর ডেথ’ নামেও পরিচিত। এই যন্ত্রটির নাম সারকো, এর বিশেষত্ব হল, এই যন্ত্রকে যেমন বাইরে থেকে যেমন চালানো যায়, তেমনই ভিতর থেকেও চালানো যায়। শুধুমাত্র চোখের পাতা ফেলেই এই যন্ত্রকে সংকেত পাঠাতে পারবেন। এর কারণ, মরণাপন্ন ব্যক্তিরা মৃত্যুমুখে দাঁড়িয়ে পেশিও নাড়াচাড়া করতে পারেন না। তাই এই যন্ত্রে কেবল মাত্র চোখের পাতার সাহায্যেই সংকেত পাঠিয়ে, যন্ত্রকে সম্মতি দিতে পারবেন।

এই যন্ত্র প্রসঙ্গে ফিলিপ জানিয়েছেন, ‘আশা করছি আগামী বছরের মধ্যেই সারকো পুরোপুরি ব্যবহারের উপযোগী হয়ে যাবে। বহু অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এই প্রকল্পে। তবে, আমরা এটির প্রয়োগের খুবই কাছে পৌঁছে গিয়েছি।’

অন্যদিকে, এই যন্ত্র নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্কও শুরু হয়ে গেছে। অনেকেই দাবি করছেন যে, এই যন্ত্রটি আসলে একধরনের গ্যাস চেম্বারই। এই ধরনের যন্ত্রের স্বীকৃতি আত্মহত্যাকেই প্রশ্রয় দেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। এমনিতেই ইউথেনশিয়া নিয়েও বিশ্বজুড়ে বিতর্ক রয়েছে। রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মত। ‘ইউথেনেশিয়া’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘ইউ’ এবং ‘থানাতোস’ থেকে এসেছে। ‘ইউ’ শব্দটির অর্থ সহজ এবং ‘থানাতোস’ কথাটির মানে মৃত্যু । অর্থাৎ ‘ইউথেনেশিয়া’ শব্দটির মানে দাঁড়ায় ‘সহজ মৃত্যু’।

দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত কোনও ব্যক্তি দীর্ঘসময়ব্যাপী অকথ্য যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গেলে, তাঁকে সেই যন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি দিতে সহজে মৃত্যুর পথ করে দেওয়ার নামই ইউথেনশিয়া। সাধারণত ওই ব্যক্তি কিংবা তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় পরিজনের সম্মতি এবং অনুরোধেই এমনটা করা হয়। নেদারল্যান্ড, কানাডা, বেলজিয়ামের মতোই সুইজারল্য়ান্ডেও ইউথেনশিয়াকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।