শীতলকুচির ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল রাজ্যব্যাপী কালা দিবস পালনের ডাক তৃণমূলের
শীতলকুচির ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল রাজ্যব্যাপী কালা দিবস পালনের ডাক তৃণমূলের

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ একুশের বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে এখনও পর্যন্ত সবথেকে রক্তাক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল আজ চতুর্থ দফায়।

আজ সকাল থেকে শুধুমাত্র কোচবিহারেই মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। এর মধ্যে শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের মাথাভাঙা জোড়পাটকিতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে। এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই ফের একবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সরব হয় তৃণমূল এবং এর পাশাপাশি শুরু হয়ে যায় শোরগোল।

উল্লেখ্য, প্রথম থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেছেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির হয়ে কাজ করছে। ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে, ভোটদানে বাধা দিচ্ছে। আর আজকের এই ঘটনার পর, এই ঘটনাকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরে ফের সরব হয়েছে তাঁরা। এ নিয়েই শনিবার দুপুরের পর রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের ৫ প্রতিনিধি।

শীতলকুচির মাথাভাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ঠিক কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর দাবি করে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। শনিবার দুপুরের পর ডেরেক ও ‘ব্রায়েন, সৌগত রায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেনরা পৌঁছে যান কমিশনের দফতরে। প্রায় আধঘণ্টা নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাবের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন তাঁরা। বেরিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে, আজকের মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে যাবতীয় অভিযোগ, ক্ষোভ উগরে দেন। রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকের কী ভূমিকা হওয়া উচিত, তাও মনে করিয়ে দিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা।

সাংবাদিক বৈঠকে সাংসদ সৌগত রায় অভিযোগ করেন যে, ‘তিন দফায় ১৫৮ টি অভিযোগ করা হয়েছে ইলেকশন কমিশনে। তবে কমিশন কোন ব্যবস্থাই নেয়নি। যাদের মৃত্যু হয়েছে, সেই চার জন ভোটের লাইনে দাড়িয়ে ছিলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী গুলি চালিয়েছে। আজকের এই ঘটনায় কী ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন, তা জানতে এসেছি। তিনি আরও বলেন যে, ‘নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাবকে সব জানালাম। মমতা সিআরপিএফ-এর বিরুদ্ধে কিছু বললে, কমিশন শোকজ করতে পারে আর মোদি-শাহ এত কিছু বলছেন, কেন তাঁদের শোকজ করা হচ্ছে না?’

অন্যদিকে, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘আজ বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়ে ৪ নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আজ যা ঘটেছে তা নজীরবিহীন ঘটনা। আরও দু-তিন জন মারা যেতে পারে। এখন ইলেকশন কমিশন কিছু জানায়নি। কী কারণে মৃত্যু হয়েছে। খুব উত্তেজনামূলক মূলক বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। তৃণমূলের বিরুদ্ধে নানা ধরনের উত্তেজনামূলক কথা বলা হচ্ছে। আমাদের এখানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়। বাকি নির্বাচনে অশান্তি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বিজেপির পক্ষ থেকে।’

এ নিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, ‘সিইও-কে বলেছি, শুধু এভাবে রিপোর্ট তলব করা কিংবা চিঠি দিল্লিতে ফরওয়ার্ড করে দেওয়াই আপনার কাজের সীমা নয়। নিজেও কিছু করুন।’ এছাড়াও এদিন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে, ‘পরাজয়ের জন্য বিজেপি উত্তেজনামূলক মূলক কথা বলছে। প্রধানমন্ত্রী ডেলি প্যাসেঞ্জারি করছেন। আগামীকাল কালা দিবস পালন করা হবে।  ২০০-র বেশি আসনে জিতবে তৃণমূল’।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.