নন্দীগ্রামে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের জমায়েত করছেন শুভেন্দু! কমিশনে নালিশ তৃণমূলের

নন্দীগ্রামে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের জমায়েত করছেন শুভেন্দু! কমিশনে নালিশ তৃণমূলের
নন্দীগ্রামে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের জমায়েত করছেন শুভেন্দু! কমিশনে নালিশ তৃণমূলের

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ নন্দীগ্রামে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের জমায়েত হচ্ছে। যা ভোটের মুখে রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কারণেই নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই ঘটনায় অভিযোগ উঠছে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে।

শুধু তাই নয়, কোন ঠিকানায় দুষ্কৃতীরা লুকিয়ে আছে, তাও অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে যে, ভোটের মধ্যে এরা অশান্তির সৃষ্টি করতে পারে। আর সেই আশঙ্কা থেকেই কমিশনকে ইতিমধ্যেই একটি চিঠি লিখে ফেলেছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। পাশাপাশি কমিশনকে এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

অভিযোগ পত্রে রাজ্যের শাসকদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, নন্দীগ্রামের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় স্থানীয় বিজেপি নেতাদের সঙ্গেই ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে বহিরাগতদের। কমিশনকে লেখা চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, এঁরা কেউই নন্দীগ্রামের ভোটার নন। অশান্তি সৃষ্টি করার জন্যই তাঁদের আশেপাশের এলাকা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে প্রায় শতাধিক বহিরাগত ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। এমনকি এদের সঙ্গে বিজেপির নেতা তথা নন্দীগ্রামের বিজেপির প্রার্থী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারীর নাম রয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে যে, এদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন শুভেন্দু অধিকারী।

অভিযোগে বলা হয়েছে, নন্দীগ্রামের রেয়েপাড়ায় হসপিটাল মোড়ের কাছে কালিপদ শি’র বাড়িতে প্রায় ৪০জন দুষ্কৃতী থাকতে শুরু করেছে গত ডিসেম্বর মাস থেকেই। এই বহিরাগত দুষ্কৃতীদের কোলাঘাট, পিংলা ও কাঁথি থেকে আনা হয়েছে। এরা প্রত্যেকদিন ১০-১২টি বাইক ও একটি গাড়ি নিয়ে নন্দীগ্রামের নানা এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। মানুষকে ভয় দেখানোর পাশাপাশি চলছে হুমকি এবং ধমকানো। শুভেন্দু অধিকারীও নাকি নিয়মিত এই বাড়িতে যাতায়াত করছেন।

এছাড়া শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী এজেন্ট মেঘনাথ পালের বাড়িতেও নাকি ৪০ থেকে ৫০জন দুষ্কৃতীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এদের যাতে বাইরে থেকে দেখা না যায়, তার জন্য মেঘনাথ পালের ৩ তলা বাড়ির পুরোটাই ক্যানভাস দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ এই বাড়িতেও যাতায়াত রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর।

তৃণমূল কংগ্রেস তাদের অভিযোগপত্রে আরও জানিয়েছে যে, বোয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তেরোপাখিরা গ্রামের টেঙ্গুয়া মৌজায় পবিত্র করের দোতলা বাড়িতে প্রায় ৩০ জন বহিরাগত দুষ্কৃতীকে এনে রাখা হয়েছে। এদের আনা হয়েছে পুরুলিয়ার বলরামপুর, ঝাড়ুচরণ, নরসিংহপুর, জাতিরমাল ও পানিবিতান প্রভৃতি এলাকা থেকে। শুধু তাই নয়, বোয়ালের এমএসকে এলাকায় ভজহরি সামন্তের বাড়িতেই ২০ থেকে ৩০ জন অপরিচিত বহিরাগত যুবক থাকতে দেখা গিয়েছে।  তৃণমূলের অভিযোগে বলা হয়েছে যে, এইসব কটি ঠিকানা- সহ যাবতীয় তথ্য দেওয়ার পরেও,  পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপই গ্রহণ করা হয়নি। তৃনমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সেই জন্যই নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, তাঁরা যেন শুভেন্দু অধিকারীর এই কাজের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং নন্দীগ্রামের মানুষকে ভয়হীন পরিবেশ ভোটদানের সুযোগ করে দিতে সাহায্য করা হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে রাজ্যের সবচেয়ে হেভিওয়েট কেন্দ্র এই নন্দীগ্রাম। এই কেন্দ্রে এই প্রথমবার নির্বাচনে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং একদা মুখ্যমন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির প্রার্থী হেভিওয়েট শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে  রয়েছেন সিপিএম প্রার্থী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।

তাই ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামে প্রচারে নিজেদের সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে শাসক-বিরোধী দুই শিবিরই। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারাও চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে। এই কেন্দ্রে লড়াই এখন সম্মানের লড়াই। শেষমুহুর্তে এই হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দু’দিনের জন্য প্রচার করবেন বলে জানা গিয়েছে। সেই আবহে, এবার তৃণমূলের আশঙ্কা, শেষলগ্নে গেরুয়া শিবির বহিরাগতদের মাধ্যমে নন্দীগ্রামে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.