তাঁর মাথার দাম ছিল ৫০ লক্ষ টাকা! অবশেষে সস্ত্রীক গ্রেফতার মাওবাদী শীর্ষ নেতা প্রশান্ত বসু

তাঁর মাথার দাম ছিল ৫০ লক্ষ টাকা! অবশেষে সস্ত্রীক গ্রেফতার মাওবাদী শীর্ষ নেতা প্রশান্ত বসু
তাঁর মাথার দাম ছিল ৫০ লক্ষ টাকা! অবশেষে সস্ত্রীক গ্রেফতার মাওবাদী শীর্ষ নেতা প্রশান্ত বসু

বংনিউজ ২৪x৭ ডিজিটাল ডেস্কঃ অবশেষে ঝাড়খণ্ড পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন মাওবাদী শীর্ষ নেতা প্রশান্ত বসু ওরফে কিষাণদা এবং তাঁর স্ত্রী শিলা মারান্ডি। শুক্রবার এমনই খবর পাওয়া গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। স্বাভাবিকভাবেই এই গ্রেফতারি মাওবাদী দমন অভিযানে বড়সড় সাফল্য বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। উল্লেখ্য, লালগড় আন্দোলনে যে ইস্টার্ন রিজিওনাল ব্যুরোর বড় ভুমিকা ছিল, তার সাম্প্রতিক নেতা ছিলেন এই কিষাণদা।

দীর্ঘদিন ধরেই অনেক রাজ্যের পুলিশ খুঁজছিল এই মাওবাদী শীর্ষ নেতাকে। শুধু তাই নয়, বেশ কিছুদিন ধরেই, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা-সহ একাধিক রাজ্য তাঁকে ধরার জন্য মোটা টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। তার বিরুদ্ধে ৫০ লক্ষ টাকার পুরষ্কার ঘোষণা করা হয় মহারাষ্ট্র এবং ছত্তীসগঢ়ে। অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ড পুলিশ তাঁর মাথার দাম হিসেবে ১ কোটি টাকার পুরষ্কার ঘোষণা করে।

জানা গিয়েছে, আত্মগোপন করে থাকা ডেরা থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করে প্রশান্ত বসুকে ঝাড়খণ্ড পুলিশের সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রবীণ এই মাওবাদী নেতা যাদবপুরের বাসিন্দা ছিলেন। পরে তিনি হায়দরাবাদে থাকতে শুরু করেন। অসাধারণ বাচনিক ক্ষমতার জেরে সহজেই তিনি যুবসমাজের মন জয় করে ফেলতেন। তাঁর প্রধান কাজ ছিল, যুব সমাজের মগজধোলাই করে ক্যাডারদের দলে নেওয়া। লালগড়েও একাধিকবার কিষাণজির সঙ্গে এসে বৈঠক করেছিলেন কিষানদা। CPI (M) অর্থাৎ সিপিআই (মাওবাদী)-এর পলিটব্যুরোর সদস্য ছিলেন তিনি।

প্রশান্ত বসু কোনও নির্দিষ্ট একটি জায়গায় থাকতেন না। তিনি দীর্ঘদিন নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এক সময়ে MCC-র সর্বভারতীয় সম্পাদক ছিলেন তিনি। ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বরে যখন PWG এবং MCC জুড়ে CPI(Maoist) তৈরি হয় তখন নতুন দলের রূপরেখা তৈরির ক্ষেত্রে বড় ভুমিকা রাখেন প্রশান্ত বসু। গণপতিকে সর্বভারতীয় নেতা করা হলেও, কিষাণদা ছিলেন সেই দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। তাঁকে পরবর্তীকালে ইস্টার্ন জোনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গ্রেফতার হওয়ার আগে পর্যন্ত মাওবাদীদের ইস্টার্ন রিজিওনাল ব্যুরোর দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী শিলা মারান্ডি নিজে কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রী। ১৫ বছর আগে শিলাও গ্রেফতার হন। সেই সময়ে তিনি ছয় বছর জেলে ছিলেন। উল্লেখ্য, অপর মাওবাদী নেত্রী অনুরাধার মৃত্যুর পরে এই মুহূর্তে একমাত্র মহিলা নেত্রী শিলা মারান্ডি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মাওবাদী নেতৃত্বে বদল ঘটার পরে তাদের ঝাড়খণ্ড অঞ্চলে কাজ বৃদ্ধি পেয়েছে বলেই খবর। এরপরে কিষাণদার গ্রেফতারির মাধ্যমে মাওবাদীদের বর্তমান অবস্থা, কে কোথায় কাজ করছে এবং আগামিদিনে তাদের পরিকল্পনা কী? সেই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে মনে করছে ঝাড়খণ্ড পুলিশ।