১৫-র পর ১৬ সেপ্টেম্বরেও মেলেনি অনুমতি! অভিষেকের পদযাত্রার ফের নয়া দিন ঘোষণা তৃণমূলের

১৫-র পর ১৬ সেপ্টেম্বরেও মেলেনি অনুমতি! অভিষেকের পদযাত্রার ফের নয়া দিন ঘোষণা তৃণমূলের
১৫-র পর ১৬ সেপ্টেম্বরেও মেলেনি অনুমতি! অভিষেকের পদযাত্রার ফের নয়া দিন ঘোষণা তৃণমূলের

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ চলতি মাসের ১৫ তারিখ ত্রিপুরার আগরতলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রা ছিল। সেই পদযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আগেই ত্রিপুরা পুলিশ।

এদিকে, ১৫ সেপ্টেম্বর পদযাত্রা বাতিল হওয়ার পর, পরের দিন ১৬ তারিখ কর্মসূচির দিন স্থির করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু ওইদিনও পদযাত্রার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় বিজেপিকে কটাক্ষ করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় টুইট করে বলেছেন, ‘ইয়ে ডর হামে আচ্ছা লগা!’ এই পরিস্থিতিতে এবার ফের একবার নয়া দিন ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার ২২ সেপ্টেম্বর আগরতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রা করতে চেয়ে ত্রিপুরা পুলিশ প্রশাসনকে চিঠি দিল এই রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, দুপুর ২ টোর সময় আগরতলায় পদযাত্রা করার কথা ছিল তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই পদযাত্রায় তৃণমূলের প্রথম সারির নেতাদের পাশাপাশি শিল্প, ক্রীড়া, সংস্কৃতি জগতের বহু মানুষ অংশ নেবেন বলেও জানানো হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। কিন্তু এই পদযাত্রার অনুমতি মেলেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ওই একই দিনে একই রুটে, একই সময়ে অন্য একটি দলের কর্মসূচি রয়েছে। তাই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ত্রিপুরা পুলিশের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারির সুরে এও বলা হয় যে, এই নির্দেশ অমান্য করলে, কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, কর্মসূচি হবে ১৬ সেপ্টেম্বর। কিন্তু সেই আবেদনও প্রত্যাখ্যান করেছে ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা পুলিশ। তাঁদের তরফ থেকে এর কারণ হিসেবে বলা হয় যে, ‘১৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পুজো। ফলে আইনশৃঙ্খলার কারণে অমুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।’

এ প্রসঙ্গে ত্রিপুরা পশ্চিমের এসপি মানিক দাস জানিয়েছেন, ১৭ তারিখ বিশ্বকর্মা পুজো। তবে, ১৬ তারিখ থেকেই ত্রিপুরায় পুজো শুরু হয়ে যায়। ধুমধাম করেই প্রায় প্রতিটা মোড়েই পুজো হয় এখানে। পুলিশকর্মী-সহ অনেকেই পুজোয় শামিল হন। ফলে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ মোতায়েন থাকে। তাই ১৬ তারিখ তৃণমূল কর্মসূচির পরিকল্পনা করলে নিরাপত্তার সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই কথা ভেবেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। বারবার এভাবে তৃণমূলের কর্মসূচি বাতিল হওয়ায়, রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এই ঘটনায় সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

এরপরই ত্রিপুরা পুলিশকে দুটি চিঠি টুইট করে বিপ্লব দেবের সরকারকে নিশানা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, ‘মৃত্যুভয় চেপে ধরেছে বিজেপিকে। সর্বশক্তি দিয়ে আমাকে ত্রিপুরায় ঢুকতে বাধা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিপ্লব দেব। চেষ্টা চালিয়ে যান, তবে আটকাতে পারবেন না। আপনার ভয় বলে দিচ্ছে প্রশাসনে থাকার মেয়াদ ফুরিয়ে এসেছে। সত্য প্রকাশ পাবেই।’ এরপরেই তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘ইয়ে ডর হামে আচ্ছা লগা!’

তৃণমূল সূত্রের খবর, এর একটা শেষ দেখতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। তার ইঙ্গিত দিয়ে দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ আগেই টুইটারে লিখেছেন, ‘এতটাই ভয় যে ১৫/৯ তারিখে ত্রিপুরার পদযাত্রায় হাস্যকর যুক্তিতে নিষেধ করার পর ১৬/৯ তারিখেও আপত্তি করল ভীত বিজেপির পুলিশ। প্রমাণিত, তৃণমূলই এখানে প্রধান প্রতিপক্ষ। তাদের নিয়েই বিজেপির মাথাব্যথা। এভাবে ঠেকানো যাবে না। পরবর্তী পদক্ষেপ তৃণমূল মঙ্গলবার জানাবে।’

এবার সেই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বরে ফের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রার দিন ঘোষণা করে ত্রিপুরা পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন এটাই দেখার যে, ত্রিপুরা সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।