‘টুম্পা, তোকে নিয়ে ব্রিগেড যাব। চেনা ফ্ল্যাগে মাঠ সাজাবো’, টুম্পাই এখন বাম ব্রিগেডের প্রচারের ব্রহ্মাস্ত্র!

'টুম্পা, তোকে নিয়ে ব্রিগেড যাব। চেনা ফ্ল্যাগে মাঠ সাজাবো', টুম্পাই এখন বাম ব্রিগেডের প্রচারের ব্রহ্মাস্ত্র!
'টুম্পা, তোকে নিয়ে ব্রিগেড যাব। চেনা ফ্ল্যাগে মাঠ সাজাবো', টুম্পাই এখন বাম ব্রিগেডের প্রচারের ব্রহ্মাস্ত্র! / ছবি সৌজন্যে- Screengrab from Facebook Video Posted By @SurjyaKMishra

বংনিউজ২৪x৭ডিজিটাল ডেস্কঃ এখন একপ্রকার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তবু মাথা তুলে দাঁড়াবার একটা মরিয়া চেষ্টা। সব গোঁড়ামি ত্যাগ করে, নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাতে হবে। সামনেই যে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিজেপি, তৃণমূল মাঠে নেমে পড়েছে ইতিমধ্যেই। তাই বাম-ই বা পিছিয়ে থাকে কেন! কিন্তু প্রচারের জন্য এমন কিছু করা, যা নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে। শেষমেশ টুম্পাই সমস্যার সমাধান করল।

২৮ ফেব্রুয়ারি রয়েছে বামেদের বিগ্রেডের জনসভা। আর এই সভার প্রচারের অংশ হিসাবে জনপ্রিয় গান ‘টুম্পা’কে ব্যবহার করল বামেরা। এই গানের কথায় আক্রমণ করা হয়েছে মমতা এবং মোদী উভয়কেই। এছাড়াও এই গানে উঠে এসেছে ‘ভাইপো’ এবং নারদাকাণ্ড।

‘টূম্পা, তোকে নিয়ে ব্রিগেড যাব। চেনা ফ্ল্যাগে মাঠ সাজাবো।’ কথায় সামান্য অদলবদল করে, এখন এই টুম্পাই বামেদের ব্রিগেডের প্রচারের ব্রহ্মাস্ত্র হয়ে উঠেছে। বামেদের এই প্রচার-অস্ত্র এখন সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়েছে, আর মুহূর্তেই ভাইরাল। একেবারে সুপার-ডুপার হিট যাকে বলে।

এই মুহূর্তে টুম্পা সোনা বাংলার শহর, মফঃস্বল ছাপিয়ে পাড়ায়-পাড়ায়, অলিতেগলিতে তার মাধুর্য ছড়িয়ে যাচ্ছে। আর এই ভাসান গীতির প্যারোডিই এখন বামেদের প্রচারের প্রধান অস্ত্র। লিখেছেন রাহুল পাল এবং গেয়েছেন নীলব্জ নিয়োগী।

এদিকে এই গানটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পেতেই, অনেক বাম নেতা খানিক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মুহূর্তেই টান-টান ভুরুতে ভাঁজ স্পষ্ট হয়েছে। এমনিতেই ভোটের বাজারে বাংলার সংস্কৃতির আসল ধারক এবং বাহক কারা, তা নিয়ে রীতিমতো গোল বেঁধেছে। আর এবার বামেদের এই টুম্পার দ্বারস্থ হওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বাংলার সংস্কৃতি কি তবে একেবারেই রসাতলে গেল?

রক্ষণশীল বামেদের প্রচারের জন্য কিনা এমন চটুল গানের আশ্রয় নিতে হচ্ছে! এটা ঠিক অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না। তবে বাম নেতাদের মতে, পুরনো হাতিয়ার এখন বর্তমান সময়ে আর ব্যবহারযোগ্য নয়। ভোঁতা হয়েছে, ওসব দিয়ে আর নতুন প্রজন্মকে কাত করা যাবে না, তাঁদের কাছে পৌঁছানো যাবে না। তাই রক্ষণশীলতার ধামা ধরে আর বসে থাকা নয়। নতুন প্রজন্মের যা ভাল লাগবে, তাই করতে হবে। তাই অগত্যা ‘টুম্পা’ই অগত্যার গতি।

তাই নীতি থাকুক তার জায়গায়, আদর্শ থাকুক তার জায়গায়। আর নির্বাচনী প্রচার লড়াই তার জায়গায়। তাছাড়া টুম্পা সোনা সব শ্রেণির ফোনেই নিজের জায়গা করে নিয়েছ। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের কাছেও। তাই টুম্পাতেই বাজি মাত করতে চাইছে বামেরা।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন.