শীতলকুচি কাণ্ডে বিতর্কিত মন্তব্য! দিলীপ ঘোষের প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে, কমিশনে চিঠি তৃণমূলের

শীতলকুচি কাণ্ডে বিতর্কিত মন্তব্য! দিলীপ ঘোষের প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে, কমিশনে চিঠি তৃণমূলের
শীতলকুচি কাণ্ডে বিতর্কিত মন্তব্য! দিলীপ ঘোষের প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে, কমিশনে চিঠি তৃণমূলের

বংনিউজ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ বিতর্কের আর এক নাম দিলীপ ঘোষ। এবার শীতলকুচি কাণ্ড নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে, দিলীপ ঘোষের প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে কমিশনকে চিঠি দিল তৃণমূল। এই চিঠিতে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।

রবিবার বরানগরের সভা থেকে শীতলকুচি কাণ্ড নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন যে, ‘বাড়াবাড়ি করলে এলাকায় এলাকায় শীতলকুচি হবে।’ বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যের বিরুদ্ধেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিল তৃণমূল। বিজেপির রাজ্য সভাপতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী দফাগুলির জন্য তাঁর নির্বাচনী প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার দাবিও জানানো হয়েছে চিঠিতে।

শনিবার কোচবিহারের শীতলকুচিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ঠিক তার পরের দিনই বরানগরের সভা থেকে উক্ত বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন যে, ‘বাড়াবাড়ি করলে শীতলকুচি দেখেছে কী হচ্ছে। জায়গায় জায়গায় শীতলকুচি হবে।’

দিলীপ ঘোষের প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে, তৃণমূলের কমিশনকে দেওয়া চিঠি

এই মন্তব্যের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বরা। অন্যদিকে, উত্তর দমদমের রবিবারের জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের কাছে দিলীপ ঘোষকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, বিজেপির রাজ্য সভাপতির এই ধরনের মন্তব্য সাধারণ ভোটারদের মনে ভয়ের সঞ্চার করবে। কমিশনকে দেওয়া চিঠিতেও এই কথার উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে লেখা হয়েছে যে, ‘দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে এটা পরিষ্কার যে, তিনি শীতলকুচির হিংসার ঘটনাকে সমর্থন করেন। পরবর্তী কয়েক দফার নির্বাচনে এমন হিংসার ঘটনা আবারও ঘটতে পারে, সেই ইঙ্গিতও তাঁর বক্তব্যে রয়েছে। এর পাশাপাশি সিএপিএফ (CAPF) যদি ভোটদান প্রক্রিয়ায় কোনও আইনবিরুদ্ধ কাজ করে, তাহলে প্রতিবাদও করতে পারবেন না সাধারণ মানুষ। আইনের শাসন যে মাটিতে আছে, সেখানে এমন ঘটনা ঘটতে পারে না।’

উল্লেখ্য, শুধুমাত্র বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষই নন, নাম না করে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপরও দায় চাপিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার শীতলকুচির ঘটনার পর, অমিত শাহকেই এর জন্য দায়ী করেছিলেন। এবার নির্বাচন কমিশনে পাঠানো চিঠিতেও সেই কথাকেই সমর্থন জানানো হয়েছে তৃণমূলের পক্ষ থেকে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘যিনি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপির একজন স্টার ক্যাম্পেনার সেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইন্ধনও রয়েছে এই ঘটনায়। দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিপন্থী। এই মন্তব্য সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করবে। তা ভোটদান প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে।’

আর সেই জন্যই দিলীপের বিরুদ্ধে কমিশনকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তার সঙ্গে পরের দফাগুলির নির্বাচনে, তিনি যাতে নির্বাচনী প্রচারে অংশগ্রহণ করতে না পারেন, সেই নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদনও জানানো হয়েছে।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.