একাকীত্ব জীবন থেকে মুক্তি পেতে দ্বিতীয় বিয়ে! তিন ছেলে-বৌমার হাতে নিগৃহীত বাবা

একাকীত্ব জীবন থেকে মুক্তি পেতে দ্বিতীয় বিয়ে! তিন ছেলে-বৌমার হাতে নিগৃহীত বাবা
একাকীত্ব জীবন থেকে মুক্তি পেতে দ্বিতীয় বিয়ে! তিন ছেলে-বৌমার হাতে নিগৃহীত বাবা

নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহঃ সঙ্গীহীন একাকীত্বের জীবন কাটানো বড়ই কঠিন। প্রথমা স্ত্রীর মৃত্যুর পর, এমনটাই মনে হয়েছিল মালদহের নয়ন মণ্ডলের। তাই একসময় স্থির করেন, নতুন করে শুরু করবেন সব কিছু। মনের কথায় সায় দিয়ে, করেন দ্বিতীয় বিয়ে। আর এরপরই শুরু সমস্যার।

নয়ন মণ্ডল ভাবতেও পারেননি যে, একাকীত্বের জীবনের থেকে মুক্তি চাওয়া তাঁর সবথেকে বড় অপরাধ হয়ে দাঁড়াবে! এভাবে তাঁকে অপদস্ত হতে হবে। দ্বিতীয় বিয়ে করার কারণে নয়ন মণ্ডলকে ছেলে এবং বৌমাদের হাতে নিগৃহীত হতে হয়। যার জেরে গুরুতর আহত হন তিনি। এই মুহূর্তে আহত বছর ৬০-এর নয়ন মণ্ডল মালদহ মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে মালদার ইংরেজবাজার থানার রায়পর এলাকায়। এই ঘটনায় শনিবার তিন ছেলের নামে ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত নয়ন মণ্ডল। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

আহত নয়ন মণ্ডলের অভিযুক্ত ছেলেদের নাম জগায় মন্ডল, মাধাই মন্ডল এবং রঘু মন্ডল। নয়ন মণ্ডল জানিয়েছেন যে, কয়েক মাস আগে তার প্রথম পক্ষের স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এরপর তিনি বেশ কয়েক মাস একাকিত্বে কাটিয়েছেন। এরপর থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন তিনি আরেকটি বিয়ে করবেন। সেইমতো সম্প্রতি তিনি আরেক জনকে বিয়ে করেন তিনি।  এরপর এই নিয়ে ছেলে ও তার বৌমাদের সঙ্গে তাঁর বিবাদ চলছিল। এরই মধ্যে শুক্রবার নয়ন মন্ডল তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে ঢুকতে  গেলে সমস্যা আরও বাড়ে, বিবাদ চরমে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যেই যা রণক্ষেত্রের আকার নেয়। এরই মধ্যে তার ছেলে ও বৌমারা তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে। এতে নয়ন মণ্ডলের মাথায় ও কানে গুরুতর আঘাত লাগে।

স্থানীয়দের তৎপরতায় কোন রকমের নয়ন মন্ডল প্রাণে বেঁচে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে  মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর মাথায় ওখানে বেশ কয়েকটি সেলাই পড়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। এরপর তিনি সাময়িক সুস্থ হলে, শনিবার  ছেলে ও বৌমার বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।